সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পুরুষের যৌন দূর্বলতা - কারণ, প্রতিকার এবং চিকিৎসা

যৌন দূর্বলতা আজ আমাদের সমাজে একেবারেই একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। যথাযথ জ্ঞান না থাকার কারণে অনেক তরুণরাও নিজেদের যৌনতায় দুর্বল ভেবে থাকেন। কিন্তু দেখা যায় বিবাহিত জীবনে বাংলাদেশে অধিকাংশ পুরুষই যৌন দূর্বলতা সমস্যায় আক্রান্ত হন। তারও রয়েছে বিভিন্ন কারণ। অথচ দেখা যায় অধিকাংশ মানুষেরই এ বিষয়ে সংকোচ বেশি থাকার কারণে প্রকৃত তথ্য থেকে অনেকে বঞ্চিত হন, এই দূর্বলতার কারণে অনেক কুসংস্কারও সমাজের মানুষের মনে বাসা বেধে আছে। 

আর এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেনীর অসাধু যৌন সামগ্রী বিক্রেতারা নানা প্রকার কথায় ভুলিয়ে কোমলমতি এবং সহজ সরল মানুষদেরকে প্রতারিত করে থাকে। বাস্তব জ্ঞানটা না থাকার কারণে অনেক পুরুষকেই দেখা যায় নিয়মিত নানা প্রকার যৌন উত্তেজক ঔষধ সেবন করতে। অথচ তারা জানেনই না যে তারা কি ভয়াবহ বিপদের দিকে এগোচ্ছেন।
 
বিষয়টা সম্পর্কে আরো ভাল ধারণা লাভের জন্য আসুন জেনে নেই - একজন পুরুষের যৌন বিষয়ক শারীরবৃত্তীয় কাজ গুলো কি কি।
  • যৌন ইচ্ছা  থাকা।
  • লিঙ্গত্থান বা ইরেকশন হওয়া, যেটি পুরুষাঙ্গে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবার কারনে হয়ে থাকে। 
  • পুরুষাঙ্গ দিয়ে সিমেন নির্গমন । 
  • পেনিস বা পুরুষাঙ্গের শিথিলতা।
এসব কিছুর মধ্যে পুরুষের লিঙ্গ উত্থানে সমস্যাটিই প্রকট সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে । এই সমস্যাটি নানাবিধ কারনে হতে পারে। তবে এটা জেনে রাখা দরকার যে আমাদের সমাজের মানুষের বেলায় দেখা গেছে এর বড় একটা কারন হলো মনস্তাত্বিক, এছাড়া কিছু হরমোনের অভাব অথবা মস্তিস্কের রোগের কারনেও এমনটি হতে পারে। পুরুষাঙ্গের ধমনি সরু হয়ে যাওয়া কিংবা শিরার যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত ধারণ করতে না পারাটাও এমন সমস্যার জন্ম দেয়।
এবার পুরুষের যৌন দূর্বলতা সৃষ্টির পেছনে নিচের কয়েকটি কারণ লক্ষ্য করুন :-
  • আমাদের দেশে ছেলেরা অল্প বয়স থেকেই নানা প্রকার যৌন অনাচারে লিপ্ত হয়ে যখন বিয়ের বয়স হয় তখন দেখা যায় তার নানা প্রকার যৌন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং তার সাথে তীব্র যৌন দূর্বলতা তো থাকেই।
  • মানুষের  বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরবৃত্তীয় এবং মানসিক যেসব পরিবর্তন হয় তা অনেক সময় এতে প্রভাব ফেলে অর্থাৎ পুরুষের যৌন দূর্বলতার সৃষ্টি করে থাকে।
  • কিছু কিছু রোগের কারনে পুরুষের এমন সমস্যা হতে পারে যেমন- ডায়াবেটিস হওয়া, স্থুলতা, অন্য এন্ডোক্রাইন বা হরমোনের সমস্যা দেখা দেয়া, প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হওয়া ইত্যাদি।
  • ধুমপান একদম প্রত্যক্ষ ভাবে লিঙ্গত্থান ব্যর্থ হবার একটি বড় কারন।
  • মেরুদন্ডের অভ্যন্তরে যে মজ্জা থাকে (spinal cord) তাতে আঘাত পেলে কিংবা তা রোগাক্রান্ত হলেও এমন সমস্যা দেখা দেয়।
  • এ ছাড়া ডিপ্রেসন, এঙ্গার কিংবা বিভিন্ন মানসিক চাপ বা উত্তেজনার কারনেও লিঙ্গোত্থানে সমস্যা দেখা দেয়।
  • পুরুষাঙ্গের নিকটবর্তী স্থানে রেডিওথেরাপী দিলেও এমন সমস্যা হতে পারে।
  • কিছু কিছু মেডিসিন আছে যা পুরুষের অমন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, এর মধ্যে আছে মানসিক রোগের মেডিসিন, কিছু স্টেরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মেডিসিন, নেশা উদ্রেককারী মেডিসিন যেমন কোকেন, গাজা, অধিকমাত্রায় এলকোহল সেবন ইত্যাদি।
কার্যকর চিকিৎসা :- 
আজকাল অনেক অসাধু ব্যক্তিদের দেখা যায় দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ব্লগে এবং ওয়েবসাইটে পুরুষের যৌন দূর্বলতা দূরীকরণে ভায়াগ্রা এবং সিলডেনাফিল এর মত মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী ঔষধ ক্রয় করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। অথচ এই ঔষধগুলি একেবারে সেক্সলেস অবস্থায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকরা অতি সাবধানতার সাথে প্রেসক্রাইব করে থাকেন। কারণ এইগুলি অনেকের ক্ষেত্রে এতটাই মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যে সেবনকারী হৃদপিন্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারাও যেতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো এইগুলি পুরুষের যৌন দূর্বলতা সমস্যার কোনো সমাধানই করে না। শুধুমাত্র লিঙ্গে কিছুক্ষণের জন্য রক্তের গতি বাড়িয়ে এটাকে উত্তেজিত করে রাখে অর্থাৎ আপনাকে সারা জীবন ধরেই এই ঔষধ খেয়ে যেতে হবে। আর এক সময় দেখবেন আপনার যৌন জীবন তথা পুরু জীবনেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কালো অন্ধকার নেমে এসেছে।

