সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নারীদের জরায়ুর প্রদাহ (Uterine Inflammation) - কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

নারীদের জরায়ু সংক্রান্ত নানা প্রকার রোগ-ব্যাধির মধ্যে ইনফেকশন বা প্রদাহের সমস্যা অন্যতম। বাংলাদেশ তথ্য সমগ্র বিশ্বে নারীরা এই সমস্যায় অধিক হারে আক্রান্ত হয়ে থাকে। দেখা গেছে কিছুটা সচেতন জীবন যাপন করলে জরায়ুর প্রদাহের সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। আর তার জন্য এটি হওয়ার জন্য দায়ী কারণসমূহ এবং প্রকাশিত লক্ষণগুলি সম্পর্কে সুস্পস্ট ধারণা থাকা জরুরি। সাথে সাথে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক অবস্থাতেই একজন রেজিস্টার্ড ও অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এবার আসুন নারীদের জরায়ু প্রদাহের (Uterine Inflammation) কারণ এবং প্রকাশিত উপসর্গগুলি সম্পর্কে জেনে নেই।

নারীদের জরায়ু প্রদাহের (Uterine Inflammation) কারণ :- বিভিন্ন কারণে নারীদের জরায়ু প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এই কারণগুলি প্রত্যেক নারীকেই জেনে রাখা উচিত। তাতে জরায়ু সংক্রান্ত অনেক অনাকাংখিত জটিল সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকা সহজ হবে। নিম্নে প্রধান কারণগুলি উল্লেখ করা হল -
  • ঠান্ডা লাগা, ভিজা সেঁত সেঁতে স্থানে বাস থাকা, ঋতু বন্ধ হওয়া, অতিরিক্ত স্বামী সহবাস করা, কষ্টকর জরায়ুর উত্তেজনা ইত্যাদি কারণে হতে পারে।
  • জরায়ুতে নানা প্রকার জীবানু দূষণ যেমন - মনিলিয়াল ইনফেকশন, ট্রাইকোমনা জাতীয় ইনফেকশনের ফলে প্রদাহ হতে পারে।
  • জরায়ুতে ক্ষত, টিউমার ইত্যাদির জন্য ইহা হতে পারে।
  • ঋতুস্রাবের সময় নোংরা নেকড়া, কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার থেকে এই রোগ হতে পারে।
  • B. coli রোগে অনেক দিন ভুগলে অথবা প্রস্রাব নালী নির্গত জীবানু যোনি পথে প্রবেশ করে এই জাতীয় প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে।
  • গনোরিয়া, সিফিলিস প্রভৃতি রোগ থেকে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
  • গর্ভপাতের পর কোন কিছু Incomplete হলে অথবা Complete এই জাতীয় প্রদাহ হতে পারে অর্থাৎ আজকাল যে ভাবে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়ে থাকে এর ফলেও এই রোগটি অধিক পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • Curate অপারেশন ঠিক মত করাতে না পারলে জরায়ু প্রদাহ দেখা দিতে পারে, এছাড়া অন্যান্য অপারেশনের ফলেও ইহা দেখা দিতে পারে।
  • কেথিটার প্রয়োগের সময় তাতে জীবানু থাকলে তার দ্বারাও এই প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। আবার অনেক সময় প্রদাহ হয় কিন্তু তার সঠিক কারণ পাওয়া যায় না।
  • প্রস্রাবের পর ঠিক মত যত্ন না নেয়ার জন্য জরায়ুর গাত্রে ফুল পড়ে যাওয়ার পর ঘা থাকে এবং ঐ ঘায়ের মধ্যে জীবানু প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
নারীদের জরায়ু প্রদাহের (Uterine Inflammation) লক্ষণসমূহ :- জরায়ু প্রদাহে আক্রান্ত রোগিনীর বিশেষ কতগুলি লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন - মাসিক ঋতু ৮/১০ দিন এমন কি এর চেয়েও বেশি দিন ধরে চলতে পারে এবং ফোটা ফোটা রক্ত ঝরতে পারে। দুই মাসিক ঋতুর মধ্যবর্তী সময়কাল কমে যেতে পারে। জরায়ু থেকে স্রাবের পর অনেক সময় শ্বেতস্রাব নির্গত হতে দেখা দিতে পারে। জরায়ু এবং যোনিতে বেদনার ভাব থাকে, কোন কোন সময় জ্বালা পোড়া করতে পারে এবং সাথে রক্তপাত হতে পারে। জরায়ুর নিচের অংশে এবং যোনিতে চুলকানির ভাব দেখা যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ এই রোগে ভুগতে থাকলে সেপটিক হতে পারে এবং সংকট জনক হয়। কোন কোন সময় ঋতুস্রাবে অত্যন্ত দুর্গন্ধ থাকে এবং ঋতু স্রাব স্বাভাবিক না হয়ে বিশ্রী বর্ণের হতে পারে, কালো কালো জমাট রক্তের টুকরো বের হতে পারে।

