সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নারীদের রজঃরোধ (Amenorrhoea) এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

রক্তস্রাব আরম্ভ হয়ে কখনো কখনো ইহা বন্ধ হয়ে যায় তখন এরূপ অবস্থাকে রজঃরোধ (Amenorrhoea) বলা হয়। নারীদের কষ্টকর সমস্যা গুলির মধ্যে রজঃরোধ একটি। তাই এর লক্ষণগুলি প্রকাশ পাওয়া মাত্রই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিয়ে রোগটি নির্মূল করে ফেলা উচিত। তা না হলে অনেক কষ্টকর উপসর্গ সৃষ্টি হয় যা নারীদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই রজঃরোধের কারণ এবং লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখলে এ বিষয়ে সহজেই সচেতন থাকা যায় আর এই যুগে এটা করা প্রত্যেক নারীদেরই উচিত। তবে আক্রান্ত হলে আধুনিক হোমিওপ্যাথির অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ গ্রহণ করুন।

রজঃরোধ (Amenorrhoea) এর কারণ :- রজঃরোধ বিভিন্ন কারণে সৃষ্টি হতে পারে। অলসতা, রক্ত সল্পতা, সঙ্গম দোষ, ঠান্ডা লাগান, জলে বা বৃষ্টিতে ভেজা, দীর্ঘপথ পর্যটন, হঠাৎ শোক, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদির জন্য রজঃরোধ হতে পারে। সাধারণত নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য নারীদের রজঃরোধ হয়ে থাকে। যথা :-
  • গর্ভধারণ ও গর্ভসঞ্চার প্রথম এবং প্রধান কারণ।
  • ফুসফুস, হৃত্পিণ্ড, যকৃত এবং জরায়ু বা ঐ জাতীয় যন্ত্রাদির কোন গোলযোগ দেখা দিলে রজঃরোধ হতে পারে।
  • হঠাৎ কোন কারণে প্রবল মানসিক উদ্বেগ, উত্তেজনা প্রভৃতি দেখা দিলে এই রোগ সৃষ্টি হতে পারে।
  • রক্তহীনতা ও অপুষ্টি জনিত কারণেও হতে পারে।
  • যক্ষারোগে আক্রান্ত হলে এটি দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত হাটাহাটির জন্য জরায়ু ও যোনি অঙ্গের উপর চাপ পড়লে এটি হতে পারে।
  • কখনো কখনো হরমোনের অভাব হলে এই রোগটি দেখা দেয়।
  • এমন অনেক নারী রয়েছেন যাদের মাঝে মাঝে রজঃরোধহয় আবার ঠিক হয়ে যায়। তাদের বলা হয় Habitual Amenorrhoea ।
  • কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ভয় দুঃখ বোধ, শোক, চিন্তা, উদ্বেগ ইত্যাদির কারণে এই রোগটি সৃষ্টি হয়।
  • স্নায়ুবিক দূর্বলতা, দীর্ঘকাল কোন কঠিন রোগে ভোগা ইত্যাদি কারনেও রজঃরোধ সৃষ্টি হতে পারে।
রজঃরোধ (Amenorrhoea) এর লক্ষণসমূহ:- এই রোগে নারীদের বিশেষ বিশেষ কতগুলো লক্ষণ প্রকাশ লাভ করে থাকে। যথা - রোগিনীর তলপেটে বেদনা, মাথা ঘোরা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটভার, পেটে বেদনা, গা বমি বমি ভাব ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। রোগিনী ধীরে ধীরে রোগা হতে থাকে, জীর্ণ শীর্ণ হতে থাকে বা মোটাও হতে পারে। সর্বদাই দূর্বলতা ভাব, ক্লান্তি ভাব থাকে এবং শরীরের পুষ্টি সাধন হয় না। রক্ত শূন্যতার ভাব দেখা দেয়। দেহের রোগ ফেকাসে হয়ে যায়, মুখমন্ডল ও চোখ মলিন দেখায়।
ঋতুস্রাব আরম্ভ হয়ে আবার বন্ধ হয়ে যায় বা কিছু দিন স্থগিত থাকে এবং নানা প্রকার কষ্টকর লক্ষণ দেখা যায়। জ্বর জ্বর ভাব, মাথা ধরা, আক্ষেপ প্রলাপ, হৃত্স্পন্দন, বমি প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। যদি ধীরে ধীরে ঋতুরোধ হয়ে আসে তাহলে উক্ত কষ্টকর লক্ষণ গুলো অনেক সময় প্রকাশ না পেয়ে রোগিনী ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। অক্ষম হয়ে পড়ে। অনেক সময় পায়ের পাতা ফুলে, ক্ষুধাহীনতার ভাব দেখা দেয় এবং অন্যান্য স্নায়ুবিক লক্ষণগুলোও দেখা দেয়। তাই যথাসময়ে এর প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট অতি জরুরি। রোগাক্রমনের সঙ্গে সঙ্গেই অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে ট্রিটমেন্ট নিলে উপসর্গগুলি জটিলতার দিকে না গিয়ে শুরুতেই দূর হয়ে যায় এবং রোগিনী সুস্থতা লাভ করে। তা না হলে দেখা যায় - এই রোগ অর্থাৎ রজঃরোধ (Amenorrhoea) দীর্ঘদিন পর্যন্ত চলতে থাকলে রজস্রাব অধিক কালো হতে থাকে এবং তার সাথে জরায়ুর নানা প্রকার জটিল রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
তথ্যসুত্র: বাংলা সেক্স হেলথ.কম

