Disqus for digitalmesh

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত হালাল রুজি

দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত হালাল রুজি। হারাম পথে অর্জিত উপার্জনের রুজি পরিহার করতে হবে। অথচ আমরা তা কতটুকু করছি। উপার্জনের যেন কোন বালাই নেই। নেই বিচার বিবেচনা। দুনিয়ার সমৃদ্ধির জন্য হারাম পথে উপার্জন করা হচ্ছে। এই অবৈধ উপার্জন নিয়ে অহঙ্কারের শেষ নেই। কে কতটা হারাম পথে উপার্জন করলো তা নিয়ে আলোচানার শেষ নেই। অবশ্য হাদিসে বলা হয়েছে- মানুষের নিকট এমন এক জমানা আসবে যখন তারা হালাল-হারাম বাছবিচার না করে উপার্জন করবে। (বুখারী শরীফ)। না জানি সে জমানা চলে এসেছে কিনা?

আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন- হে মানবজাতি। পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা হতে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্যে শত্রু (সূরা বাকারা, আয়াত ১৬৮)। পবিত্র খাদ্যবস্তু মানে হালার খাবার। সৎভাবে উপার্জিত অর্থের কেনা খাবার। পবিত্র বস্তু আহার এবং আল্লাহপাকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। হে ঈমানদারগণ, তোমাদিগকে আমি যেসব পবিত্র বস্তু দিয়েছি তা হতে আহার কর এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদত কর (সূরা বাকারা, আয়াত ১৭২)। 

শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত আদায়ই ইবাদত নয়। বরং আল্লাহ ও রাসূল (সা.) নির্দেশিত পথে জীবনযাপন করলে পুরো জীবনটাই ইবাদত বলে গণ্য হবে। ইসলাম পরিশ্রম করাকে গুরত্ব দেয়। পরিশ্রম করে হালাল উপার্জন করতে হবে। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন- নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে (হালাল উপার্জনের জন্য) ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমআ, আয়াত ১০)। 
নামাজের পরই আল্লাহতায়ালা হালাল রুজির সন্ধানে বের হবার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মানে আবার এটা নয়। রুজির সন্ধানে এমনই ব্যস্ত হলেন। নামাজই পড়া হল না। রাসূল (সা.) সৎভাবে উপার্জন করেছেন। তিনি পরিশ্রম করতেন। যখন রাসূল (সা.) হযরত খাদিজা (রা.)-কে বিবাহ করলেন। তখন কিন্তু তার প্রচুর ধন-দৌলত ছিল। তারপরেও তিনি বসে থাকেনি। ব্যবসার জন্য সময় দিয়েছেন। তার হালাল উপার্জন মানুষকে অকাতরে দান করেছেন। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, সৎভাবে জীবিকা অর্জন করা অন্যতম ফরজ। (বায়হাকি)। রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং হালাল জীবিকা অন্বেষণে সর্বাত্মক চেষ্টা কর। ইহা পাইতে বিলম্ব হলে আল্লাহর অবাধ্য হইও না। (বায়হাকি)। 

রাসূল (সা.) আরো বলেছেন- আল্লাহ পবিত্র এবং তার কাছে পবিত্র জিনিসই গ্রহণযোগ্য। হাদিসে আছে, কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে ৫টি প্রশ্ন করা হবে। তার মধ্যে দুটি প্রশ্ন হলোÑ কি উপায়ে অর্থ সঞ্চয় করেছিলে এবং আর কীভাবে তা ব্যয় করেছিলে? হারাম পথে অর্জিত অর্থের খাবার খেলে ইবাদত কবুল তো হবেই না বরং হাদিসে আছে, দেহের যে অংশ হারাম মাল দ্বারা পালিত হয়েছে তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম পথের উপার্জন জাহান্নামে যাবার পথকে সহজ করে দিবে। 

রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে বান্দা হারাম সম্পদ উপার্জন করে, যদিও সে সদকা করে তা কবুল হবে না। আর যদি ব্যয় করে তবে তাতেও কোনো বরকত হবে না। আর যদি রেখে মারা যায় তা জাহান্নামে যাওয়ার পাথেয় হবে। আল্লাহতায়ালা মন্দ (কাজ) দ্বারা মন্দকে মিটিয়ে দেন না, হ্যাঁ ভালো কাজ দ্বারা মন্দকে মিটিয়ে দেন, নিঃসন্দেহে নাপাকীকে নাপাকী দূরীভূত করতে পারে না। (মুসনাদে ইমাম আহমদ হাম্বল পৃষ্ঠা-৩৬৭২)


তাই হারাম-হালাল বুঝে আমাদের উপার্জন করা দরকার। যদি না আমরা জান্নাতের প্রত্যাশা করি। আল্লাহ এবং রাসূল (সা.)-কে ভালোবেসে থাকি।

জেনে রাখুন কুকুর কামড়ালে যা কিছু করণীয়!

কুকুরে কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগ হয়। জলাতঙ্ক রোগকে হাইড্রোফোবিয়া, লাইসা এবং পাগলা রোগও বলা হয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু নিশ্চিত! বিভিন্ন প্রাণির কামড়ে এই রোগ হলেও আমাদের দেশে সচরাচর কুকুর ও বিড়ালের মাধ্যমে এই রোগ হয়।

সাধারণত রোগটি জলাতঙ্ক ভাইরাস সংক্রমিত প্রাণির লালার মাধ্যমে ছড়ায়। তাই কুকুরে কামড়ালে আমাদের করণীয় কি তা জানা আবশ্যক। চলুন জানা যাক:

ক্ষতস্থানে পরিষ্কার পানি ঢালুন: কুকুরে কামড়ালে ক্ষতস্থানটিতে দ্রুত গতিতে পরিষ্কার পানি ঢালুন। ক্ষারীয় সাবান (কাঁপড় ধোয়ার সাবান) দিয়ে পরিষ্কার করুন। এতে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণ কমবে।

রক্ত ঝরলে: ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরলে চেপে ক্ষতস্থানের রক্ত বের করে দিতে পারেন। তারপর দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিবেন।

জীবাণুরোধী ক্রিম ব্যবহার: জীবাণুরোধী বা এন্টিবায়োটিক ক্রিম লাগান। এতে জীবাণুর সংক্রমণ কম হবে।
ব্যাণ্ডেজ লাগান: এন্টিবায়োটিক ক্রিম ব্যবহারের পর প্রয়োজনবোধে ব্যাণ্ডেজ ব্যবহার করতে পারেন।

ডাক্তার: ডাক্তারের কাছে যান। দ্রুত টিটেনাসের টিকা দেয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। পাশাপাশি অবশ্যই জলাতঙ্কের টিকা নিবেন।

কুকুরে কামড়ালে আমরা অনেকে ওঝার কাছ থেকে গুঁড় বা মিঠাই পড়া নেই। অনেকের মুখে শুনেও থাকবেন যে ওঝার গুঁড় পড়া নিয়ে সুস্থ হয়েছেন! আসলে সকল কুকুর, বিড়াল বা প্রাণির লালায় জলাতঙ্ক ভাইরাস থাকে না। আবার যখন কুকুর কামড় দিয়েছে তখন হয়ত ভাইরাস আপনার ক্ষতস্থানে যায়নি বা লালা লাগেনি। এসবক্ষেত্রে ওঝার কাছে না গেলেও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হতেন না।

মনে রাখবেন, জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে মৃত্যু নিশ্চিত। তাই অবশ্যই ডাক্তারের কাছে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শমত টিকা নিবেন।

ত্বক উজ্জ্বল করতে অসাধারণ সব ফলের ফেসপ্যাক!

