Disqus for digitalmesh

রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৪

নারীদের জরায়ুর প্রদাহ (Uterine Inflammation) - কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

  • ১০:১৭ PM

    নারীদের জরায়ু সংক্রান্ত নানা প্রকার রোগ-ব্যাধির মধ্যে ইনফেকশন বা প্রদাহের সমস্যা অন্যতম। বাংলাদেশ তথ্য সমগ্র বিশ্বে নারীরা এই সমস্যায় অধিক হারে আক্রান্ত হয়ে থাকে। দেখা গেছে কিছুটা সচেতন জীবন যাপন করলে জরায়ুর প্রদাহের সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। আর তার জন্য এটি হওয়ার জন্য দায়ী কারণসমূহ এবং প্রকাশিত লক্ষণগুলি সম্পর্কে সুস্পস্ট ধারণা থাকা জরুরি। সাথে সাথে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক অবস্থাতেই একজন রেজিস্টার্ড ও অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এবার আসুন নারীদের জরায়ু প্রদাহের (Uterine Inflammation) কারণ এবং প্রকাশিত উপসর্গগুলি সম্পর্কে জেনে নেই।

    নারীদের জরায়ু প্রদাহের (Uterine Inflammation) কারণ :- বিভিন্ন কারণে নারীদের জরায়ু প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এই কারণগুলি প্রত্যেক নারীকেই জেনে রাখা উচিত। তাতে জরায়ু সংক্রান্ত অনেক অনাকাংখিত জটিল সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকা সহজ হবে। নিম্নে প্রধান কারণগুলি উল্লেখ করা হল -
    • ঠান্ডা লাগা, ভিজা সেঁত সেঁতে স্থানে বাস থাকা, ঋতু বন্ধ হওয়া, অতিরিক্ত স্বামী সহবাস করা, কষ্টকর জরায়ুর উত্তেজনা ইত্যাদি কারণে হতে পারে।
    • জরায়ুতে নানা প্রকার জীবানু দূষণ যেমন - মনিলিয়াল ইনফেকশন, ট্রাইকোমনা জাতীয় ইনফেকশনের ফলে প্রদাহ হতে পারে।
    • জরায়ুতে ক্ষত, টিউমার ইত্যাদির জন্য ইহা হতে পারে।
    • ঋতুস্রাবের সময় নোংরা নেকড়া, কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার থেকে এই রোগ হতে পারে।
    • B. coli রোগে অনেক দিন ভুগলে অথবা প্রস্রাব নালী নির্গত জীবানু যোনি পথে প্রবেশ করে এই জাতীয় প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে।
    • গনোরিয়া, সিফিলিস প্রভৃতি রোগ থেকে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
    • গর্ভপাতের পর কোন কিছু Incomplete হলে অথবা Complete এই জাতীয় প্রদাহ হতে পারে অর্থাৎ আজকাল যে ভাবে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়ে থাকে এর ফলেও এই রোগটি অধিক পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    • Curate অপারেশন ঠিক মত করাতে না পারলে জরায়ু প্রদাহ দেখা দিতে পারে, এছাড়া অন্যান্য অপারেশনের ফলেও ইহা দেখা দিতে পারে।
    • কেথিটার প্রয়োগের সময় তাতে জীবানু থাকলে তার দ্বারাও এই প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। আবার অনেক সময় প্রদাহ হয় কিন্তু তার সঠিক কারণ পাওয়া যায় না।
    • প্রস্রাবের পর ঠিক মত যত্ন না নেয়ার জন্য জরায়ুর গাত্রে ফুল পড়ে যাওয়ার পর ঘা থাকে এবং ঐ ঘায়ের মধ্যে জীবানু প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
    নারীদের জরায়ু প্রদাহের (Uterine Inflammation) লক্ষণসমূহ :- জরায়ু প্রদাহে আক্রান্ত রোগিনীর বিশেষ কতগুলি লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন - মাসিক ঋতু ৮/১০ দিন এমন কি এর চেয়েও বেশি দিন ধরে চলতে পারে এবং ফোটা ফোটা রক্ত ঝরতে পারে। দুই মাসিক ঋতুর মধ্যবর্তী সময়কাল কমে যেতে পারে। জরায়ু থেকে স্রাবের পর অনেক সময় শ্বেতস্রাব নির্গত হতে দেখা দিতে পারে। জরায়ু এবং যোনিতে বেদনার ভাব থাকে, কোন কোন সময় জ্বালা পোড়া করতে পারে এবং সাথে রক্তপাত হতে পারে। জরায়ুর নিচের অংশে এবং যোনিতে চুলকানির ভাব দেখা যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ এই রোগে ভুগতে থাকলে সেপটিক হতে পারে এবং সংকট জনক হয়। কোন কোন সময় ঋতুস্রাবে অত্যন্ত দুর্গন্ধ থাকে এবং ঋতু স্রাব স্বাভাবিক না হয়ে বিশ্রী বর্ণের হতে পারে, কালো কালো জমাট রক্তের টুকরো বের হতে পারে।

    জরায়ুতে টিউমার বা ক্যান্সার হলে প্রসব বেদনার মত বেদনা দেখা দিতে পারে এবং বন্ধাত্ব দেখা দিতে পারে। কখনো বা রোগিনীর গায়ে জ্বর থাক, শরীর মেজ মেজ করে, মাথা ঘুরায়, মাথায় যন্ত্রণা হয়, কোন কাজ করতে ইচ্ছে করে না। জরায়ু প্রদাহ বেশি দিন থাকলে সেপটিক হয়ে ফেলোপিয়াম নালী, ডিম্বনালী প্রভৃতি আক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে ডিম্বাশয় ও ডিম্বনালীর ক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে এবং নানাবিধ জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই রোগ হয়েছে বুঝা মাত্র অর্থাৎ সমস্যাটি ধরা পড়া মাত্র অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে তাত্ক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা উচিত।

    নারীদের জরায়ুর প্রদাহের প্রাথমিক লক্ষণ রূপে শীত শীত ভাব এবং জ্বর দেখা দিয়ে থাকে। জ্বর এবং তলপেটে বেদনা এর প্রধান লক্ষণগুলির অন্যতম। জরায়ু স্থানে স্বল্প চাপ দিলে অসহ্য বেদনা পায়, দপদপানি বেদনা, খোচামারা ব্যথা, সামান্য নড়াচড়ার ফলে বেদনার উদ্রেক হয়, পিপাসা, গা বমি বমি, কোথ পারা ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

    মুত্রাশয়ের উত্তেজনা, মুত্রত্যাগ সহজে হয় না, জরায়ুর স্ফীতিভাব দেখা যায়, রোগিনী চিত হয়ে শুতে পারে না এবং ঠিক মত বসতে পারে না। উঠে বসলে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়। পুরাতন জরায়ু প্রদাহ তরুনাবস্থার পর ইহাতে আরম্ভ হয়। পুরাতন অবস্থায় স্ফীতি ও কঠিন হয়। যোনির নিকটস্থ অংশে ক্ষত হয়ে পুজ স্রাব হয় ও শ্বেত প্রদর হয়ে থাকে। এই রোগে নিশ্চিত আরোগ্যদানকারী সফল চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সাইন্স এ। একজন অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই নারীদের জরায়ুর প্রদাহ এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় জটিল উপসর্গ খুব দক্ষতার সাথে নির্মূল করে থাকেন।
    আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ঢাকা
    ডাক্তার হাসান; ডি. এইচ. এম. এস(BHMC)
    যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
    ফোন :- +88 01727-382671 এবং +88 01922-437435
    স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।