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

নিরাপদ থাকতে ফেসবুক থেকে মুছে দিন ৮ তথ্য!

বলতে গেলে এখন প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। অসচেতনতায় নিজেরাই অনিরাপদ করছি নিজেদের। সেক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৮টি তথ্য এখনই মুছে ফেলুন।
বর্সাতমানে মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষই সম্পৃক্ত। কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সদস্য। বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তব জগত এখন একাত্মা। বর্তমানে যে হারে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে নিরাপদ থাকাটা বেশ কঠিন। এসব ঘটনাকে আরো বেশি প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।
১. আপনার জন্ম তারিখ: অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্মতারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুন…

নাক ডাকার সমস্যা চিরতরে দূর করবে পানীয় - দেখুন কি ভাবে তৈরী করবেন

নাক ডাকার সমস্যা যে বেশ বিরক্তিকর ও বিব্রতকর, তা নতুন করে বলে দিতে হয় না। যিনি নাক ডাকেন তিনি না বুঝলেও পাশে থাকা মানুষটির ঘুম হারাম হয়ে যায়। তাই নাক ডাকা সমস্যাকে অবহেলা না করে ঘরোয়া ভাবে খুব সহজে এবং বেশ সুস্বাদু উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করুন।
১) গাজর-আপেলের জুস: শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই জুসের রয়েছে শ্বাসনালী কিছুটা চওড়া ও শ্বাসনালীর মিউকাস দ্রুত নিঃসরণের ক্ষমতা, যা নাক ডাকা থেকে মুক্তি দিতে বেশ কার্যকর।  প্রস্তুতপ্রণালি:  ১। ২ টি আপেল ছোটো ছোটো খণ্ডে কেটে নিন এবং ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন।  ২। এবার ২ টি গাজর কেটে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।  ৩। এরপর একটি লেবুর ১/৪ অংশ কেটে রস চিপে এতে দিয়ে দিন এবং ১ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।  ৪। কিছুটা পানি দিয়ে বেশ ভালো করে ব্লেন্ড করে নিয়ে ছেঁকে নিন। এই পানীয়টি প্রতিদিন পান করুন। নাক ডাকার সমস্যা দূরে পালাবে।  ২) হলুদের চা: হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটিও বেশ কার্যকর নাক ডাকা সমস্যার সমাধানে।  প্রস্তুতপ্রণালি: - ১। ২ কাপ পরিমাণ পানি চুলায় বসিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন।  ২। এতে ১ চা চামচ পরিমাণ কাঁচা হলুদ বাটা দিয়ে দিন (গুঁড়ো হলেও চলবে)।…