খাদ্য হিসেবে ফলের জুড়ি নেই। ফলের রস, শাঁস সবকিছুতেই রয়েছে পুষ্টি। ত্বকের যত্নেও ফলের ব্যবহার রয়েছে। আসুন আজকে এমন কিছু ফেসপ্যাক সম্পর্কে জেনে নেই।

পেপের ফেসপ্যাক: পেঁপের কয়েকটা টুকরো পেস্ট করে নিন। মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট মতো রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।এটি ত্বকে থাকা ব্রণের কালো দাগ দূর করবে। সপ্তাহে ২ দিন করে কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করলেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এই প্যাকটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেশি উপকারি।

শশার ফেসপ্যাক: ২ টেবিল চামচ শশার রস,২ টেবিল চামচ দুধ ও ৩-৪ ফোঁটা গোলাপের পাপড়ির রস মিশিয়ে নিন। এটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক স্থায়ী ভাবে ফর্সা করবে। তাছাড়া শশার রস রোদে পোড়া ভাব দূর করবে।

টমেটোর ফেসপ্যাক: ১ টেবিল চামচ টমেটোর রস, ১/২ চা চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল ভাল করে মিশিয়ে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
আপেলের ফেসপ্যাক: ১ টেবিল চামচ আপেলের রস,১/৪ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।এটি ত্বক উজ্জল করার সাথে সাথে ত্বকে ব্রণের সমস্যা দূর করবে। এটি সব ধরণের ত্বকের জন্য বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অনেক উপকারি।

গাজরের ফেসপ্যাক: ২ টেবিল চামচ গাজরের রস ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

স্ট্রবেরির ফেসপ্যাক: ২-৩ টি স্ট্রোবেরি পেস্ট করে মুখে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক শুধু ফর্সা করবে না সেই সাথে ত্বক গভির থেকে পরিষ্কার করবে।

কলার ফেসপ্যাক: ১ টি কলা পেস্ট করে এর সাথে ১/২ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। ত্বকের লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক ফর্সা করবে ও ত্বকের কালো দাগ দূর করবে। যে কোন ধরনের কালো দাগ দূর করতে কলার তুলনা অপরিহার্য। তাছাড়া মধুও খুব ভাল ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে।

৮।কমলার ফেসপ্যাক: ২ টি আমন্ড বাদাম,১ টেবিল চামচ কাঁচা টাটকা দুধ,১ টেবিল চামচ গাজর রস,১ টেবিল চামচ কমলার রস মিশিয়ে মুখে,গলায়,ঘাড়ে,হাতে ও পায়ে লাগান। গোসলের ১ ঘন্টা আগে লাগিয়ে রাখুন।এবার ভাল করে ধুয়ে গোসল করে ফেলুন।

শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

সামান্য এই বিষয়গুলো জানলে স্ট্রোক হলেও জীবন বাঁচানো যায়

স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের যদি সময়মতো হাসপাতালে না নিয়ে যাওয়া হয় তবে তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিন্তু যদি বাড়িতে এমন রোগী থাকে সে ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া টোটকা মনে রাখা উপকারি হতে পারে। যদি ঠিক মতো তা প্রয়োগ করতে পারেন তবে রোগীর প্রাণ হানির আশঙ্কা অনেকাংশে কমানো যেতে পারে। এই পদ্ধতি চিনের আকুপাঙ্কচার চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী করা হয়ে থাকে।

চিনের অধ্যাপকদের মতে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে রোগী হয় প্রাণে বেঁচেছেন না হয় চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত সময় পয়েছেন। দেখে নিন ঘরে কী ভাবে এই রোগের মোকাবিলা করা যেতে পারে।

যদি দেখেন রোগী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হচ্ছেন বা হতে পারেন তৎক্ষণাৎ ইঞ্জেকশনের সুঁচ বা সাধারণ সেলাই করার সুঁচ নিয়ে তার সামনের দিকটি আগুনে পুড়িয়ে নিন। এতে সুঁচ জীবাণুমুক্ত হবে। এর পর সেটি নিয়ে হাতের ১০টি আঙুলের ডগার নরম অংশে সামান্য ফুটিয় দিন। এর ফলে যেন রক্তপাত হয় তার দিকে খয়াল রাখতে হবে। এর জন্য আলাদা করে কোনও ডাক্তারি জ্ঞান থাকা আবশ্যক নয়। মিনিট খানেক অপেক্ষা করে দেখুন রোগী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছেন কী না।
যদি এর পরেও দেখেন তাঁর মুখ বেঁকে যাচ্ছে তা হলে তাঁর দুই কানে ভালো করে মাসাজ করুন। এমন ভাবে করুন যাতে কান লাল হয়ে যায়। এর অর্থ, কানে রক্ত পৌছচ্ছে। এ বার কানের নরম অংশে সুঁচ দিয়ে সামান্য ক্ষত করুন যাতে দুই কান থেকে ২-১ ফোঁটা রক্ত ক্ষরণ হয়। এর ফলে রোগী সামান্য আরাম পাবেন। একটু স্বাভাবিক হলেই তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যান। মনে রাখবেন, এই পদ্ধতি শুধুমাত্র দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায়। যাতে রোগীর চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়।

রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে এই ৭টি খাবার

প্লাটিলেট রক্তের এক ধরণের ক্ষুদ্র কণিকা যা আঘাত থেকে প্রাপ্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। প্লাটিলেট কোষ রক্তে অনেকটা প্লেটের মত থাকে। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তে সাধারণত ১,৫০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ পর্যন্ত প্লাটিলেট থাকে। রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যাওয়াকে thrombocytopenia বলে।

সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর হলে এই অণুচক্রিকা অথবা প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যেতে পারে। রক্তে প্লাটিলেটের লেভেল কমে গেলে শরীরের খুব বেশি ক্ষতি সাধারণত হয় না। তবে প্লাটিলেটে কমে যাওয়ার সাথে সাথে নাক, দাঁত অথবা দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তপাত শুরু হলে সেটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রধান এবং অন্যতম লক্ষণ হল রক্তপাত।
প্লাটিলেট কমে যাওয়া অবস্থা।
  • প্লাটিলেটের পরিমাণ রক্তপাতের পরিমাণ
  • ১০,০০০ কোন অস্বাভাবিক রক্তপাত নয়।
  • ৫০,০০০-১,০০,০০০ আঘাতে অধিক রক্তপাত হয় সাধারণের তুলনায়।
  • ২০,০০০-৫০,০০০ ছোট আঘাতেও অধিক রক্তপাত
  • ২০,০০০ আঘাত অথবা আঘাত ছাড়া রক্তপাত
কিছু খাবারের মাধ্যমে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

১. ডালিমঃ ডালিম রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন রয়েছে যা প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১৫০ মিলিলিটার ডালিমের জুস দুই সপ্তাহ পান করুন। ডালিমের রসের ভিটামিন দূর্বলতা দূর করে কাজে শক্তি দেবে।

২. পেঁপেঃ পেঁপে অল্প কিছুদিনের মধ্যে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ২০০৯ সালে Asian Institute of Science and Technology in Malaysia এক গবেষণায় দেখেছে যে, পেঁপের পাতার রস রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করে যা ডেঙ্গু জ্বরের কারণে কমে থাকে। পাকা পেঁপের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এটি প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার পান করুন।

৩. দুধঃ দুধের ক্যালসিয়াম রক্তে প্লাটিলেট গঠনে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে রক্তে প্লাটিলেট তৈরির গতি ধীরে হয়ে যায়। দুধের পাশাপাশি টকদই, চিজ, দুধের তৈরি খাবার খাওয়া উচিত।
৪. পালংঃ শাক পালং শাক ভিটামিন কে এর অন্যতম উৎস। রক্তজমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। চার-পাঁচটি পালং শাকের পাতা দুই কাপ পানিতে কয়েক মিনিট সিদ্ধ করে নিন। ঠান্ডা হলে আধা গ্লাস টমেটোর রসের সাথে মিশিয়ে পান করুন। এটি দিনে তিনবার পান করুন। সালাদ অথবা রান্না করেও খেতে পারেন পালং শাক।

৫. বিটঃ প্রতিদিন এক টেবিল চামচ বিটের রস পান করুন। এটি দিনে তিনবার পান করুন। এছাড়া তিন টেবিল চামচ বিটের রস এক গ্লাস গাজরের রসের সাথে মিশিয়ে পান করুন। দিনে দুইবার পান করুন এটি। বিট রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

