সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঔষুধ ছাড়াই সারিয়ে তুলুন শরীরের যে কোন স্থানের ফোঁড়া

ত্বকের উপর ছোট, শক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক লালা পিন্ড যখন আস্তে আস্তে বড় ও নরম হতে থাকে যার মুখটি হলুদাভ-সাদা বর্ণ ধারণ করে এবং এর মধ্যে পুঁজ সৃষ্টি হয়ে ব্যথা বাড়তে থাকে তখন তাকে ফোঁড়া বা বিষফোঁড়া বলা হয়। ত্বকের চুলের গোঁড়ায় স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণেই ফোঁড়া হয়ে থাকে। সাধারণত মুখ, ঘাড়, বগল, কাঁধ ও নিতম্বে ফোঁড়া হয়ে থাকে। চোখের পাতায় যে ফোঁড়া হয় তাকে আজনি বা অজন বা অজনিকা বলে। যখন অনেক গুলো ফোঁড়া একসাথে হয় তখন তাকে carbuncles বলে। পুষ্টির ঘাটতি ও অপরিছন্নতা এবং কোন রাসায়নিক দ্রবের সংস্পর্শের কারণেই ফোঁড়া হয়ে থাকে। যদি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে ও ডায়াবেটিস থাকে তাহলে প্রায়ই ফোঁড়া হতে পারে। বেশিরভাগ ফোড়াই অক্ষতিকর এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। যদি ফোঁড়াতে তীব্র ব্যথা হয় ও না ফাটে এবং জ্বর আসে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কিছু সহজলভ্য উপাদানের মাধ্যমে ফোঁড়ার ব্যথা ও অস্বস্তি কমিয়ে নিরাময় করা যায়। এই উপাদান গুলো ব্যবহারের মাধ্যমে ফোঁড়া নরম হয়ে ফেটে ব্যাকটেরিয়া বাহির হয়ে যায় ও ইনফেকশন কমায়। ফোঁড়ার নিরাময়ে ব্যবহৃত উপাদান গুলো হচ্ছে :
১। নিম :- অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে বিধায় নিম ত্বকের সংক্রমণ রোধ করতে পারে। তাই ফোঁড়া নিরাময়েও নিম কার্যকরী ভূমিকা রাখে। একমুঠো নিম পাতা পিষে পেস্ট তৈরি করে ফোঁড়ার উপর লাগান অথবা ১/২ গ্লাস পানিতে একমুঠো নিমপাতা দিয়ে সিদ্ধ করেতে থাকুন যতক্ষণ না পানিটি অর্ধেক পরিমাণ হয়ে আসে। এবার মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। উষ্ণ গরম থাকা অবস্থায় আক্রান্ত স্থানটি এই মিশ্রণটি দিয়ে ধুয়ে নিন। এভাবে দিনে ৩-৪ বার করুন। 

২। কালো জিরা :- কালোজিরা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ফোঁড়া নিরাময়েও সাহায্য করে। কালোজিরার ঔষধি গুনাগুণ ফোঁড়ার ব্যথা কমাতে সক্ষম। কিছু কালোজিরা পিষে ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে নিন। ফোঁড়ার উপরে কালোজিরার পেস্ট লাগান। কালোজিরার তেল ফোঁড়াতে ব্যবহার করতে পারেন। ঠান্ডা অথবা গরম পানীয়ের সাথে আধা চা চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে পান করুন। বেশ কিছুদিন দিনে দুইবার এই পানীয়টি পান করুন। 

৩। হলুদ :- ফোঁড়ার নিরাময়ে হলুদ সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রতিকার। কারণ এতে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি, রক্ত বিশুদ্ধকারী ও নিরাময়কারী উপাদান আছে যা ফোঁড়াকে নিজে নিজেই গলে যেতে সাহায্য করে। অভ্যন্তরীণ ভাবে হলুদ গ্রহণ করলে তিন দিনের মধ্যে ফোঁড়া ভালো হয়ে যায়। ভালো ফল পাওয়ার জন্য গরম পানিতে এক চামচ হলুদ মিশিয়ে দিনে তিনবার পান করুন। যদি আপনি এটা সেবন করতে না পারেন তাহলে হলুদ ও পানি ভালোভাবে পিষে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর মিশ্রণটি দিনে তিনবার ফোঁড়ার উপর লাগান। 
 
