সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পুরুষের বীর্যের বিস্তারিত তথ্যাদি

বীর্য শুধুমাত্র পুরুষের প্রজননতন্ত্র থেকে নির্গত হয় - এটা সকলেরই জানা । আবার নারীদের বীর্য বলে কোন কিছু নেই। নারীদের কখনো বীর্য নির্গত হয়না । তবে যেহেতু নারীর যৌনাঙ্গ এবং মুত্রথলি খুব কাছাকছি অবস্থিত এবং মিলনকালে মুত্রথলিতে যথেষ্ট চাপ পড়ে তাই মিলনে পুর্নতৃপ্তিতে শেষের দিকে সামান্য পরিমান প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে যাকে পুরুষ/নারী অজ্ঞতাবশত বীর্য বলে ধরে নেন ।

পুরুষের বীর্য কি :- বীর্য হল অসচ্ছ, সাদা রঙের শাররীক তরল যা বীর্যস্থলনের সময় পুংলিঙ্গের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত মুত্রনালীর মাধ্যমে শরীর থেকে বাহিরে নির্গত হয় । বীর্যের বেশি অংশ যৌন অনুভুতির সময় পুরুষ প্রজননতন্ত্রের ক্ষরন/নিঃসরন হতে সৃষ্ট ।
  • ৬৫% বীর্য-তরল ধাতুগত গুটিকা  দ্বারা উৎপাদিত।
  • ৩০% থেকে ৩৫% মূত্রস্থলীর গ্রীবা সংলগ্ন গ্রন্থিবিশেষ থেকে সরবরাহকৃত।
  • ৫% শুক্রাশয় এবং অন্ডকোষের epididymes নামক অংশ হতে।
বীর্যে প্রাপ্ত রাসায়নিক পদার্থগুলো হলো যথাক্রমে – সাইট্রিক এসিড, ফ্রি এ্যামিনো এসিড, ফ্রাকটোস, এনজাইম, পসপোহ্‌রিলকোলিন, প্রোষ্টাগ্লেন্ডিন, পটাশিয়াম এবং জিংক। গড়পড়তা প্রতি বীর্যস্থলনে উৎপাদিত বীর্যের পরিমান ২ থেকে ৫ মিঃলিঃ। বীর্যের পরিমান এবং পুর্বের বীর্যপাতের সময় ব্যবধানের হিসাব অনুযায়ী বীর্যের ঘনত্বের তারতম্য এবং প্রতিবার বীর্যের সাথে (একেকবারের স্থলনে) শুক্রানুর সংখ্যা ৪ (চার) কোটি থেকে ৬০ (ষাট) কোটি পর্যন্ত হতে পারে। বীর্যে শতকরা ২০ ভাগ শুক্রানু জীবিত না হলে সে পরুষ বন্ধা – অর্থাৎ সন্তান জন্মদানে অক্ষম। ডাক্তারী পর্যবেক্ষনের জন্য সাধারনত হস্তমৈথুনের সাহায্যে বীর্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে বীর্যদাতা যদি শাররীক মিলন ব্যতিত বীর্যস্থলনে অসমর্থ্য হন, সেক্ষেত্রে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়না এবং শুক্রনিধক পদার্থ নেই এমন কনডম ব্যবহার করে বীর্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
স্বাভাবিক/সাধারন বীর্য দেখতে কেমন?
বাহ্যিক রূপ :- বীর্য সাধারনত দেখতে মেঘলা সাদা অথবা কিছুটা ধুসর তরল। বীর্যস্থলেনের সাথে সাথে এটি দেখতি গাঢ় এবং জেলীর মত ইষৎ শক্ত। তবে পরবর্তি ৩০ মিনিটের মধ্যে বীর্য তরল এবং পানির মত পাতলা হয়ে যায়। বীর্যের পুরু এবং তরলীকরণ প্রজনন তথা সন্তান জন্ম দেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয়।

গন্ধ :- বীর্যে ক্লোরিন এর মত একপ্রকার স্বাভাবিক গন্ধ থাকে।

স্বাদ :- অধিক মাত্রায় ফলশর্করা (fructose) থাকার কারনে এটি কিছুটা মিষ্টি স্বাদযুক্ত। তবে ব্যাক্তিবেধে বীর্যের স্বাদের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এমনকি খাদ্যাভ্যাসের পার্থক্য থেকে বীর্যের স্বাদের পরিবর্তন হতে পারে।

কি রকম বীর্যকে "অস্বাভাবিক বীর্য" বলা হবে ?
অল্প পরিমানে বীর্য বের হওয়া :- বীর্যস্থলনে বীর্যের পরিমান কম হবার কারন হতে পারে ধাতুগত গুটিকা অথবা বীর্য নিঃসরন নালীর প্রতিবন্ধকতা।

অল্প পরিমান বীর্যরস নির্গত হওয়া হয়তো বিপরিতগামী বীর্যস্থলনের কারনেও হতে পারে, যদি বীর্য নিঃসরনের সময় বীর্যের প্রবাহ মুত্রনালী দিয়ে বাহিরের দিকে না হয়ে উল্টোপথে মুত্রথলির দিকে প্রবাহিত হয় – সে অবস্থায় এমনটি হতে পারে। বীর্যের এই বিপরিতমুখীতা মূত্রস্থলীর গ্রীবা সংলগ্ন গ্রন্থির সংক্রমন, পুর্বের কোন মূত্রস্থলীর গ্রীবা সংলগ্ন গ্রন্থির (prostate) অস্ত্রপ্রচার, ডায়াবেটিস এবং অনেক ঔষধের পাশ্বাপ্রতিক্রিয়ায়ও হতে পারে।