৬. কলিজাঃ কলিজা রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। যেকোন মাংসের কলিজা ভালভাবে রান্না করে খান। এটি রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন রাখে। এমনকি কর্ড লিভার অয়েল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৭. ভিটামিন সিঃ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চাইলে ভিটামিন সি জাতীয় খাবারের খাওয়া বৃদ্ধি করতে হবে। ১৯৯০ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। আমাদের শরীর প্রতিদিন ৪০০ থেকে ২০০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এর প্রয়োজন পড়ে প্রতিদিন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় টমেটো, কমলা, কিউয়ি, ব্রকলি ক্যাপসিকাম জাতীয় ভিটামিন সি খাবার রাখুন।

আমেরিকাকে চীনের হুঁশিয়ারি

চীন পূর্ব এশিয়াকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে আজ (শনিবার) আমেরিকার প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে টোকিওকে সমর্থন দেয়া হবে বলে মার্কিন নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করল চীন।

জাপানের সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ সংকট টোকিও-ওয়াশিংটন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় পড়ে বলে ম্যাটিস ঘোষণা দিয়েছেন। জাপানে দুই দিনের সরকারি সফরের সময়ে এ কথা বলেছেন তিনি। তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং।

বিরোধপূর্ণ এ দ্বীপপুঞ্জকে দিয়াইউ নামে অভিহিত করে থাকে চীন। লু বলেন, দিয়াইউসহ আশেপাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপগুলো প্রাচীন আমল থেকেই ঐতিহ্যগত ভাবে চীনা ভূখণ্ডের অংশ। এটি অপরিবর্তনীয় ঐতিহাসিক সত্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আমেরিকাকে ভুল মন্তব্য থেকে বিরত থাকার এবং দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পরিস্থিতিকে আরো জটিল করা এবং এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে আমেরিকার বিরত থাকা উচিত।

এ ছাড়া, আমেরিকা-জাপান চুক্তি সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। একে শীতল যুদ্ধের সময়ের চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীনের ভৌগলিক সার্বভৌমত্বের ওপর এর কোনো প্রভাবই নেই।

বিরক্তিকর পিঁপড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে যেভাবে!

রান্নাঘর থেকে শুরু করে বেডরুম, ডাইনিং টেবিল থেকে শুরু করে স্টোররুম সবখানেই রয়েছে পিঁপড়ার অস্তিত্ব। বিরক্তিকর পিঁপড়ার যন্ত্রণা কারই বা ভালো লাগে! এটা সেটা কত কিছুই তো করি আমরা পিঁপড়া তাড়াতে। কিন্তু পিঁপড়ার অত্যাচার থেকে মুক্তি আর মিলে না।

তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক পিঁপড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কি করবেন আপনি।

নিজেকে হতে হবে সচেতন:
  • মিষ্টি খাবার এমনভাবে রাখবেন যাতে পিঁপড়া নাগাল না পায়।
  • জ্যাম, জেলি, চিনি এসব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখবেন না।
  • খাবার খাওয়ার পর অবশিষ্ট খাবার হয় ফ্রিজে বা ভাল, শক্ত আটা বোতল বা টিনে তুলে রাখুন।
  • রান্নাঘরে ফাটল থাকলে তাতে ফিনাইল দিবেন। গ্যামাক্সিন ছড়িয়ে দিলেও উপকার পাবেন।
  • মিটসেফের চার পায়ের তলায় পানি ভরা স্ট্যান্ড দিলে পিঁপড়া খাবার দাবড়ে উঠবে না।
  • খাবার সব সময় ঢেকে রাখবেন।
ঘরে থাকা জিনিস ব্যবহারে পাবেন মুক্তি:
ঘরে থাকা বিভিন্ন জিনিস ই হতে পারে পিঁপড়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার হাতিয়ার। হাতের কাছে থাকা এই জিনিসগুলো ব্যবহার করে পিঁপড়ার যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবেন আপনি।
  • তেজপাতার ব্যবহার: রান্নাঘরের তাক পরিষ্কার করে তাকে কয়েকটা তেজপাতা দিয়ে রাখুন। পিঁপড়া তেজপাতা পছন্দ করেনা।
  • লবনের ব্যবহার: গরম পানি আর লবন ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার দ্রবণটিকে স্প্রে বোতলে ভরে, যেখানে পিঁপড়ার আনাগোনা সেখানে ছিটিয়ে দিন। পিঁপড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।
  • রসুন বা দারুচিনির ব্যবহার: রসুন আর দারুচিনি কিন্তু পিঁপড়ার অপছন্দের জিনিস। তাই এদিক ওদিকে কয়েক কোষ রসুন আর কয়েক টুকরা দারুচিনি ছিটিয়ে রাখুন।
  • ভিনেগার ব্যবহার: ভিনেগার, গোলমরিচ, লেবুর রস এগুলোও পিঁপড়া সহ্য করতে পারেন। পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করে মুক্তি পেতে পারেন পিঁপড়ার যন্ত্রনা থেকে।
  • শশার ব্যবহার: শশার স্বাদ আপনার ভালো লাগলেও পিঁপড়ার কিন্তু একদম ভালো লাগেনা। যে পথ দিয়ে পিঁপড়ার দল আসা যাওয়া করে সে পথে কয়েক টুকরো শশা স্লাইস করে রেখে দিন। পিঁপড়া বিরক্ত হয়ে পালাবে।
  • কর্ণফ্লাওয়ার ব্যবহার: পিঁপড়া কর্ণফ্লাওয়ার হজম করতে পারে না। পিঁপড়ার উপরে কর্ণফ্লাওয়ার খানিকটা ছিটিয়ে দিলে পিঁপড়া খাবে ঠিকই কিন্তু হজম করতে পারবে না। এতে করেও রেহাই পাবেন যন্ত্রণা থেকে।
আশা করা যায় এই সহজ পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে আপনি পিঁপড়ার যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবেন।

চোখ, হার্ট, কিডনি, সুস্থ রাখবে টোমেটো

শীতকালে টোমেটো খেতে কে না ভালবাসে। সারা বছর টোমেটোর সুস্বাদু সালাড, বা স্যান্ডউইচে টোমেটোও বেশ উপাদেয়। তবে শুধু খেতে ভাল তা নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী টমেটো। এমনকী, রূপচর্চার জন্য টমেটোর তুলনা নেই। জেনে টমেটোর কিছু গুণ।

চোখঃ টোমেটোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ। তাই টোমেটো চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে টোমেটো। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখে টমেটো। ছানি পড়ার রুখতেও টমেটো কার্যকর।

ডায়াবেটিসঃ টোমেটোর মধ্য প্রচুর পরিমাণে ক্রোমিয়াম রয়েছে। এই ক্রোমিয়াম রক্তে শর্করার মাত্রা আয়ত্তে রাখে। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। পড়–ন ডায়াবেটিস থেকে ক্যানসার, খেয়াল রাখবে পেয়ারা

হার্টঃ টোমেটোর মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে প্রতি দিনের ডায়েটে টোমেটো থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

কিডনিঃ ডায়েটে টোমেটোর বীজ থাকলে কিডনি স্টোন হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ত্বকঃ টোমেটোর মধ্যে থাকে লাইকোপেন। তাই টোমেটো খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। টোমেটো টুকরো টুকরো করে কেটে মুখের উপর ১০ মিনিট রাখন। জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক ঝকঝকে লাগবে। টোমেটোর ফেস প্যাকও ত্বকের জন্য ভাল।

চুলঃ টোমেটোর ভিটামিন এ চোখের পাশাপাশি চুল, নখ ও দাঁতও ভাল রাখে।
হাড়ঃ হাড় সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে। এই দুটোই টোমেটোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। ফলে টোমেটো খেলে হাড় সুস্থা থাকে।

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টঃ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন শরীরে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের মাত্রা বাড়ায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

ধুমপানঃ ধুমপানের জন্য শরীরের যে ক্ষতি হয় টোমেটোর মধ্যে থাকা কোমেরিক ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে।

ক্যানসারঃ টোমেটোর লাইকোপেন খুব ভাল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এই লাইকোপেন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রুখতে পারে। তাই রোজ টোমেটোর স্যুপ খেলে প্রস্টেট, কোলোরেকটাল ও পেটের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

