সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নারীদের গর্ভধারনে সমস্যা হলে কি কি করবেন ?

প্রথম অবস্থায় মহিলাদের গর্ভধারনে সমস্যাটা একেবারে অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমনটি হতেই পারে। অনেক সময় সতর্ক না থাকলে আবার দুর্ঘটনারও সৃষ্টি হতে পারে। তবে যদি অন্য কোন সমস্যা না থাকে তাহলে কিছু নিয়ম কানুন অনুসরণ করতে পারেন। ডাক্তারের কাছে গেলে তারা আপনাকে প্রথমে যা যা করতে বলবেন:-

তাড়াতাড়ি মা হবার জন্য সপ্তাহে অন্তত: তিনবার যৌন মিলন করুন:-
সঠিক ভাবে মা হবার জন্য নিয়মিত যৌন মিলন অত্যন্ত জরুরী। স্বামী-স্ত্রী সাধারনত হিসেব করতে থাকেন আনুমানিক কখন ডিম্ব নিঃস্বরন (ওভুলেশান) হবে? সেজন্য তারা অন্য সময় যৌন মিলন থেকে বিরত থাকেন। এটা সত্যযে ওভুলেশান ছাড়া কনসিভ করা সম্ভব নয় – তবে যেহেতু নারীর ওভুলেশান সব সময় তাদের অনুমান করা সময়ে নাও হতে পারে তাই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন স্বামী-স্ত্রীর মিলন গর্ভধারনের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

গর্ভধারন নিশ্চিত করতে ডিম্বস্ফোটন ভবিষ্যদ্বাণী কিট অথবা নিষেক পরীক্ষন কিট ব্যবহার করুন:-
Ovulation prediction kit হচ্ছে একধরনের স্টি্রপ যা শরীরের তাপমাত্রা এবং প্রস্রাবে Luteinizing হরমোনের লেভেল পরীক্ষা করে ডিম্বনিস্বরনের সময় সম্পর্কে ধারনা দিতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে ওভুলেশান চার্ট অথবা অন্য সব হিসাব-নিকাশ কিছুটা কনফিউজিং। তাই ovulation prediction kit দিয়ে ওভুলেশানের সময় আগে থেকে জেনে মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া “ক্লিয়ার ব্লু ইজি মনিটর” জাতীয় নিষেক পরীক্ষন যন্ত্র দিয়েও গর্ভধারনের সম্ভাবনার একটি চিত্র পাওয়া যায়। নিষেক পরীক্ষন যন্ত্রও ওভুলেশান প্রিডিকশন কিটের মত লুটিইনজিং হরমোনের পরিবর্তন সহ অন্যন্য আনুষাঙ্গিক হরমোনাল পরিবর্তনের বিবেচনায় গর্ভধারনের সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে।
গর্ভধারনের জন্য ডিম্বনিস্বঃরনের পুর্বে যৌন মিলন করুন – পরে নয়:-
অনেকসময় স্বামী-স্ত্রী ডিম্ব নিষেক এর জন্য মিলনের সঠিক সময় নিয়ে সন্দেহে ভোগেন। প্রতি মাসে আপনার খুব একটা ছোট সময় আছে গর্ভধারনের। নারীর ডিম্বনিঃস্বরনের পর আনুমানিক ২৪ ঘন্টা তা জীবিত থাকতে পারে। অন্যদিকে পুরুষের শুক্রানু নারীর যৌনাঙ্গে প্রায় পাঁচ দিনের মত জীবিত থাকতে পারে। সেই কারনে ওভুলেশানের ২/৩ দিন আগে যৌন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ওভুলেশানের দিনের জন্য অপেক্ষা না করাই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে।

শুধুমাত্র ঋজচক্র ক্যালেন্ডারে নির্ভর করবেন না:-
আপনাদের অনেকে হয়তো শুনে আসছেন মাসিক ঋজচক্রের ১৪ তম দিন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটি আসলে যাদের মাসিক চক্র ২৮ দিনের তাদের হিসেবে এ কথাটির প্রচলন হয়েছে। এটি দ্বারা অনুমান করা হয় মাত্র – কখন ডিম্বনিস্বঃরন হতে পারে। তবে এটি একদম ১০০ ভাগ নির্ভুল পদ্ধতি নয়। অনেক নারী ঠিক ১৪ তম দিনে ওভুলেট করেন না। কিন্তু আপনি যদি ওভুলেশান প্রিডিকশান কিট অথবা ডিম্বনিঃস্বরনের কোন আলামত লক্ষ্য করে মিলন করেন তাহলে ভাল ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।

গর্ভধারনের চেষ্টার আগে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন:-
নিশ্চিত করুন আপনি সন্তান ধারনের জন্য স্বাস্থ্যগত ভাবে তৈরি আছেন। শাররীক ইনফেকশান, এসটিডি তথা যৌন বাহিত রোগ অথবা দুর্বল স্বাস্থ্য আপনার গর্ভধারনে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