৪। গরম ভাপ:- গরম ভাপ ফোঁড়াকে নরম হয়ে ফেটে যেতে সাহায্য করে। গরম পানিতে লবণ যোগ করলে এর কার্যকারিতা আরো দ্রুত হয়। এতে ব্যথা কমে ও পুঁজ বাহির হয়ে যায়। ফোঁড়া ও এর চারপাশের ত্বক হাল্কা সাবান ও উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। উষ্ণ গরম পানিতে লবণ মিশান। পরিষ্কার নরম কাপড় এই পানিতে চুবিয়ে কাপড়টি নিংড়ে অতিরিক্ত পানি ঝড়িয়ে নিন। এবার ফোঁড়ার উপরে এই গরম কাপড়টি রেখে দিন ১৫-২০ মিনিট। এভাবে দিনে ৩-৪ বার গরম ভাপ দিন। ভাপ দেয়ার পর কাপড়টি ভালো ভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিবেন। সম্ভব হলে প্রতিবার নতুন করে কাপড় নিন এবং ব্যবহৃত কাপড়টি ফেলে দিন। এছাড়াও আদা-চা এর ভাপ নেয়া, ইপসম লবণ, টি ট্রি অয়েল, পাউরুটি উষ্ণ গরম দুধে বা পানিতে ভিজিয়ে ফোঁড়ার উপর লাগানো যায়, আলু, রসুন ও পেঁয়াজ ও ফোঁড়ার নিরাময়ে ব্যবহার করা যায়।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নিয়মিত ঘৃতকুমারী রস পানের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদের নাম। বহুগুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিকঅ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনএ, বি৬,বি২ ইত্যাদি। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরা জুস পান করে থাকেন। আপনি জানেন কি প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস পান করার উপকারিতা?

১। হার্ট সুস্থ রাখতে :- আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ :- অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে :- অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। ৪। ওজন হ্রাস করতে :- ওজন কমাতে অ…

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

পুরুষত্বহীনতা, অকাল বীর্যপাত ও লিঙ্গ উথান সমস্যা দূর করে সুস্থ যৌনজীবন দেয় জাফরান৷

জাফরানের ২০টি ঔষধি গুন বিশ্বের সবচেয়ে দামী মশলা জাফরান। স্যাফরন বা কেশর নামেও এটি পরিচিত৷ এই মশলা নামীদামী অনেক খাবারে ব্যবহৃত হয়। খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রঙ বাড়িয়ে তুলতে এই ‘গোল্ডেন স্পাইস’ এর জুড়ি নেই। তবে জাফরানের কাজ শুধু এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাফরানের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ ঔষধিগুণ। জাফরানে রয়েছে বিস্ময়কর রোগ নিরাময় ক্ষমতা৷মাত্র ১ চিমটে জাফরান আপনাকে প্রায় ২০ টি শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। ১. জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিতরোগ দূর করে।
২. হজমে সমস্যা এবং হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে জাফরান।
৩. জাফরানের পটাশিয়াম আমাদের দেহে নতুন কোষ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কোষ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
৪. জাফরানের নানা উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে সহায়তা করে, এতে করে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷
৫. মেয়েদের মাসিকের অস্বস্তিকর ব্যথা এবং মাসিক শুরুর আগের অস্বস্তি দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই।
৬. নিয়মিত জাফরান সেবনে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা ধরণের সমস্যা যেমন অ্যাজমা,পারটুসিস, কাশি এবং বসে যাওয়া কফ দূর করতে…