এবার যুক্তরাস্ট্রের বিরুদ্ধে পালটা ব্যবস্থার ঘোষণা ইরানের

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে ইরান। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের ১৩ জন ব্যক্তি ও এক ডজন কোম্পানির বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত রবিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর শুক্রবার এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা আসে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবনার লঙ্ঘন। আর ইরান বলছে, নতুন এ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পরমাণু কর্মসূচি কমানো নিয়ে জাতিসংঘ সমর্থিত চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সম্প্রতি মুসলিম প্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যযুক্তরাস্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞা রাখা সাতটি দেশের মধ্যে নতুন করে ইরানের ওপর আরও কিছু বাড়তি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসাথে ইরানের সমালোচনা করে সতর্ক করেছে সৌদিও।
এদিকে যুক্তরাস্ট্রের সাথে অনেকটা সঙ্গতি রেখেই সৌদি আরবের একজন সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল আহমেদ আল আসিরি শুক্রবার বলেছেন, ওই অঞ্চলে ইরানের আচরণ পরিবর্তনের এটাই সময়। তিনি আরও বলেন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন বিষয়ে ইরানের নাক গলানো বন্ধ করতে হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন নিষেধাজ্ঞা আর সৌদি আরবের দেয়া সতর্কতার ত্রিমুখী চাপের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের এসব নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে ইরান বলেছে, একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তির অপ্রয়োজনীয় হুমকির কাছে তারা কোনভাবেই নতি স্বীকার করবে না।

জবাবে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ‘ আগামী কুস্তি বিশ্বকাপে কোনো মার্কিনি ঢুকতে পারবে না ইরানে ‘।

শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ইসলাম গ্রহণের পর এবার মদ নিষিদ্ধ করলেন নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি

 নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মেন্ডলা ম্যান্ডেলা ২০১৬ সালে ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর এবার তার খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রামে এলকোহল ও মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন। তবে, তার এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার মদ বিক্রেতা ও ক্রেতারা। মেন্ডলা ম্যান্ডেলা (৪২) তার এমভেজো গ্রামের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৭ সালে পিতামহ নেলসন ম্যান্ডেলা কর্তৃক তাকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। 

গত বছরের গোড়ার দিকে তিনি রাবিয়া ক্লার্ক নামে এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করেন এবং তাকে বিয়ের দুই মাস পূর্বে তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।  এলকোহল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ক্ষোভের মুখে মেন্ডলা ম্যান্ডেলা দাবি করেছেন, তার এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।

গত বছরমেন্ডলা জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ট্রাকযোগে এমভেজো গ্রামের মদের দোকানগুলোতে এলকোহল পরিবহন নিষিদ্ধ করতে চান। এমভেজো গ্রামে ‘জোসা’ উপজাতিরা বসবাস করেন। তাদের অধিকাংশই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। 

মেন্ডলা জানান, তার গ্রামে সব ধরনের এলকোহলের ডেলিভারি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও, সেখানকার সরাইখানাগুলোর মদের লাইসেন্স রয়েছে এবং বৈধভাবেই তারা মদ বিক্রি করে আসছে।

এলকোহল ডেলিভারি এবং মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করায় সরাইখানার মালিকরা মেন্ডলার ওপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ। ডোডু নামে একজন সরাই মালিক বলেন, ‘আমরা জানি, যদিও তিনি মদ পান করে না। কিন্তু তিনি তার প্রাসাদে অতিথিদের জন্য এলকোহল রাখেন। তাই তার এ সিদ্ধান্তে আমি অত্যন্ত বিস্মিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘তিনি যদি এতো এলকোহল বিরোধী হন, তবে তিনি তার বাড়িতে এটা রাখতে পারবেন না। একটি পুরো মাসের জন্য ট্রাকগুলো আমাদের মাল ডেলিভারি বন্ধ করে দিয়েছে।’

টাইমস জানায়, মেন্ডলার আইনজীবী জানিয়েছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে তার পরিবর্তিত ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। এলাকার পরিবারগুলোর উপর এলকোহলের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কারণেই এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসলামে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, বিশেষকরে এলকোহল গ্রহণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন মজীদের বেশ কয়েকটি পৃথক আয়াতের মাধ্যমে এটি নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছে।
মেন্ডলা জানান, এইডসের কারণে ২০০৫ সালে তার পিতা মারা যান। তাকে পূর্বে এলকোহলের বিপদ সম্পর্কে অনেকবার সতর্ক করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবার মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে তার অতিমাত্রায় এলকোহল গ্রহণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘মারা যাবার পূর্বে তিনি আমাকে এবং আমার অনুজ এনদাবাকে বলেগিয়েছেন যে, এলকোহল অত্যন্ত খারাপ জিনিস এবং আমরা যেন কখনোই এলকোহল পান না করি।’

মেন্ডলা ম্যান্ডেলা ২০০৫ ‘তানদো মাবুনা’কে তার প্রথম স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে মেন্ডলাকে ‘বন্ধ্যা’ অভিযোগ দিয়ে ওই নারী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।

তারপর ২০১০ সালে তিনি ফরাসি নাগরিক ‘অ্যানিস গ্রিমউড’কে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। ২০১১ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন কিন্তু এক বছর পরে মেন্ডলা ওই সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে, শিশুটি তার ভাইয়ের ঔরসজাত।

২০১১ সালে বড়দিনের আগের দিন তিনি তার তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে ‘এমবালি মাকায়তিনি’কে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি তার চতুর্থ স্ত্রীকে বিয়ের দুই মাস পূর্বে তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ঘি না মাখন, আমাদের শরীরের জন্য কোনটা বেশি স্বাস্থ্যকর?

সাদা সরু চালের গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত। ভুর ভুর করে গন্ধ ওঠা ঘি। সঙ্গে আলুসেদ্ধ বা মাছভাজা। চোখ, নাক, জিভ-সবেরই রসনাতৃপ্তি। বাড়িতে ঘি না থাকলে অনেকে আবার কাজ সারেন মাখনেই। গরম গরম মাখন ভাত। সেটাও অমৃত। কিন্তু, আমাদের শরীরের জন্য স্বাদের পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে স্বাস্থ্যটাও। ঘি না মাখন, আমাদের শরীরের জন্য কোনটা বেশি স্বাস্থ্যকর? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ঘি হল আনপ্রসেসড ফ্যাট। ঘিয়ে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন A। মাখনে ভিটামিন A থাকে না। প্রতি ১০০ গ্রাম মাখন থেকে পাওয়া যায় ৭১৭ কিলোক্যালোরি শক্তি। সঙ্গে ৫১ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ৩ গ্রাম ট্রান্স ফ্যাট। অন্যদিকে ১০০ গ্রাম ঘি থেকে পাওয়া যায় ৯০০ কিলোক্যালোরি শক্তি। ঘিয়ে ৬০ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকলেও কোনও ট্রান্স ফ্যাট থাকে না।
তুলনা করলে দেখা যায়, মাখনের থেকে সামান্য বেশি হলেও ঘিয়ের উপকারিতা বেশি। ঘি বেশি স্বাস্থ্যকর।

৮টি কঠিন রোগ থেকে মুক্তি দিবে ইসবগুলের ভুষি

ইসুবগুলের ভুষি মানব দেহের জন্য অনেক উপকারি। ইসুবগুলের ভুষি যে সব রোগের দূরীকরণে সাহায্য করে তার মধ্যে আছে: কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে, ডায়রিয়া প্রতিরোধে, অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে, ওজন কমাতে, হজমক্রিয়ার উন্নতিতে, হৃদস্বাস্থ্যের সুস্থতায়, হৃদস্বাস্থ্যের সুস্থতায়, পাইলস প্রতিরোধে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