জরায়ুতে টিউমার বা ক্যান্সার হলে প্রসব বেদনার মত বেদনা দেখা দিতে পারে এবং বন্ধাত্ব দেখা দিতে পারে। কখনো বা রোগিনীর গায়ে জ্বর থাক, শরীর মেজ মেজ করে, মাথা ঘুরায়, মাথায় যন্ত্রণা হয়, কোন কাজ করতে ইচ্ছে করে না। জরায়ু প্রদাহ বেশি দিন থাকলে সেপটিক হয়ে ফেলোপিয়াম নালী, ডিম্বনালী প্রভৃতি আক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে ডিম্বাশয় ও ডিম্বনালীর ক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে এবং নানাবিধ জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই রোগ হয়েছে বুঝা মাত্র অর্থাৎ সমস্যাটি ধরা পড়া মাত্র অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে তাত্ক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা উচিত।

নারীদের জরায়ুর প্রদাহের প্রাথমিক লক্ষণ রূপে শীত শীত ভাব এবং জ্বর দেখা দিয়ে থাকে। জ্বর এবং তলপেটে বেদনা এর প্রধান লক্ষণগুলির অন্যতম। জরায়ু স্থানে স্বল্প চাপ দিলে অসহ্য বেদনা পায়, দপদপানি বেদনা, খোচামারা ব্যথা, সামান্য নড়াচড়ার ফলে বেদনার উদ্রেক হয়, পিপাসা, গা বমি বমি, কোথ পারা ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

মুত্রাশয়ের উত্তেজনা, মুত্রত্যাগ সহজে হয় না, জরায়ুর স্ফীতিভাব দেখা যায়, রোগিনী চিত হয়ে শুতে পারে না এবং ঠিক মত বসতে পারে না। উঠে বসলে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়। পুরাতন জরায়ু প্রদাহ তরুনাবস্থার পর ইহাতে আরম্ভ হয়। পুরাতন অবস্থায় স্ফীতি ও কঠিন হয়। যোনির নিকটস্থ অংশে ক্ষত হয়ে পুজ স্রাব হয় ও শ্বেত প্রদর হয়ে থাকে। এই রোগে নিশ্চিত আরোগ্যদানকারী সফল চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সাইন্স এ। একজন অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই নারীদের জরায়ুর প্রদাহ এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় জটিল উপসর্গ খুব দক্ষতার সাথে নির্মূল করে থাকেন।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

নিরাপদ থাকতে ফেসবুক থেকে মুছে দিন ৮ তথ্য!

বলতে গেলে এখন প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। অসচেতনতায় নিজেরাই অনিরাপদ করছি নিজেদের। সেক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৮টি তথ্য এখনই মুছে ফেলুন।
বর্সাতমানে মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষই সম্পৃক্ত। কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সদস্য। বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তব জগত এখন একাত্মা। বর্তমানে যে হারে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে নিরাপদ থাকাটা বেশ কঠিন। এসব ঘটনাকে আরো বেশি প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।
১. আপনার জন্ম তারিখ: অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্মতারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুন…

নাক ডাকার সমস্যা চিরতরে দূর করবে পানীয় - দেখুন কি ভাবে তৈরী করবেন

নাক ডাকার সমস্যা যে বেশ বিরক্তিকর ও বিব্রতকর, তা নতুন করে বলে দিতে হয় না। যিনি নাক ডাকেন তিনি না বুঝলেও পাশে থাকা মানুষটির ঘুম হারাম হয়ে যায়। তাই নাক ডাকা সমস্যাকে অবহেলা না করে ঘরোয়া ভাবে খুব সহজে এবং বেশ সুস্বাদু উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করুন।
১) গাজর-আপেলের জুস: শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই জুসের রয়েছে শ্বাসনালী কিছুটা চওড়া ও শ্বাসনালীর মিউকাস দ্রুত নিঃসরণের ক্ষমতা, যা নাক ডাকা থেকে মুক্তি দিতে বেশ কার্যকর।  প্রস্তুতপ্রণালি:  ১। ২ টি আপেল ছোটো ছোটো খণ্ডে কেটে নিন এবং ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন।  ২। এবার ২ টি গাজর কেটে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।  ৩। এরপর একটি লেবুর ১/৪ অংশ কেটে রস চিপে এতে দিয়ে দিন এবং ১ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।  ৪। কিছুটা পানি দিয়ে বেশ ভালো করে ব্লেন্ড করে নিয়ে ছেঁকে নিন। এই পানীয়টি প্রতিদিন পান করুন। নাক ডাকার সমস্যা দূরে পালাবে।  ২) হলুদের চা: হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটিও বেশ কার্যকর নাক ডাকা সমস্যার সমাধানে।  প্রস্তুতপ্রণালি: - ১। ২ কাপ পরিমাণ পানি চুলায় বসিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন।  ২। এতে ১ চা চামচ পরিমাণ কাঁচা হলুদ বাটা দিয়ে দিন (গুঁড়ো হলেও চলবে)।…