যখন বাচ্চা নেবার চিন্তা করছেন তখন ধুমপান, মদ্যপান এবং যাচ্ছেতাই ভাবে মেডিসিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন:-
এটি একটি সাধারন জ্ঞানের কথা কিন্তু অনেক নারী ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদির বহাল রেখে গর্ভধারন করেতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হল উপরোক্ত সব বদঅভ্যাস ডিম্ব নিষেকে প্রভাব পেলতে পারে এবং এটি গর্ভের সন্তানের জন্য অতিমাত্রায় ক্ষতিকর।

গর্ভধারনের জন্য আনন্দদায়ক যৌন মিলন খুবই জরুরী:-
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন কোন যুগল সন্তান নিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হন তখন তারা যৌন মিলনকে একপ্রকার ডিউটি মনে করতে শুরু করেন এবং মিলনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন। রোমান্টিক কোন প্ল‍্যান করুন অথবা সম্পর্ক স্পাইস-আপ করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। কারন আপনি মিলনে কি রকম অনুভূতি পাচ্ছেন তার উপরও গর্ভধারনের সম্ভাবনা নির্ভর করে। গবেষনায় দেখা গেছে মিলনকালে নারীর পুর্নতৃপ্তি সন্তানধারনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। পুর্নতৃপ্তির ফলে নারীর জরায়ুর দিকে শুক্রানু প্রাকিতিক ভাবে সঞ্চালিত হয় এবং পুরুষের তৃপ্তি বীর্যে শুক্রানুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

কিছু যৌন আসন শুক্রানুকে বেশি সময় যোনীতে রাখতে সহায়তা করে:-
মিসনারী আসন হচ্ছে সবছে ভাল আসন যখন আপনি গর্ভধারনের চেষ্টা করছেন। যখন আপনি সন্তান নেবার পরিকল্পনা করছেন তখন ঐসকল আসন থেকে বিরত থাকুন যেখানে নারী পুরুষের উপর আরোহন করে। কারন মধ্যকর্ষন শক্তির প্রভাবে শুক্রানু লিক হয়ে বেরিয়ে পড়তে পারে। কিংবা মিলনকালে নারীর কোমরের নিচে একটি বালিশ দিয়ে রাখতে পারেন যাতে তার যোনীতে বেশি সময় শুক্রানু অবস্থান করার সম্ভাবনা বাড়ায়।

গর্ভবতী হবার জন্য কঠিন কোন চেষ্টা করতে হয়না:-
অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ে গর্ভধারন বিষয়টি ঘটে যায়। অনেকে আবার লম্বা সময় চেষ্টা করেও সফল হন না। যদি আপনি চেষ্টা করার এক বছরের মধ্যে সন্তান সম্ভবা না হন তাহলে অবশ্যই বুঝবেন কোন না কোন প্রকার সমস্যা থাকতে পারে। তার জন্য ভালো একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে যান। তিনি হয়ত আপনাকে কিছু Pathological টেস্ট করতে বলবেন। টেস্ট গুলো করে আপনার হোমিওপ্যাথকে দেখান এবং চিকিত্সা নিন, আশা করি সেরে উঠবেন।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পুরুষত্বহীনতা, অকাল বীর্যপাত ও লিঙ্গ উথান সমস্যা দূর করে সুস্থ যৌনজীবন দেয় জাফরান৷

জাফরানের ২০টি ঔষধি গুন বিশ্বের সবচেয়ে দামী মশলা জাফরান। স্যাফরন বা কেশর নামেও এটি পরিচিত৷ এই মশলা নামীদামী অনেক খাবারে ব্যবহৃত হয়। খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রঙ বাড়িয়ে তুলতে এই ‘গোল্ডেন স্পাইস’ এর জুড়ি নেই। তবে জাফরানের কাজ শুধু এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাফরানের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ ঔষধিগুণ। জাফরানে রয়েছে বিস্ময়কর রোগ নিরাময় ক্ষমতা৷মাত্র ১ চিমটে জাফরান আপনাকে প্রায় ২০ টি শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। ১. জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিতরোগ দূর করে।
২. হজমে সমস্যা এবং হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে জাফরান।
৩. জাফরানের পটাশিয়াম আমাদের দেহে নতুন কোষ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কোষ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
৪. জাফরানের নানা উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে সহায়তা করে, এতে করে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷
৫. মেয়েদের মাসিকের অস্বস্তিকর ব্যথা এবং মাসিক শুরুর আগের অস্বস্তি দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই।
৬. নিয়মিত জাফরান সেবনে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা ধরণের সমস্যা যেমন অ্যাজমা,পারটুসিস, কাশি এবং বসে যাওয়া কফ দূর করতে…

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

নিয়মিত ঘৃতকুমারী রস পানের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদের নাম। বহুগুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিকঅ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনএ, বি৬,বি২ ইত্যাদি। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরা জুস পান করে থাকেন। আপনি জানেন কি প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস পান করার উপকারিতা?

১। হার্ট সুস্থ রাখতে :- আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ :- অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে :- অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। ৪। ওজন হ্রাস করতে :- ওজন কমাতে অ…