ইসবগুল বা psyllium husk বাংলাদেশ, ভারত সহ অনেক দেশেই এটি বেশ পরিচিত।এটি আভ্যন্তরীণ পাচন তন্ত্রের সমস্যার ঘরোয়া চিকিৎসা ও প্রতিকারের জন্য বেশ উপকারী।তবে এই সাদা ভুষিটির উপকারিতা শুধুমাত্র হজমতন্ত্রের মাঝেই সীমিত নয়। এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। চলুন তাহলে একে একে জেনে নিই ইসবগুলের উপকারিতা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণেঃ ইসবগুলে থাকে কিছু অদ্রবণীয় ও দ্রবণীয় খাদ্যআঁশের চমৎকার সংমিশ্রণ যা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য খুব ভালো ঘরোয়া উপায় হিসেবে কাজ করে।এটি পাকস্থলীতে গিয়ে ফুলে ভেতরের সব বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিকভাবে জলগ্রাহী হওয়ার কারনে পরিপাকতন্ত্র থেকে পানি গ্রহণ করে মলের ঘনত্বকে বাড়িয়ে দিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ২ চামচ ইসবগুল এক গ্লাস কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে পান করে নিন।

ডায়রিয়া প্রতিরোধেঃ যদিও শুনলে অবাক লাগে, ইসবগুল একই সাথে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দুটিই প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ইসবগুল দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।কারন দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক পাকস্থলীর ইনফেকশন সারায় এবং ইসবগুল তরল মলকে শক্ত করতে সাহায্য করে খুব কম সময়ের মাঝে ডায়রিয়া ভালো করতে পারে।
ডায়রিয়া প্রতিরোধে ২ চামচ ইসবগুল ৩ চামচ টাটকা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবার পর খেতে হবে। এভাবে দিনে ২ বার খেলে বেশ কার্যকরী ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

অ্যাসিডিটি প্রতিরোধেঃ বেশির ভাগ মানুষেরই অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে আর ইসবগুল হতে পারে এই অবস্থার ঘরোয়া প্রতিকার।ইসগুল খেলে তা পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে একটা প্রতিরক্ষা মূলক স্তর তৈরি করে যা অ্যাসিডিটির বার্ন থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে। এছাড়া এটি সঠিক হজমের জন্য এবং পাকস্থলীর বিভিন্ন এসিড নিঃসরণে সাহায্য করে।

ইসবগুল অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত হওয়ার সময়টা কমিয়ে আনে। প্রতিবার খাবার পর ২ চামচ ইসবগুল আধা গ্লাস ঠাণ্ডা দুধে মিশিয়ে পান করুন। এটি পাকস্থলীতে অত্যাধিক এসিড উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে অ্যাসিডিটির মাত্রা কমায়

ওজন কমাতেঃ ওজন কমানোর উদ্দেশ্যকে সফল করতে ইসবগুল হচ্ছে উত্তম হাতিয়ার। এটি খেলে বেশ লম্বা সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় এবং ফ্যাটি খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে কমায়। এছাড়াও ইসবগুল কোলন পরিষ্কারক হিসেবেও পরিচিত।এটি পাকস্থলী থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়াকে আরো বেশি কার্যকর করে স্বাস্থ্যবান থাকতে সাহায্য করে।

ভেষজ শাস্ত্র অনুযায়ী এটি পাকস্থলীর দেয়ালে যেসব বর্জ্য পদার্থ থাকে তা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দূর করে। কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ ইসবগুল ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে ভাত খাবার ঠিক আগে খেতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলেও তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

হজমক্রিয়ার উন্নতিতেঃ দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুল হজম প্রক্রিয়াকে সঠিক অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে।এটি শুধু পাকস্থলী পরিষ্কার রাখতেই সাহায্য করে না এটি পাকস্থলীর ভেতরের খাবারের চলাচলেও এবং পাকস্থলীর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনেও সাহায্য করে।তাই হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে নিয়মিতভাবে ইসবগুল খেতে পারেন।

এছাড়া মাঠা বা ঘোলের সাথে ইসবগুল মিশিয়ে খেতে পারেন ভাত খাওয়ার পরপরই। তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে তা হল ইসবগুল মিশিয়ে রেখে না দিয়ে সাথে সাথেই খেয়ে ফেলতে হবে।

হৃদস্বাস্থ্যের সুস্থতায়ঃ ইসবগুলে থাকা খাদ্যআঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যা আমাদেরকে হৃদরোগের থেকে সুরক্ষিত করে।হৃদরোগের সুস্থতায় ইসবগুল সাহায্য করে কারন এটি উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ এবং কম ক্যালরিযুক্ত। ডাক্তাররা সব সময় হৃদরোগ প্রতিরোধে এমন খাবারের কথাই বলে থাকেন।

এটি পাকস্থলীর দেয়ালে একটা পাতলা স্তরের সৃষ্টি করে যার ফলে তা খাদ্য হতে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয় বিশেষ করে রক্তের সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এছাড়াও এটি রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরিয়ে দেয় যা থাকলে ধমনীতে ব্লকের সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে তা হৃদরোগ এবং কোরোনারী হার্ট ডিজিজ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ভাবে খাবারের ঠিক পরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসবগুল খান।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধেঃ ইসবগুল যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য খুবই ভালো। এটি পাকস্থলীতে যখন জেলির মত একটি পদার্থে রূপ নেয় তখন তা গ্লুকোজের ভাঙ্গন ও শোষণের গতিকে ধীর করে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। খাবার পর নিয়মিত ভাবে দুধ বা পানির সাথে ইসবগুল মিশিয়ে পান করুন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে।তবে দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবেন না এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

পাইলস প্রতিরোধেঃ প্রাকৃতিক ভাবে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুল যারা পায়ুপথে ফাটল এবং পাইলসের মত বেদনাদায়ক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য উত্তম। এটা শুধু পেট পরিষ্কার করতেই সাহায্য করেনা মলকে নরম করতে সাহায্য করে অন্ত্রের পানিকে শোষণ করার মাধ্যমে এবং ব্যাথামুক্ত অবস্থায় তা দেহ থেকে বের হতেও সাহায্য করে। এটি প্রদাহের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে। ২ চামচ ইসবগুল কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ঘুমাতে যাবার আগে পান করুন।

সতর্কতাঃ এটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সমস্যা গুলোর ঘরোয়া সমাধান। যদি খুব বেশি গুরুতর অবস্থা হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ইসবগুল কেনার সময় দেখে নিনঃ ইসবগুল আমাদের দেশে বাজার থেকে শুরু করে সুপার মার্কেট সব জায়গাতেই বেশ সহজলভ্য। তবে কেনার আগে কিছু ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেন-
  • প্যাকেটজাত ইসবগুল কিনুন
  • কখনোই খোলা ইসবগুল কিনবেন না সেগুলো নষ্ট ও ভেজাল থাকতে পারে যার ফলে এটি খেয়ে হয়তো ভালো ফলাফল নাও পেতে পারেন।
  • আজকাল প্যাকেটজাত বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম স্বাদের ইসবগুল পাওয়া যায়। তবে ভালো ফলাফল পেতে গেলে এসব কৃত্রিম স্বাদের ইসবগুল না খেয়ে সাধারণ ইসবগুল খান।
  • বিভিন্ন দোকানে সাধারন ইসবগুলে কৃত্রিম স্বাদ ও রঙ যোগ করে বিশেষ কার্যকারিতার কথা বলে তা বিক্রয় করা হয় যা মূলত স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ। তাই সাধারণ ইসবগুল খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম।

সোমবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৭

পুড়িয়ে দেয়া মসজিদ নির্মাণে চাঁদা দিচ্ছে ইহুদি খ্রিস্টান নাস্তিকরাও

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি মসজিদ পুড়িয়ে দেয়ার পরপরই তা আবারও নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন মুসলমানরা। মসজিদটি নির্মাণের জন্য সাড়ে আট লাখ ডলার তহবিল চেয়ে আবেদন জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছয় লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ যোগাড় হয়েছে।

অনলাইনে গণচাঁদার মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদি, খ্রিস্টান ও নাস্তিকদেরও অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। খবর আলজাজিরার।

শুক্রবার সাতটি মুসলিম দেশের শরণার্থীদের প্রবেশ ও নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে আদেশ জারি করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় দক্ষিণ-পূর্ব টেক্সাসের 'ভিক্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার' নামের মসজিদটি পুড়িয়ে দেয়া হয়।