অতিরিক্ত গাঢ় এবং পিন্ডাকার বীর্য :- শরীরে পানিশুন্যতার কারনে বীর্য হয়তো অস্বাভাবিক গাঢ় হতে পারে, তবে এটি একটি অস্থায়ী অবস্থা। গাঢ় / পিন্ডাকার বীর্যের একটু ভয়ানক কারন হল শুক্রাশয় এর নিন্মমুখী স্তর। যদি আপনার বীর্য একনাগাড়ে দুই থেকে তিন সপ্তাহ এ রকম আস্বাভাবিক দেখা যায় তবে অবশ্যই ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হবে।

লাল অথবা বাদামী রঙের বীর্য :- যদি আপনার বীর্য লাল অথবা বাদামী রঙের দেখা যায় তাহলে মূত্রস্থলীর গ্রীবা সংলগ্ন গ্রন্থি (prostate) তে হয়তো বিস্ফোরিত রক্তপ্রবাহ হচ্ছে। এটি সাধারন বীর্যস্থলনের সময়ও দেখা যেতে পারে। এবং সাধারনত এক কিংবা দুই দিনে বীর্য তার স্বাভাবিক রঙে ফিরে আসতে পারে। যদি বীর্যের এই রঙ পরিবর্তন একটানা কয়েকদিন থেকে দেখা যায় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে পরামর্শের জন্য যেতে হবে। অবিরাম বীর্যের মধ্যে রক্তের উপস্থিতি হয়তো কোন প্রকার সংক্রমন, রক্তক্ষরন (হয়তো মানসিক আঘাত জনিত কারনে), এবং বিরল ক্ষেত্রে ক্যন্সারের কারনে দেখা যেতে পারে।

হলুদ কিংবা সবুজ রঙের বীর্য :- সাধারন বীর্যে ধুসর সাদা কিংবা ইষৎ হলুদ বনর্চ্ছটা থাকতে পারে। হলুদ কিংবা সবুজ রঙের বীর্য হয়তো রোগ সংক্রমনতা নির্দেশ করে, হতে পারে এটি যৌনবাহিত রোগ "গনেরিয়া'র" লক্ষন। আপনার পাশ্ববর্তী কোন চিকিৎসালয়ে যান যেখানে যৌন বাহিত রোগের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। যদি বীর্যের এই বিবর্নতা গনেরিয়ার কারনে হয়ে থাকে তাহলে উপযুক্ত এ্যান্টিবায়োটিক ঔষধে চিকিৎসা সম্ভব।

বিরক্তিকর গন্ধযুক্ত বীর্য :- বীর্যের বিরক্তিকর গন্ধের প্রায়শঃ প্রধান কারন হলো রোগ সংক্রমনের লক্ষন। বীর্যে দুর্গন্ধ পরিলক্ষিত হলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া উচিত । ভালো এবং অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিন।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

নিরাপদ থাকতে ফেসবুক থেকে মুছে দিন ৮ তথ্য!

বলতে গেলে এখন প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। অসচেতনতায় নিজেরাই অনিরাপদ করছি নিজেদের। সেক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৮টি তথ্য এখনই মুছে ফেলুন।
বর্সাতমানে মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষই সম্পৃক্ত। কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সদস্য। বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তব জগত এখন একাত্মা। বর্তমানে যে হারে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে নিরাপদ থাকাটা বেশ কঠিন। এসব ঘটনাকে আরো বেশি প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।
১. আপনার জন্ম তারিখ: অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্মতারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুন…

নাক ডাকার সমস্যা চিরতরে দূর করবে পানীয় - দেখুন কি ভাবে তৈরী করবেন

নাক ডাকার সমস্যা যে বেশ বিরক্তিকর ও বিব্রতকর, তা নতুন করে বলে দিতে হয় না। যিনি নাক ডাকেন তিনি না বুঝলেও পাশে থাকা মানুষটির ঘুম হারাম হয়ে যায়। তাই নাক ডাকা সমস্যাকে অবহেলা না করে ঘরোয়া ভাবে খুব সহজে এবং বেশ সুস্বাদু উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করুন।
১) গাজর-আপেলের জুস: শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই জুসের রয়েছে শ্বাসনালী কিছুটা চওড়া ও শ্বাসনালীর মিউকাস দ্রুত নিঃসরণের ক্ষমতা, যা নাক ডাকা থেকে মুক্তি দিতে বেশ কার্যকর।  প্রস্তুতপ্রণালি:  ১। ২ টি আপেল ছোটো ছোটো খণ্ডে কেটে নিন এবং ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন।  ২। এবার ২ টি গাজর কেটে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।  ৩। এরপর একটি লেবুর ১/৪ অংশ কেটে রস চিপে এতে দিয়ে দিন এবং ১ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।  ৪। কিছুটা পানি দিয়ে বেশ ভালো করে ব্লেন্ড করে নিয়ে ছেঁকে নিন। এই পানীয়টি প্রতিদিন পান করুন। নাক ডাকার সমস্যা দূরে পালাবে।  ২) হলুদের চা: হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটিও বেশ কার্যকর নাক ডাকা সমস্যার সমাধানে।  প্রস্তুতপ্রণালি: - ১। ২ কাপ পরিমাণ পানি চুলায় বসিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন।  ২। এতে ১ চা চামচ পরিমাণ কাঁচা হলুদ বাটা দিয়ে দিন (গুঁড়ো হলেও চলবে)।…