সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিয়ের পূর্বে যে কাজ গুলো করে নেয়া ভালো !!

বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে একজন নারী এবং একজন পুরুষের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য এক সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। আর এক সময় এই সম্পর্কের মাধ্যমেই নারী ও পুরুষের ঔরসজাত হয়ে পৃথিবীর মুখ দেখে নতুন প্রজন্ম। তাই বিয়ের আগে বর এবং কনে উভয়কেই কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে নিলে সেটা তাদের এবং আগামী ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও বেশ মঙ্গল জনক হয়ে থাকে। তার জন্য কি কি করা যেতে পারে এবং তাতে কি পরিমান উপকার নিহিত রয়েছে - আসুন এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখি।


বিয়ের পূর্বে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা :-
একথা আমরা সকলেই জানি যে, অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করার ফলে স্বামী-স্ত্রী দুজনের স্বাস্থ্যেই এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যা পরবর্তীতে সন্তানের ওপরও পড়ে। তাই বিয়ে করার পূর্বে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই বয়স ভালো করে যাচাই করে নেওয়া দরকার। মেয়েদের ক্ষেত্রে নিয়মিত মাসিক হওয়া, হেপাটাইটিস সহ অন্যান্য সব ধরনের টিকা দেওয়া আছে কিনা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে বিড়ি-সিগারেট, মদ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস আছে কিনা তা আগে থেকেই জেনে নেয়া দরকার। এসব ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তা পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি ও এর কুফল পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়ে। এছাড়া শারীরিক উচ্চতা, রক্তচাপ, ওজন এসব দিকও সম গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা দরকার।

বিয়ের বয়স :-
বিয়ের বিষয়ে বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বেশি বয়সে বিয়ে করার ফলে ছেলেদের ইনফার্টিলিটি অথবা বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে হলে সন্তান মানসিক ও শারীরিক ত্রুটিসহ প্রতিবন্ধীও হওয়ার ঝুকি রয়েছে। ত্রিশ বছরের পর মেয়েদের প্রথম সন্তান নেওয়া খুবই ঝুকিপূর্ণ। তাই এসব দিক বিবেচনা করে বিয়ের আগে বয়সের দিকটা ভালো করে বিবেচনা করতে হবে। কেননা এর সাথে আগামী প্রজন্মের ভাগ্যও জড়িত।
বয়সের দিক ভাবতে গিয়ে অতি অল্পবয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। কম বয়সে মেয়েদের গর্ভধারণ মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। অল্প বয়সে সন্তান ধারণের ফলে আমাদের দেশে অনেক মেয়ের অকালমৃত্যু ঘটছে। এছাড়া ছেলে-মেয়ের বয়সের পার্থক্যের দিকটিও সমানভাবে নজড় দিতে হবে। ছেলে ও মেয়ের বয়সের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে পরবর্তীতে সংসার জীবনে একে অপরের বোঝাপড়াটা ঠিকমতো হয় না। যার ফলে সংসারের নানা ধরনের অশান্তি লেগেই থাকে। তাই সবদিক বিবেচনা করে বিয়ের আগে এই বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

রক্তরোগ ঝুকি :-
একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে রোগ জীবাণু ছড়ানোর একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে রক্ত। এটির মাধ্যমে সহজেই রোগজীবাণু একাধিক দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বিয়ের আগে নারী ও পুরুষ উভয়ের রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। সাধারণত যাদের রক্তে আরএইচ (RH) ফ্যাক্টর নেই তারা নেগেটিভ গ্রুপের রক্তধারী। যেমন- এ নেগেটিভ, এবি নেগেটিভ। পজিটিভ রক্তধারী কোনো পুরুষের সাথে যদি এই নেগেটিভ রক্তধারী কোনো পুরুষের বিয়ে হয় তাহলে সন্তান জন্মদানের সময় দুর্ঘটনার আশংকা সৃষ্টি হয়। যেমন- অকাল গর্ভপাত হওয়া, শিশুর মৃত্যু হওয়া, জন্মগ্রহণকারী শিশুর হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে। এসব অনাহুত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বন্ধ্যাত্ব সমস্যা :-
আমাদের দেশে অসংখ্য নারী ও পুরুষ বন্ধ্যাত্ব নামক এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হন। এনিয়ে সমাজে নানা ধরনের কুসংস্কারও রয়েছে। যৌন অক্ষমতা, অ্যাজোসপারমিয়া এবং সন্তান ধারণে অক্ষমতার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। বন্ধ্যাত্ব পুরুষ ও নারী উভয়েরই হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা পরবর্তীতে সংসার জীবনে নানা ধরনের অশান্তির সৃষ্টি করে। আমাদের বর্তমান সমাজ জীবনে বিয়ের আগে এই ধরনের কোনো পরীক্ষা করার ব্যবস্থা না থাকলে আপাতদৃষ্টিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