'বাইবেল প্রধান' নামে পরিচিত উগ্র খ্রিস্টান অধ্যূষিত এলাকাটিতে ২০০০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর এক বছর পরেই টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার ঘটেছিল।

তবে এ মসজিদে আগুনের ঘটনায় ভিক্টোরিয়া শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার তৈরি হয়েছে। মসজিদটির কমকর্তাদের সহানুভূতি জানিয়েছেন অন্য ধর্মের সাধারণ মানুষ এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ের প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মুসলমানরাও মসজিদটির সামনে ছুটে আসেন। এরমধ্যে ভিক্টোরিয়া থেকে চার ঘণ্টা দূরত্বের হাস্টন ও ডালাসে বসবাসকারী মুসলমানরাও ছিলেন।

আগুন দেয়ার ঘটনায় জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক সহানুভূতি পাওয়ার পর মসজিদটি পুনঃনির্মাণের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

এজন্য তহবিলের আবেদন জানালে অনলাইনে 'গোফান্ডমি' নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছয় লাখ ডলার গণচাঁদা পাওয়া যায়।

গোফান্ডমির পেইজে গিয়ে দেখা গেছে, চাঁদাদাতাদের মধ্যে মুসলমানদের পাশপাশি অনেক ইহুদি, খ্রিস্টান ও নাস্তিক ব্যক্তিও রয়েছেন।

ইউরোপ থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আগত ইহুদিদের বংশধর বেঞ্জামিন টাম্বার রোজেনাউ মসজিদটি নির্মাণে ১০০ ডলার দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, আমরা ইহুদিরা যেমন ইউরোপে আক্রান্ত হয়েছিলাম তেমনি আমেরিকাতে আরেকটি সম্প্রদায়কে (মুসলমান) ভিত্তিহীন ঘৃণার শিকার হতে দেখছি। এই কাজে আমাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ সরকারের বড় অংশ সহযোগিতা করছে।

মার্টিন ওয়াগনার নামে আরেকজন চাঁদাদাতা বলেছেন, আমি একজন খ্রিস্টান। আপনাদের (মুসলমানদের) সঙ্গে যা হয়েছে তাতে আমি কষ্ট পেয়েছি এবং হতাশ হয়েছি। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্যাতন থেকে মুক্তির স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

'ভিক্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট শহীদ হাশমি আল জাজিরাকে বলেন, শনিবার সকালে মসজিদটি পুড়তে দেখে আমরা শোকাহত হয়ে পড়ি।

তবে জনগণের কাছ থেকে সহানুভূতি এবং সহযোগিতা পেয়ে অভিভূত হাশমি। তিনি বলেন, যেভাবে হ্রদয়গ্রাহী সাড়া পাচ্ছি তা অবিশ্বাস্য। আমরা খুবই কৃতজ্ঞ।

চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ মসজিদটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সাড়ে আট লাখ ডলার তহবিল যোগাড় হয়ে যাবে বলেও জানান হাশমি। যার ভবনে মসজিদটি স্থাপন করা হয়েছে এরই মধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ভবন মালিক মসজিদ পুননির্মাণে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং ভবন পুননির্মাণের অনুমতি লাভ বাকি আছে। এরপরই মসজিদটি নির্মাণ শুরু হয়ে যাবে।

হাশমি বলছেন, ইনশাল্লাহ আগামী রমজান ন আমরা নতুন মসজিদেই পালন করব।

এদিকে মসজিদে আগুন লাগার কারণ এখনও জানাতে পারেনি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ভিক্টোরিয়া অগ্নিনির্বাপক দফতর। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) ভিক্টোরিয়া পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক দফতর ও অ্যালকোহল-টোব্যাকো-আগ্নেয়াস্ত্র বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে।

শনিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৭

মার্কিনিদেরও ঢুকতে দেবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা না ওঠা পর্যন্ত দেশটির নাগরিকদেরও ঢুকতে দেবে না ইরান।  সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পাল্টা হিসেবে ইরান এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 

শনিবার তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না তাদের অপমানকর ও অপরাধমূলক নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেবে, ততদিন কোনো মার্কিন নাগরিক ইরানে প্রবেশ করতে পারবে না। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্টের। 

ইরানিয়ান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের চরমপন্থার বিরুদ্ধে নিজেদের সিদ্ধান্তকে 'বড় উপহার' বলে মন্তব্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের সাত দিনের মধ্যেই সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। 

তার আদেশ অনুযায়ী ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়ামেনের অধিবাসীরা আগামী ৩ মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পাবেন না।  পাশাপাশি ওই সাত দেশের অধিবাসী আগামী ৪ মাস দেশটির অভিবাসী আবেদনের বাইরে থাকবে। 
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।  ট্রাম্পের এই আদেশের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আদেশটি বাতিলের পাশাপাশি যুদ্ধপিড়ীত এবং অন্যান্য সমস্যায় থাকা মানুষকে দেশটিতে আশ্রয় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, এখন সময় সামনে এগিয়ে যাবার। দুই জাতির মধ্যে সম্পর্কের দেয়াল তৈরির নয়। আর যারা এই দেয়াল বানাচ্ছে তারা হয়তো ভুলে গেছে, অনেক আগেই বার্লিনের পতন হয়েছে।

নিরাপদ থাকতে ফেসবুক থেকে মুছে দিন ৮ তথ্য!

বলতে গেলে এখন প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। অসচেতনতায় নিজেরাই অনিরাপদ করছি নিজেদের। সেক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৮টি তথ্য এখনই মুছে ফেলুন।

বর্সাতমানে মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষই সম্পৃক্ত। কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সদস্য। বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তব জগত এখন একাত্মা। বর্তমানে যে হারে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে নিরাপদ থাকাটা বেশ কঠিন। এসব ঘটনাকে আরো বেশি প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।

১. আপনার জন্ম তারিখ: অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্মতারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুনা করে: গত কয়েক বছরের যৌন ও শিশু বিষয়ক অপরাধগুলো গবেষণা করে ইংল্যান্ডের শিশু বিষয়ক সংস্থা এনএসপিসিসি জানান, অধিকাংশ অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অসচেতন ছিলেন। এজন্য অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো ঘটেছে।

অথচ অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে অবেগাপ্লুত হয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। সেইসঙ্গে স্ট্যাটাসে জানিয়ে দেন, তার শিশু কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে। এটি শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। এতে শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।

৩. আপনার শিশুর ছবি: অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে যেকোনো তথ্য পাবলিকের কাছে শেয়ার করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। যদিও অনেকেই শিশুদের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। দেখা গেল, শত্রুরা আপানার শিশুকে চিনে রাখলো। এরপর সুযোগ বুঝে শিশুটিকে অপহরণ করলো।’
৪. বর্তমান অবস্থান: যেখানে সেখানে সেলফি তুলে লোকেশন ট্যাগ করে দেওয়াটা অনিরাপদ। এর মাধ্যমে যে কেউ আপনার সবশেষ অবস্থান জানতে পারে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। দেখা গেল, আপনার অবস্থান জেনেই শত্রুপক্ষ আপনার ওপর হামলা করলো।

৫. কখন এবং কোথায় যাচ্ছি: দেখা যায়, আমরা কখন, কোথায় যাচ্ছি কিংবা ভ্রমণে বের হচ্ছি সে বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়ে দিই। যা মোটেও নিরাপদ নয়। এই বিষয়গুলো জেনে আপনার প্রতিপক্ষ ক্ষতি করতে পারে। হয়তো শত্রুপক্ষ আপনার এমন তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলো। সেটি জেনে আপনার ওপর হামলা করতে পারে। ফেসবুকে এসব বিষয়ের জানান দেওয়া নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

