সর্বশেষ আপডেট
অপেক্ষা করুন...
শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করেন মাহাবুবা আক্তার। সাধারণত ব্যাংক থেকে টাকা তুললে তিনি মুঠোফোনে খুদে বার্তা পান। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি মুঠোফোনে এ রকম দুটি খুদে বার্তা পেয়েছেন, যাতে বলা হয় রোকেয়া সরণিতে অন্য একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে দু’বারে ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। কিন্তু তাঁর এটিএম কার্ডটি বাসাতেই তাঁর কাছে আছে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো খুদে বার্তাটি ভুলভাবে এসেছে। এরপর ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করে দেখেন সত্যিই ৮০ হাজার টাকা কম। এরপর ভুক্তভোগী এই গ্রাহক ইবিএলের গ্রাহকসেবা বিভাগে অভিযোগ করেন।

তখন তাঁকে জানানো হয়, এ রকম ঘটনা আরও কয়েকজনের সঙ্গেই ঘটেছে। গ্রাহকসেবা বিভাগের পরামর্শে সঙ্গে সঙ্গে তার কার্ডে লেনদেন বন্ধ করে দেন মাহাবুবা। মাহাবুবা আরও বলেন, ইবিএল থেকে তিনি একসঙ্গে ২০ হাজারের বেশি টাকা তুলতে পারতেন না। কিন্তু তার হিসাব থেকে দু’বারে ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে গ্রাহকসেবা বিভাগ তাকে বলেছে, ১ হাজার টাকার নোট হলে একবারে ৪০ হাজার টাকা ওঠানো সম্ভব। শুধু মাহবুবা আক্তারই নয়; গত শুক্রবার একদিনে এভাবেই ইবিএল’র ২১ জন গ্রাহকের অজান্তে টাকা তুলে নিয়েছে একটি জালিয়াত চক্র। যদিও এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে এ ধরনের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতারও করে ডিবি পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, এটিএম বুথের সিপিইউ থেকে পেনড্রাইভের মাধ্যমে কাস্টমারের তথ্য চুরি করে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে কাস্টমারের পাসওয়ার্ড/পিনকোড চুরি, কার্ড রিডার অ্যান্ড রাইটারের মাধ্যমে ল্যাপটপের সহায়তায় সংগৃহীত তথ্য ব্যাংক কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রিপে ধারণ করার মাধ্যমে নতুন কার্ড তৈরি করে। একই সঙ্গে তৈরি করা ক্লোন কার্ড ও গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত পাসওয়ার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন করে জালিয়াত চক্র।
তবে ইবিএল’র এই ঘটনা সাইবার সন্ত্রাস, নাকি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক এটিকে ‘স্কিমিং জালিয়াতি’ বলে মনে করছে। ইতোমধ্যে সব ব্যাংককে এই ‘স্কিমিং জালিয়াতি’র বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির ঘটনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি ব্যাংকের নিরাপত্তাজনিত কোনো দুর্বলতা পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, বুথ ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় সবগুলো ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এস কে সুর চৌধুরী বলেন, তদন্তের পর যাদেরকে দায়ী হিসেবে পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যাংকেরও যদি নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি আমরা খুঁজে পাই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহকের ঝুঁকিক্রমেই বাড়ছে।

এক্ষেত্রে অবকাঠামো, কার্ড ও তথ্যভান্ডার নিরাপত্তায় উপযুক্ত প্রযুক্তির অনুপস্থিতির পাশাপাশি রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রযুক্তিজ্ঞানের অভাব। এমনকি এ বিষয়ে সচেতন নয় ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পরিষদও। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত তথ্য নিরাপত্তা জরিপ অনুযায়ী দেখা যায়, দেশের ব্যাংকগুলোর ৩৪ শতাংশই অতি উচ্চমাত্রা ও ২৬ শতাংশ উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে। এটিএম ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে, এমন ব্যাংকের ৪০ শতাংশই ব্যবহার করছে নিম্নমানের প্রযুক্তি। দেশের ৪৭ শতাংশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রযুক্তিজ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে ৭৬ শতাংশ ব্যাংকারের, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতার অভাব রয়েছে ৪৯ শতাংশ আর ২৪ শতাংশ ব্যাংককর্মী হালনাগাদ প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন নন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, এটা সাইবার আক্রমণ, নাকি প্রযুক্তিগত সমস্যা তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে এটা বের করার পরে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করবে এবং সে অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা বলছেন, তারা জানতে পেরেছেন কয়েকটি ব্যাংকের ক্যাশ মেশিনে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ লাগিয়ে রেখেছিল কেউ। যে দুই-তিন দিন এই ‘স্কিমিং ডিভাইস’ লাগানো ছিল সেসময় যে গ্রাহকরা এই মেশিনগুলো ব্যবহার করেছেন তাদের কার্ডের তথ্য চুরি হয়ে গেছে। কার্ডের তথ্য চুরি করে সেই তথ্য ব্যবহার করে ক্লোন-কার্ড তৈরি করা যায়। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তারা যদি এই ক্লোন কার্ডের পিন নাম্বারও জোগাড় করতে পারে তাহলে কার্ডটি ব্যবহার করে তারা টাকাও তুলে নিতে পারে। আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি এরকমই কিছু আসলে ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সব ব্যাংককে এই ‘স্কিমিং জালিয়াতি’র বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে। তিনি আরোও বলেন, আমরা সব ব্যাংককে ই-মেইল করে বলেছি তাদের এটিএম বুথগুলোতে এরকম কোন স্কিমিং ডিভাইস কেউ লাগিয়ে রেখেছে কিনা তা যাচাই করে দেখতে।

যাদের কার্ড এভাবে জালিয়াতি হয়েছে সেই সব গ্রাহককে অবিলম্বে জানিয়ে পুরানো কার্ড বাতিল করে নতুন কার্ড দেয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই কর্মকর্তা বলেন, শুধু ইস্টার্ন ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকেও তারা গ্রাহকদের টাকা চুরি যাওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন। ব্যাংকিং সেবায় প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহককে ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রযুক্তির সর্বশেষ সংযোজন অতীব জরুরি উল্লেখ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশেন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুর বলেন, এজন্য ব্যাংকগুলোকে অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে। বাড়াতে হবে দক্ষ জনবলও। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যাংক হিসাব কিংবা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ চার ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন করে ব্যাংক। শুরুটা হয় আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে এর বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়। এরপর দেয়া অনুমোদন। আর সর্বশেষ ধাপ হলো বিতরণ।

মানসম্পন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে হলে এ চারধাপের জন্যই পৃথক জনবল প্রয়োজন। তবে দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকে প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন প্রয়োাজনীয় জনবল নেই। দেখা গেছে, একই ব্যক্তি একাধিক বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইস্টার্ণ ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ২১ জন গ্রাহকের একাউন্টে গচ্ছিত টাকা তুলে নেয় জালিয়াতরা। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে এটিএম বুথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক তাদের নিজস্ব এটিএম বুথ ছাড়া অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তোলার সুযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের নামে ৯০ লাখের বেশি ব্যাংক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ লাখ ডেবিট কার্ড এবং পাঁচ লাখ ক্রেডিট কার্ড। অন্যদিকে দেশজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় সাত হাজার এটিএম বুথ রয়েছে।তথ্য সূত্র: www.dailyinqilab.com/details/4583
আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ঢাকা
ডাক্তার হাসান; ডি. এইচ. এম. এস(BHMC)
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- +88 01727-382671 এবং +88 01922-437435
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
[X]