অথচ পুরুষের যৌন দূর্বলতা যে কারণেই সৃষ্টি হোক না কেন যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিত্সায় খুব সহজেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এখানে নেই কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। অল্প কিছু দিনের প্রপার হোমিও চিকিত্সাতেই যৌন দূর্বলতা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে যত কারণ থাকে সব গুলিই একেবারে মূল থেকে নির্মূল হয়ে যায় এবং শরীরে আবার আগের মত সুস্থ অবস্থাটা তৈরী হয়ে যায়। তখন আর কোনো ঔষধই খাওয়ার দরকার পড়ে না। দৈনন্দিন স্বাভাবিক খাবার দাবার থেকেই আগের মত যৌন শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে। তাই যৌন সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায় সবার আগে হোমিওপ্যাথিকে অগ্রাধিকার দিন। অন্তত এটা বলতে পারি, ট্রিটমেন্টটা যদি যথাযথ হয় তাহলে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিয়ে কেউ ঠকবেন না।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নিয়মিত ঘৃতকুমারী রস পানের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদের নাম। বহুগুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিকঅ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনএ, বি৬,বি২ ইত্যাদি। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরা জুস পান করে থাকেন। আপনি জানেন কি প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস পান করার উপকারিতা?

১। হার্ট সুস্থ রাখতে :- আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ :- অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে :- অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। ৪। ওজন হ্রাস করতে :- ওজন কমাতে অ…

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

পুরুষত্বহীনতা, অকাল বীর্যপাত ও লিঙ্গ উথান সমস্যা দূর করে সুস্থ যৌনজীবন দেয় জাফরান৷

জাফরানের ২০টি ঔষধি গুন বিশ্বের সবচেয়ে দামী মশলা জাফরান। স্যাফরন বা কেশর নামেও এটি পরিচিত৷ এই মশলা নামীদামী অনেক খাবারে ব্যবহৃত হয়। খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রঙ বাড়িয়ে তুলতে এই ‘গোল্ডেন স্পাইস’ এর জুড়ি নেই। তবে জাফরানের কাজ শুধু এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাফরানের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ ঔষধিগুণ। জাফরানে রয়েছে বিস্ময়কর রোগ নিরাময় ক্ষমতা৷মাত্র ১ চিমটে জাফরান আপনাকে প্রায় ২০ টি শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। ১. জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিতরোগ দূর করে।
২. হজমে সমস্যা এবং হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে জাফরান।
৩. জাফরানের পটাশিয়াম আমাদের দেহে নতুন কোষ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কোষ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
৪. জাফরানের নানা উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে সহায়তা করে, এতে করে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷
৫. মেয়েদের মাসিকের অস্বস্তিকর ব্যথা এবং মাসিক শুরুর আগের অস্বস্তি দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই।
৬. নিয়মিত জাফরান সেবনে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা ধরণের সমস্যা যেমন অ্যাজমা,পারটুসিস, কাশি এবং বসে যাওয়া কফ দূর করতে…