৬. নির্দিষ্ট স্থান ট্যাগ করা: অনেক সময় ফেসবুকে নিজের অবস্থানের নির্দিষ্ট স্থান ট্যাগ করে দেন অনেকেই। ওই সময় আপনার প্রোফাইল যে ভিজিট করবে, সে জানতে পারবে এখন আপনি কোথায় আছেন। সেটি বাসায় কিংবা অফিসে হোক। দেখা গেল, এভাবে কেউ আপনার বাসা ও অফিসের ঠিকানা সংগ্রহ করে রাখলো। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে আপনার ক্ষতি করলো। আর এ জন্য ফেসবুকে লোকেশন ট্যাগ করা মোটেও নিরাপদ নয়।

৭. ফোন বা মোবাইল নম্বর: অনেকেই মোবাইল কিংবা ফোন নাম্বার ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। যা সম্পূর্ণভাবে অনিরাপদ। দেখা গেলো, শত্রুপক্ষ আপনার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে এবং সুযোগ বুঝে কাজ করে। পাশাপাশি যে কেউ আপনার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে, সময়ে অসময়ে কল দিয়ে বিরক্ত করার সুযোগ পায়। মোবাইল বা ফোন নম্বর ব্যক্তিগত গোপনীয় জিনিস। পরিচিত ব্যক্তিদের ছাড়া কাউকে ফোন কিংবা মোবাইল নম্বর দেওয়া নিরাপদ নয়।

৮. ক্রেডিট কার্ডের তথ্য: ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে গোপন ও স্পর্শকাতর বিষয়। ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। তবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কিংবা ওয়েবসাইট বুঝেই দিতে হবে। যাতে আপনার দেওয়া তথ্য তাদের কাছে সুরক্ষিত থাকে।

কাঠের গুঁড়া, ধানের তুষের সঙ্গে রং মিশিয়ে মসলা তৈরি!

পাবনার বেড়া পৌরসভার দক্ষিণপাড়া মহল্লায় আজ শনিবার ভেজাল মসলা তৈরির কারখানা অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ভেজাল মরিচ ও হলুদের গুঁড়া তৈরির দায়ে কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনকে (৪০) ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ, দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

র‍্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, র‌্যাব ১২-এর সিপিসি-২, পাবনা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনার বেড়া থানাধীন দক্ষিণপাড়ায় একটি ভেজাল মরিচের গুঁড়া তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। র‌্যাব আরো জানতে পারে যে ওই কারখানার মালিক মো. দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভেজাল মরিচ ও হলুদের গুঁড়া প্রস্তুত ও বাজারজাত করে আসছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে আজ দুপুর ১২টার দিকে উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে র‌্যাব-১২, পাবনার একটি আভিযানিক দল ওই কারখানায় অভিযান চালায়। 

ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাঠের গুঁড়া, ধানের তুষ, পঁচা মরিচ ও বিভিন্ন প্রকার রং মিশিয়ে ভেজাল মরিচ ও হলুদের গুঁড়া প্রস্তুত করতে দেখতে পায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ভেজাল মরিচ ও হলুদের গুঁড়া প্রস্তুত ও বিপনণের অপরাধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমান কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪২ ধারায় ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ, দুই লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এ ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই কারখানা থেকে ২০ বস্তা ভেজাল মরিচের গুঁড়া, ২০ বস্তা পঁচা মরিচ ও ২০ বস্তা ভেজাল হলুদের গুঁড়া জব্দ করে। পরে ভেজাল মসলা জনসম্মুখে বেড়া হুড়াসাগর নদে ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। আর দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি দেলোয়ার হোসেনকে পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঘুম থেকে উঠেই কাচা ছোলা খাওয়ার ১৫ স্বাস্থ্য উপকারিতা…

কাঁচা ছোলার গুণ সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র ৫ গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে। ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে।

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা

১. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।
৪. রক্ত চলাচল: অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়।আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন।

৬. রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

৭. কোলেস্টেরল: ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

৯. ডায়াবেটিসে উপকারী: ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।

১০. যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে: যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাসনালিতে জমে থাকা পুরোনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা। ছোলা বা বুটের শাকও শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই ছোলায় ও ছোলার শাকে। ডায়াটারি ফাইবার খাবারে অবস্থিত পাতলা আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তাই শুধু রমজান মাস নয়, ১২ মাসেই ছোলা হোক আপনার সঙ্গী।

১১. রক্তের চর্বি কমায়ঃ ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড। এই ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং রক্তের চর্বি কমায়।

১২. অস্থির ভাব দূর করেঃ ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।

১৩. রোগ প্রতিরোধ করেঃ কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

১৪. জ্বালাপোড়া দূর করেঃ সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়।

১৫. মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করেঃ এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা।

ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। এতে আমিষ মাংস বা মাছের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্যতালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংসের প্রয়োজন পরে না। ত্বকে আনে মসৃণতা। কাঁচা ছোলা ভীষণ উপকারী। তবে ছোলার ডালের তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। তাই হজমশক্তি বুঝে ছোলা হোক পরিবারের শক্তি।

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০১৭

আজ থেকেই দুধে হরলিক্স নয় ফলমূল মেশান!

মল্ট (পানিতে ভিজানো যে বার্লি বা অন্য শস্যদানা অঙ্কুরোদগমের পর ব্যবহারের জন্য শুকানো হয়) বেভারেজ, বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয়, সম্পূরক খাবারের জনপ্রিয়তা ভীষণভাবে বাড়ছে। এই মল্ট খাবারগুলো পুষ্টিকর খাবারের স্থান দখল করে নিচ্ছে। অসচেতন মায়েরা গরুর দুধের সাথে অথবা গরম পানিতে এসব মিশিয়ে মিষ্টতা বৃদ্ধি করে আদরের সোনামনিদের মুখে তুলে দিচ্ছে। আর মিষ্টি স্বাদের জন্য বাচ্চারাও খুবই মজা করে পান করছে।

মল্ট দ্বারা তৈরিকৃত পানীয় এবং সম্পূরক খাবারের মধ্যে রয়েছে হরলিক্স, কমপ্লান, বুস্ট, প্রটিনেক্স, পেডিয়াসিউর, বর্নভিটা ইত্যাদি। আজকাল প্রায় প্রতিটি বাসায় এসব পাওয়া যাচ্ছে। আর এসব খেয়ে নাকি বাচ্চারা বয়স ও বুদ্ধিতে তরতর করে বেড়ে উঠছে! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সত্যিই কি তাই? এখন জানব সত্যতা:

মল্ট পানীয় এবং সম্পূরক খাদ্য সম্পর্কে কিছু জানা অজানা তথ্য:-এই সকল পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি ব্যবহৃত হয়! এমনকি এগুলোর অধিকাংশগুলোতে চকলেটও থাকে। এ ধরনের উপাদান আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

ক্ষতির মধ্যে একটি হচ্ছে মুখস্বাস্থ্য নষ্ট হওয়া। যখন অতিরিক্ত চিনি খাওয়া হবে তখন মুখে ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে। যেগুলো পরবর্তীতে দন্তক্ষয়, ও ক্যাভিটির সৃষ্টি করবে।

এতে অতিরিক্ত চিনি থাকায় তা তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি যোগালেও পরবর্তীতে অবসাদ ও অলসতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আপনি ফলমূল থেকেও শক্তি পাবেন। তাই মল্ট অথবা সম্পূরক খাদ্য কেন গ্রহণ করবেন?