বংশগত রোগ :-
রোগের জীবাণু বহনকারী পুরুষ ও মহিলার ঔরসজাত সন্তানও জন্মের সময় মায়ের গর্ভ থেকেই সেই রোগের জীবাণু নিজের শরীরে বহন করে নিয়ে আসে। যা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার মাঝে প্রকাশ পেতে থাকে। সাধারণত মা-বাবা দুজনের অথবা যে কোনো একজনের জীন থেকে সন্তান এই রোগের ধারক হন। বংশগত রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে – মৃগী, ডিপ্রেশন, কার্ডিওভাসকুলার ডিজেস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, বিশেষ কয়েক ধরনের ক্যান্সার যেমন – ফুসফুসের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ডাযাবেটিস, আর্থাইট্রিস, গ্লুকোমা, ওবেসিটি, অস্টিওপোরেসিস, অ্যাজমা, মানসিক অসুস্থতা, প্রভৃতি।

সবক্ষেত্রে বংশগত রোগ শারীরিকভাবে প্রকাশ নাও পেতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে প্রকাশ হয় না সেসব রোগের জন্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই গোত্রের ছেলে-মেয়ের মধ্যে বিয়ে হলে বিয়ের আগে শারীরিক পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত রোগ দ্বারা সন্তানদের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। যেমন – হিমোফেলিয়ার বা রক্ত জমাট বাধার সমস্যা, কালার ব্লাইন্ডনেস প্রভৃতি রোগ সাধারণত মায়েদের থেকে ছেলে সন্তানদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এসব রোগ দ্বারা কন্যা সন্তানদের প্রভাবিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ ধরনের রোগ মহিলাদের মধ্যে পরিবাহিত হলেও তাদের নিজ দেহে তা প্রকাশ পায় না। পরবর্তীতে তা তার ছেলে সন্তানের দেহে প্রকাশ পায়। তাই বিয়ের পূর্বে রক্ত ও টিস্যু নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়াই ভালো।

যৌন-সংক্রান্ত রোগ :-
নারী বা পুরুষের পূর্বে কোনো যৌন রোগ থাকলে বিয়ের পর তাদের শারীরিক সম্পর্কের ফলে ঐই রোগের জীবাণু একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে মিশে যায়। সিফিলিস, গনোরিয়া, শ্যানক্রয়েড, জেনিটাল হারপিস সহ মরনঘাতী এইডসও এই পক্রিয়ায় একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়। পরবর্তীতে এসব রোগের প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়ে। তাই বিয়ের পূর্বে এসকল বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তবে ডাক্তারি পরীক্ষার ফলাফল যাই আসুক না কেন সেটির উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে কীভাবে সেই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় সেই চেষ্টা করে সামনের দিকে এগুনোটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাছাড়া আমাদের বর্তমান সামাজিক কাঠামোয় কতজন এই পদ্ধতি মেনে চলবেন সে বিষয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। তবে বিষয়গুলো মেনে চললে আমাদের সকলেরই উপকার ছাড়া কোনো অপকার হবে না এ বিষয়ে অন্তত আমাদের সাথে একমত হবেন আশা করি। 

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

নিরাপদ থাকতে ফেসবুক থেকে মুছে দিন ৮ তথ্য!

বলতে গেলে এখন প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। অসচেতনতায় নিজেরাই অনিরাপদ করছি নিজেদের। সেক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৮টি তথ্য এখনই মুছে ফেলুন।
বর্সাতমানে মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষই সম্পৃক্ত। কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সদস্য। বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তব জগত এখন একাত্মা। বর্তমানে যে হারে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে নিরাপদ থাকাটা বেশ কঠিন। এসব ঘটনাকে আরো বেশি প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।
১. আপনার জন্ম তারিখ: অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্মতারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুন…

নাক ডাকার সমস্যা চিরতরে দূর করবে পানীয় - দেখুন কি ভাবে তৈরী করবেন

নাক ডাকার সমস্যা যে বেশ বিরক্তিকর ও বিব্রতকর, তা নতুন করে বলে দিতে হয় না। যিনি নাক ডাকেন তিনি না বুঝলেও পাশে থাকা মানুষটির ঘুম হারাম হয়ে যায়। তাই নাক ডাকা সমস্যাকে অবহেলা না করে ঘরোয়া ভাবে খুব সহজে এবং বেশ সুস্বাদু উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করুন।
১) গাজর-আপেলের জুস: শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই জুসের রয়েছে শ্বাসনালী কিছুটা চওড়া ও শ্বাসনালীর মিউকাস দ্রুত নিঃসরণের ক্ষমতা, যা নাক ডাকা থেকে মুক্তি দিতে বেশ কার্যকর।  প্রস্তুতপ্রণালি:  ১। ২ টি আপেল ছোটো ছোটো খণ্ডে কেটে নিন এবং ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন।  ২। এবার ২ টি গাজর কেটে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।  ৩। এরপর একটি লেবুর ১/৪ অংশ কেটে রস চিপে এতে দিয়ে দিন এবং ১ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।  ৪। কিছুটা পানি দিয়ে বেশ ভালো করে ব্লেন্ড করে নিয়ে ছেঁকে নিন। এই পানীয়টি প্রতিদিন পান করুন। নাক ডাকার সমস্যা দূরে পালাবে।  ২) হলুদের চা: হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটিও বেশ কার্যকর নাক ডাকা সমস্যার সমাধানে।  প্রস্তুতপ্রণালি: - ১। ২ কাপ পরিমাণ পানি চুলায় বসিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন।  ২। এতে ১ চা চামচ পরিমাণ কাঁচা হলুদ বাটা দিয়ে দিন (গুঁড়ো হলেও চলবে)।…