এছাড়াও মল্ট জাতীয় পানীয় এবং সম্পূরক খাবারকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে প্রিজারভেটিভ ব্যবহৃহ হয়। সাথে ব্যবহৃত হয় কৃত্রিম রং। যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত হয় যে, এ ধরনের প্রিজারভেটিভ ও কৃত্রিম রং বাচ্চাদের আচরণের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এটি স্মৃতির উপরও প্রভাব ফেলে এবং মনোযোগ ও বিচক্ষণা কমিয়ে দেয়!
একথায়, স্বাস্থ্যবান শিশুসহ সকলের অবশ্যই এসব এড়িয়ে চলা উচিৎ।
মল্ট ছাড়াই দুধকে মিষ্টি করার উপায়:-
একথা ঠিক যে, বাচ্চারা মিষ্টি ‍দুধ বেশি পছন্দ করে। তাই মল্ট ছাড়াই দুধ মিষ্টি করার কিছু উপায় বলছি-
  • দুধে ফলমূল অথবা প্রাকৃতিক ফলের পাল্প যুক্ত করুন।
  • ফলের সাথে দুধকে ব্লেন্ড করে দুধের শরবত তৈরি করুন।
  • কিছু জাফরান যুক্ত করতে পারেন।
  • এতে দারুচিনি যুক্ত করলে ঘ্রাণ অনেক ভাল আসবে।
  • এগুলো ছাড়াও আপনি চাইলে কিছু শুকনো ফল যেমন- খেজুর, কিশমিশ মেশাবেন।
পরিশেষে, আপনার বাচ্চাকে বেশি বেশি তাজা ফলমূল ও শাক-সবজি খাওয়াবেন। ব্যাগে করে হরলিক্স, কমপ্লান নিয়ে ঘোরাঘুরি করবেন না। মনে রাখবেন এতে বাচ্চারা বয়স ও বুদ্ধিতে তরতর করে বাড়বে না বরং কমবে। তাই বাচ্চাকে দুধের সাথে হরলিক্স, কমপ্লান না খাইয়ে ফলমূল খাওয়ান।

নিশ্চয়ই মাছির একটি ডানায় রয়েছে রোগ, আর অপরটিতে রয়েছে রোগ নাশক ঔষধ (বুখারী)।

প্রায় ১৪০০ বছর আগে নাজিল হওয়া আল কোরআনের বিশ্লেষণ করে মানুষ মঙ্গল গ্রহ পর্যন্ত পৌঁছেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১৪০০ বছর আগে মাছি প্রসঙ্গে যে কথাটি বলেছিলেন, তা আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানও মেনে নিয়েছে।বুখারী ও ইবনে মাজাহ হাদীসে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি তোমাদের কারো পাত্রে মাছি পতিত হয় সে যেন উক্ত মাছিটিকে ডুবিয়ে দেয়। কেননা তার একটি ডানায় রোগজীবাণু রয়েছে, আর অপরটিতে রয়েছে রোগনাশক ঔষধ’(বুখারী)।

জ্ঞানবিজ্ঞানের যখন অগ্রগতি হলো, যখন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস জীবাণু সম্পর্কে জ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমে বর্ণিত হচ্ছে, মাছি মানুষের শত্রু, সে রোগজীবাণু বহন করে এবং স্থানান্তরিত করে। মাছির ডানায় রোগজীবাণু রয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।’ তাই যদি হয় তাহলে কিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোগজীবাণু বহনকারী মাছিকে ডুবিয়ে নেয়ার আদেশ করলেন?

এ বিষয়ে কিং আব্দুল আজীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উস্তাদ ডক্টর ওয়াজিহ বায়েশরী এই হাদীসের আলোকে মাছি নিয়ে কয়েকটি পরীক্ষা চালান। জীবাণুমুক্ত কিছু পাত্রের মধ্যে কয়েকটি মাছি ধরে নিয়ে জীবাণুমুক্ত টেস্ট টিউবের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখেন। তারপর নলটি একটি পানির গ্লাসে উপুড় করেন। মাছিগুলো পানিতে পতিত হওয়ার পর উক্ত পানি থেকে কয়েক ফোঁটা পানি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পান, সেই পানিতে অসংখ জীবাণু রয়েছে।

তারপর জীবাণুমুক্ত একটি সূঁচ দিয়ে মাছিকে ওই পানিতেই ডুবিয়ে দেন। তারপর কয়েক ফোঁটা পানি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন, সেই পানিতে আগের মত আর জীবাণু নেই, বরং কম। তারপর আবার ডুবিয়ে দেন। তারপর কয়েক ফোঁটা পানি নিয়ে আবার পরীক্ষা করেন। এমনিভাবে কয়েকবার পরীক্ষা করে দেখেন যে, যত বার মাছিকে ডুবিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন ততই জীবাণু কমেছে অর্থাৎ ডক্টর ওয়াজীহ এটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, মাছির একটি ডানায় রোগ জীবাণু রয়েছে এবং অপরটিতে রোগনাশক ঔষধ রয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত অষ্টম চিকিৎসা সম্মেলনে কানাডা থেকে দু’টি গবেষণা-রিপোর্ট পাঠিয়েছিল যাতে বর্ণিত ছিল, মাছিতে এমন কোন বস্তু রয়েছে যা জীবানুকে ধ্বংস করে দেয়। শাইখ মোস্তফা এবং শাইখ খালীল মোল্লা এই বিষয়ে জার্মান ও ব্রিটেন থেকে রিসার্চগুলো ধারাবাহিক সংগ্রহের মাধ্যমে একটি বই বের করেছেন যার মূল বিষয় ছিল:
নিশ্চয়ই মাছির একটি ডানায় রয়েছে রোগ, আর অপরটিতে রয়েছে রোগ নাশক ঔষধ - (বুখারী)।
মাছি যখন কোন খাদ্যে বসে তখন যে ডানায় জীবাণু থাকে সে ডানাটি খাদ্যে ডুবিয়ে দেয়। অথচ তার অপর ডানায় থাকে প্রতিরোধক ভাইরাস। যদি মাছিকে ডুবিয়ে দেয়া হয়, তাহলে প্রতিরোধক ভাইরাস খাদ্যের সঙ্গে মিশে মারাত্মক জীবাণুগুলিকে ধ্বংস করে দেয় এবং সেই খাদ্য স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য অনুকূল থাকে। নতুবা এই খাদ্যই জীবাণুযুক্ত হয়ে মানব ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

সেই চৌদ্দশ বছর পূর্বে এই ক্ষুদ্র জীবাণু দেখার শক্তি মানুষের ছিল না। অথচ রাসূল (স:) সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং সে সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং ঐ বিপদজনক দিক বর্ণনা করেছেন যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০১৭

হাটহাজারী মাদ্রাসায় পাগড়ি পাচ্ছেন ২৫০০ শিক্ষার্থী

চট্টগ্রামের দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার বিশেষ সমাবর্তনে প্রায় আড়াই হাজার তরুণ আলেমকে বিশেষ সম্মানসূচক পাগড়ি প্রদান করা হবে। গত বছরের দাওরায়ে হাদীস (টাইটেল) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এ পাগড়ি দেয়া হবে।

শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী এ বৃহৎ কওমি মাদ্রাসার চত্বরে বার্ষিক মাহফিল ও দস্তাবন্দী সম্মেলনে এ পাগড়ি দেয়া হবে।

দেশের সর্ববৃহৎ এ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সমকালীন মুসলিম বিশ্ব পরিস্থিতি ও ইসলামের সার্বিক বিষয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করে দেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও শীর্ষস্থানীয় ওলামা মাশায়েখগণ কুরআন-হাদীস ভিত্তিক বক্তব্য রাখবেন।

মাহফিলে দেশ ও জাতির উদ্দেশে বিশেষ হেদায়াতি বক্তব্য ও আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার উলামা-মাশায়েখ ও মুসল্লী উপস্থিত হয়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন হল রুম, ছাত্রবাস, মসজিদ ও স্থানীয় আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন।
সম্মেলনের আগের দিন বিশাল মাঠ জুড়ে সামিয়ানা স্থাপন, স্টেজ নির্মাণ ও মুসল্লীদের বসার ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই উৎসবমুখর অবস্থা বিরাজ করছে।

এদিকে শুক্রবার মাহফিলের নির্ধারিত দিন হলেও বৃহস্পতিবার বাদ জোহর থেকেই বয়ান শুরু হয়েছে।

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীস (টাইটেল) উত্তীর্ণ প্রায় আড়াই হাজার সাবেক ছাত্র বর্তমানে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে অবস্থান করে নির্ধারিত টোকেন সংগ্রহ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নে ব্যস্ত রয়েছেন।

এ উপলক্ষে হাটহাজারী মাদ্রসার মহাপরিচালক ও হেফাজত আমির আল্লামা শাহ শফী এক বিবৃতিতে দেশের সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণের প্রতি বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে শরীক হওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্যও সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছেন।