সর্বশেষ আপডেট
অপেক্ষা করুন...
বুধবার, ৯ মার্চ, ২০১৬

যারা বিসিএস পরীক্ষা দেবেন, প্রস্তুতি পর্বে তাদের প্রথমেই যেখানে পরিবর্তনটা আনতে হবেসেটা হলো মাইন্ডসেটে। পরীক্ষার ধরণ বদলে গেছে, এরমানে, পরীক্ষার ধরণ আপনার সাথে যারা পরীক্ষা দেবে, সবার জন্যই বদলে গেছে। আপনি এখানে ইউনিক কেউ নন। আগেরপরীক্ষাগুলি সহজ ছিল, এর মানে কিন্তুএ-ই নয়যে, আগের পরীক্ষাগুলি দিয়েযারা চাকরি পেয়েছেন, তারাআপনার চাইতে কম মেধাবী। পরীক্ষার ধরণেরওপর ওদের কোনো হাত ছিল না। এখনকার মতো পরীক্ষা হলেওরাও নিজে দেরকে ওভাবেকরেই প্রস্তুতকরতো। আচ্ছা, আপনি উনাদের সময়ে পরীক্ষা দিলেই চাকরিটা পেয়ে যেতেন? শিওর? কাউকে আপনারচাইতে অযোগ্য বলার আগে উনারসাথেপ্রতিযোগিতা করে উনাকে হারিয়ে দিয়ে এরপরবলুন। আপনার নিজেকে যোগ্য বলার আগে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেখান কাজে,মুখে নয়। মুখে কোনোকিছু বলে ফেলার জন্য কোনো বাড়তি যোগ্যতা লাগে না, শুধু কথা বলতে জানলেই হয়।

প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অথচসেটা ঠিকমতো কাজেলাগছে না। কেন? আপনার প্রস্তুতির ধরণঠিক নেই। নিজে যা করছেন, সেটাহয়তো ঠিক, কিন্তুযথেষ্ট নাও হতেপারে। নোকিয়া কোম্পানি সবকিছুই ঠিকঠাক করছিলো, কাজে কোনোফাঁকি ছিল না, ওদের প্রোডাক্টের কোয়ালিটিও ভাল ছিল, কিন্তু তাসত্ত্বেও বন্ধ হয়েগেল। কেন? ওরাযে পদ্ধতিতে ব্যবসাকরছিলো, সেটাকে বদলানোর, প্রোডাক্টকে আপডেটকরার সময় এসে গিয়েছিলো, কিন্তু ওরাসেটা না করেইওদের মতো করেব্যবসা করে যাচ্ছিলো। ওদের যারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, তারাতো আরবসেনেই! অন্যরা যখনপরিবর্তনকে সহজে গ্রহণকরছিল, তখন ওরা পুরোনোকেই আঁকড়ে ধরেবসেছিল। শুধু ঠিককাজটি করাটাই বড় কথা নয়, দেখতে হবে সে ঠিককাজটি করা কতটুকুদরকার। আপনি কেমন, সেটা আপনি নিজেকেকেমন ভাবেন, সেভাবনা নির্ধারণ করে দেয় না। আপনি আসলেই কেমন, সেটাআপনাকে বুঝতে হবে।নিজের কাছে সবারইনিজেকে সেরা মনেহয়, অন্য কারোর চাইতে ভালম নেহয়। সেটা আপনাকেকিছু বোকা আত্মতৃপ্তি ছাড়াআর কিছুই দেবেনা। আপনি যেমনছিলেন, তেমনই থেকে যাবেন। আপনি নিজেকেকী ভাবেন, সেটাকেউই কেয়ার করেনা। আপনি আসলেকী, সেটাই অন্যরা দেখে। আপনার মূল্যায়ন আপনার কাজের মাধ্যমে,আপনার ভাবনার মাধ্যমে নয়।মুখে মুখে কিংবামনে মনে হাতিঘোড়া মেরেকী লাভ? নিজের কল্পনার রাজ্যে সবাইইতো রাজা।

আপনি যা যা পারেননা, তা তাপারা দরকার কিনা, সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। যদি দরকার হয়, তবে সেসবকিছু কী ভাবে পারতে হয়, সেটানিয়ে ভাবুন। একটাকাগজে লিখে ফেলুন, আপনার কোন কোনদুর্বলতা আপনাকে কাটিয়ে উঠতে হবে। এক্ষেত্রে নিজেকে বিন্দুমাত্রও ছাড় দেয়াযাবে না। আপনিওটা পারেন না, এটা কোনো সমস্যানয়। সমস্যা হলো, ওটা আপনার পা রাদরকার কিন্তু পারার জন্য আপনি কোনো বুদ্ধি বের করছেননা, সেটা। যারা বিসিএস ক্যাডার হতে পারে আর যারাপারে না, তাদেরমধ্যে পার্থক্য বেশিনয়। তিন জায়গাতেপার্থক্য আছেবলে মনে হয়।এক। প্রস্তুতি নেয়ারধরণে। দুই। পরীক্ষা দেয়ারধরণে। তিন। ভাগ্যে। আপনি তৃতীয়টাতে বিশ্বাস করেননা? আচ্ছা ঠিকআছে, বিসিএস পরীক্ষা দিন, বিশ্বাস করতে বাধ্যহবেন। যেকোনো পরীক্ষায় ভালকরার ৪টি বুদ্ধিআছে: পরিশ্রম কীনিয়েকরবো, পরিশ্রম কেনকরবো, পরিশ্রম কীভাবেকরবো—এই ৩টিজেনেবুঝে সঠিকভাবে কঠোরপরিশ্রম করা। বিসিএস পরীক্ষা দেশেরসবচাইতে কঠিনপ রীক্ষা। এ পরীক্ষায় ভালকরতে বুদ্ধিমত্তা কিংবামেধার চাইতে পরিশ্রমের মূল্যবহুগুণে বেশি। বুদ্ধিমত্তা বড়ো জোর আপনি কীভাবে করে সবচাইতে ভালভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন, সেটাঠিক করে দিতেপারে। কিন্তু আসল কাজটাই হল কিছু নির্ঘুম রাতকাটানো অক্লান্ত পরিশ্রমের।

আপনি সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত যে বিষয়ে আপনি এখনও সফলহতে পারেননি, সেবিষয়ে কোনো কথাই বলবেন না,  চুপচাপ কাজ করে যাবেন, চূড়ান্ত সাফল্য আসার পর কথা বলবেন। অবশ্য, সাফল্য আসারপর কথা বলতেওহয় না। সাফল্যনিজেই অনেক জোরে কথা বলতে পারে! আপনি সফল হওয়ার পর, আপনি কী ভাবে সফল হলেন, সেটাঅন্যরা নিজ দায়িত্বেই জেনেনেবে, আপনাকে নিজথেকে কিছুই বলতে হবে না। আমারকাছে মনে হয়, মুখ বন্ধ রেখে কাজ করলে আপনার কাজটা সহজ হবে।কোনো বিষয়ে বলারমতো অবস্থান তৈরি নাহলে সেবিষয়ে না বলাইভাল। আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে কীভাবে অ্যাকাডেমিক পরীক্ষায় ভালকরা যায়, আমিবলি, “জানি না”। কারণ সেটা আমি জানি কিংবানা জানি, আমার অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট বলেদেয়, সেটা নিয়েবলার কোনো যোগ্যতা আমার নেই। অনার্স-মাস্টার্সে সেকেন্ড ক্লাস পাওয়া স্টুডেন্ট ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার বুদ্ধি দেবে কীভাবে? আপনি যানিয়ে বাহবা পাওয়ার যোগ্য নন, তানিয়ে মিথ্যে বাহবা শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে কখনোই প্রকৃত বাহবা পাবেন না।

বড় পরীক্ষায় ভাল করারজন্য অন্ধের মতো খাটলে বেশি একটাভাল রেজাল্ট করাযায় বলে মনেহয় না। কারোর প্রিপারেশন টেকনিক ফলো করার আগে এটাঅন্তত ১০ বারভেবে নিন, উনিফলো করার মত কিনা। আপনার প্রতিদিনের পারফরম্যান্স যেন আগের দিনের চাইতে ভালহয়, এটা মাথায়রেখে কাজ করবেন। পরীক্ষায় নতুন নতুন নানান বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, এর মানে হল, আপনাকেও প্রস্তুতির ধরণেনতুনত্ব আনতে হবে।আপনার আগে কেউ কম পড়ে পার পেয়ে গেছে মানে কিছুতেই এটা নয়যে, আপনিও কমপড়ে পার পেয়ে যাবেনই!
প্রতিটি পরীক্ষাতেই কিছুকিছু দিক থাকে যেগুলি নিয়ে কেউই আগে থেকে কিছুবলতে পারে না। ওই ব্যাপারগুলিকে যেযত সুন্দরভাবে হ্যান্ডেল করতে পারবে, তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা ততবেশি। আপনাকে কোনোবিষয়েই অনেক পণ্ডিতহতে হবে না। যেটা করতে হবে সেটা হল, সব বিষয়েরই বিভিন্ন বেসিকগুলি ভালোভাবে জানতেহবে। এক্ষেত্রে যেযত বেশি জেনেনিতে পারবে, প্রতিযোগিতায় সেততবেশি এগিয়ে থাকবে। যে প্রশ্নগুলির উত্তরবেশিরভাগ ক্যান্ডিডেটই জানেনা, সেগুলির উত্তরআপনি জানার অর্থহলো, আপনি বেশিরভাগের চাইতে এগিয়ে আছেন এবংপরীক্ষার পর এইঅজুহাত দেখাতে হবেনা যে ‘প্রশ্নকঠিন ছিল, তাইপারিনি’। যেউত্তর করতে পারেনা, সে-ইবলেপ্রশ্ন কঠিন।যেমন, আমার কাছে অনার্সের পরীক্ষাগুলির প্রায়সব প্রশ্নই কঠিনছিল কারণ আমিপ্রায় প্রশ্নেরই উত্তরপারতাম না। বিভিন্ন ধরণে রপ্রশ্নের উত্তর দেয়ারক্ ষমতা বাড়ান। পড়ার অভ্যাস না বাড়ালে এটি সম্ভব নয়। যে বেশি বইপড়ে, তার ভেতরেএক ধরণের শক্তি তৈরি হয়। সেই শক্তিই তাকে অন্যদের চাইতে অনেকদূর এগিয়ে রাখে। রিডিং হ্যাবিটের চাইতেবড় ঐশ্বর্য কমইআছে। ভাল বইএবংলেখা পড়লে, ভাল মুভি দেখলে, ভাল জায়গায় ঘুরতে গেলে আপনার ভাবনারউন্নতি ঘটবে। এতে আপনার লেখার মানঅন্যদের চাইতে ভাল হবে। আপনাকে কেন অন্যদের চাইতে বেশি মার্কস দেয়া হবেযদি আপনিও অন্যদের মতোই হন? আপনি আপনার বন্ধুর চাইতে প্রতিদিন ৩০মিনিট কম ঘুমালেই আপনার বন্ধুর চাইতে ৩বছর আগে চাকরিটা পাবেন। এটাই বাস্তবতা।

অনেকেই ইংরেজি নভেল পড়তে পারেন না। এক্ষেত্রে দুই ধরণের লোক দেখাযায়। বেশিরভাগই পড়তে পারেন না বলেপড়া শুরু করেননা। কেউ কেউপড়তে শেখার জন্য সহজ ভাষায় লেখাএকটি নভেল নিয়ে পড়া শুরু করেন; হোক সেটি হ্যারিপটার সিরিজ, তবুও। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধরণের লোকেরা প্রথম ধরণের লোকের চাইতে এগিয়ে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। আমরা গরীব বলেই ধনীদের এই ভাষাটি আমাদের শিখতে হয়। যেযত ভাল ভাবে এটাশিখতে পারে, সেতত ধনীদের মতো, অতএব, যোগ্য, এটাইদেশ ও সমাজধরে নেয়। যা-ইপড়েননা কেন, পড়ারসময় দুটো ব্যাপার মাথায় রেখে পড়বেন। এক।লেখক কী বলতে চাচ্ছেন। দুই। আপনিলিখলে কী লিখতেন। এতে আপনার সৃজনশীল ক্ষমতা, মানে লেখার ক্ষমতাবাড়বে। প্রচুর পড়তে হবে, যা পড়েছেনতা থেকে কীশিখলেন সেটা বুঝতেহবে, যা শিখলেন তা কাজে লাগাতে হবে। শেখার সময় জেনে শিখতে হবে, যা শিখছেন তাশেখার আদৌ কোনো দরকার আছে কিনা। ফালতু জিনিস শেখার চাইতে সেই সময়ে ঘুমানোও ভাল।

বিসিএস পরীক্ষায় ভাল করার জন্য যে চাকরিটা আপাতত করছেন, সেটা ছাড়ার কোনো দরকার নাই। অনেক সময়ই সেটা ছেড়ে দেয়া মানে, আপনার ফ্যামিলিকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। আমাদের কলিগদের অনেকেই সিভিল সার্ভিসে আসার আগে অন্য চাকরিতে ছিলেন। আপনি চাকরি ছাড়বেনতখনই যখন আপনিবিসিএস ক্যাডার হয়ে যাবেন। এর আগপর্যন্ত চাকরিটা ধরেরাখুন। আমি অনেককেই দেখেছি চাকরি ছেড়ে দেয়ার ফলে যে সুবিধেটা হয়েছে, সেটা হল ঘুমানোর সময়টা আগের চাইতে বেড়েগেছে। সামনে সময়কম? একটুভাবুনতো, সময়টা কিশুধু আপনার জন্যইকম? আপনি আগে পড়েননি? ভাল কথা, এখন কম ঘুমান।পড়তে না পারার পেছনে আপনার হাতে হাজারটা কারণ থাকতে পারে, কিন্তু সেই সব কারণের দাম আপনারকাছে অনেক হলেও পুরো দুনিয়ার কাছে তার কানাকড়িও দাম নেই।

সাফল্যের কোনো অজুহাত লাগে না, সব অজুহাতই শুধুই ব্যর্থতার। ব্যর্থতা কী? ব্যর্থতা হল এমন কোনো কিছু করতে নাপারা যা আমি করতে চাইছি। কিংবা, এমন কোনো কিছুতে ব্যর্থ হওয়া, যার বদলে এর চাইতে ভালকিছু করাযায় না। আমি ব্যবসায় ব্যর্থ হলেও সেটাকে আমি ব্যর্থতা মনে করি না, কারণ আমি ব্যবসাকে বড় করে দেখিনি। আমার জীবনে আমি কোনটাকে প্রাধান্য দেবো, সেটাসম্পূর্ণই আমার নিজস্ব ব্যাপার। যদি সেটাতে অসফল হই, তবেই আমি ব্যর্থ, এর আগ পর্যন্ত না। তাই কেউ যদিব্যবসা করে গাড়ি বাড়ি করে ফেলে, সেটা আমাকে একটুও বিচলিত করেনা, ঈর্ষান্বিত করেনা। আমি খুব হাসিমুখেই উনার সফলতাকে উদযাপন করতে পারি। আমিযা করছি, সেটাতে আমার পক্ষে যতটুকু যাওয়া সম্ভব, আমি ততটুকু যেতে পারলাম কিনা, আমি যাকরতে ভালোবাসি তানিজের মতো করে করতে পারছি কিনা, এসবই আমাকে ভাবায়। আমি সিভিল সার্ভিসে আছি, যিনি এই সার্ভিসে নেই তার অবস্থানটা যদি বিচার করতেই হয়, তবে তার নিজেরক্ষেত্রটা বিবেচনায় এনেইতাকে বিচার করাউচিত। তবে সবচাইতে ভালপন্থা হল, কারোর অবস্থানকেই বিচারনা করে নিজেরটা নিয়ে নিজের মতো করেথাকা। বেশিরভাগ অসুখী মানুষই ভীষণ জাজমেন্টাল হয়ে থাকেন।

আপনি কোথায় পড়াশোনা করছেন সেটা কোনো ব্যাপারই না। যদি কেউ সেটানিয়ে কিছু বলে, তবে দয়া করে ওর মূর্খতাকে নিজ গুণে ক্ষমাকরে দিন। আপনি যে অবস্থানে আছেন, সেটা আপনার অতীতের কাজের ফল। একই ভাবে, আপনি ভবিষ্যতে যে অবস্থানে থাকবেন, সেটা আপনার বর্তমানের কাজের ফল। আগেও ফাঁকি দিয়েছেন, এখনও ফাঁকি দিচ্ছেন, এর মানেহল, ভবিষ্যতটাও ফাঁকির ফলাফলস্বরূপ খুবই বাজেভাবে কাটার কথা। এটা মেনেনিতে পারলে অবশ্যফাঁকি দিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারেন। সেটাও একদিক দিয়ে খারাপ না। আপনার পরিশ্রম করার ধরণদেখে যারা হাহাহিহি করবে, তাদেরকে দেখে আপনিও নিশ্চিন্তে নিঃশব্দে হাহাহিহি করতেপারেন, কারণতারাএই সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছে যে তারা আপনার চাইতে পিছিয়ে থাকবে। যারা ভূতের মতো খাটে, তাদেরকে আমরা পাগল বলি।আমিদেখেছি, এ পৃথিবীতে পাগলরাই সবসময় এগিয়ে থাকে।

প্রতিদিনই পড়তে বসুন। দুএকদিন পড়া বাদ যেতে পারে, সেটাকে পরেরদিন বেশিপড়ে পুষিয়ে নিন। বিসিএস পরীক্ষা মৌসুমি পড়ুয়াদের জন্য নয়।পড়ার সময় অবশ্যই অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলি বাদ দিয়ে পড়বেন। কোনকোন বিষয়গুলি অপ্রয়োজনীয়? এটাবোঝার জন্য অনেক অনেক বেশি করে প্রশ্নের ধরণ নিয়ে পড়াশোনা করুন। সমজাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নসম্পর্কে ভালভাবে ঘাঁটাঘাঁটি নাকরে বিসিএস পরীক্ষার ভালপ্রস্তুতি নিতে পারবেননা। রেফারেন্স বইপড়বেন, তবে বইয়ের সব কিছু পড়তে যাবেননা। বিসিএস পরীক্ষা বেশি জানার পরীক্ষা নয়, বরং যা দরকারতা জানার পরীক্ষা। সবকিছু পড়লে পণ্ডিত হবেন, বুঝে শুনে পড়লে ক্যাডার হবেন। বেকার পণ্ডিত অপেক্ষা চাকরিজীবী গর্দভউত্তম। পছন্দ আপনার! প্রচুর প্রচুর প্রশ্নপড়ুন। গাইড বইয়ে, প্রশ্নব্যাংকে, মডেল টেস্টের গাইডে, যেখানেই প্রশ্ন পাননাকেন। ৪টা নতুন রেফারেন্স বইপড়ার চাইতেও ২টা পুরোনো গাইড বইরিভিশন দেয়া কিংবা ১টা নতুন গাইডবই পড়ে শেষকরা অনেক বেশি কাজের।

হাতের লেখার ক্ষেত্রে দুটো ব্যাপার মাথায় রাখবেন। যাতেপড়া যায় এবংযাতে অনেক দ্রুতহয়। সুন্দর হাতের লেখার গুরুত্ব আছে, তবে হাতের সুন্দরকিন্তু স্লো, কিছুপ্রশ্ন বাদ পড়েযায়, কিংবা দুএকটিউত্তর মনের মতোলেখা যায় না, ওরকম সুন্দর হাতেরলেখার কোনোইদামনেই। বাংলা কিংবাইংরেজি, যেকোনোটিতেই উত্তর করতে পারেন। আপনারলেখার স্টাইল, প্রেজেন্টেশন, নতুনত্ব, প্রাসঙ্গিকতা, পরিধি,এসব ঠিক রাখলেইহলো। তবে একটা ব্যাপার বলে নিই।আমি নিজে প্রথমপ্রথম ইংরেজিতে পরীক্ষা দেয়ারসিদ্ধান্ত নিয়ে ইংরেজিতেই প্রস্তুতিনেয়াশুরু করেছিলাম। পরেদেখলাম, ভালভাবে প্রস্তুতি নেয়ারজন্য প্রয়োজনীয় বইপত্র, স্টাডি ম্যাটেরিয়ালস পাচ্ছিনা। তখন বাংলায় প্রস্তুতি নেয়া শুরুকরলাম। আঁকার জন্যপেন্সিল আর কোটেশনদেয়ার জন্য নীলকালির কলম ব্যবহার করতেপারেন। লেখার চর্চা না থাকলে পরীক্ষার হলে সেটা হাওয়া থেকে আসবে না। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন বিষয়নিয়ে ফ্রিহ্যান্ড রাইটিং প্র্যাকটিস করুন। হোক ফেসবুকে, তাতেও কোনো সমস্যা নাই। বরং ওটা আরও ভাল।বন্ধুদের কমেন্টের রিপ্লাই দিতে গিয়েও ভাষার অনেক খুঁটিনাটি শেখাযায়। যেকোনো দরকারি বিষয়নিয়ে থামতে বলারআগ পর্যন্ত লেখার দক্ষতা অর্জন করুন। কীভাবে ভাল লেখাযায়? পড়ার অভ্যাস বাড়িয়ে ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখে। এসবকাজ শুরু করার জন্য বেশি গবেষণার কিছুনেই। শুরু করেদিলেই পারবেন। অতিভাবনা ও অতি পণ্ডিতি প্রিপারেশনকে নষ্টকরে দেয়।

পড়াশোনাটা প্রথমথেকেই শুরু করুন। যদি তা নাকরেন, তাহলে যেসময়ে অন্যরা রিভিশনদেবে, সে সময়েআপনাকে নতুন জিনিস পড়তে হবে। পড়ারসময় এবং খাতায়লেখার সময় মাথায়রাখবেন, প্রশ্নের শুরুটাএবং শেষটা খুবইগুরুত্বপূর্ণ।শুরুটা এমনভাবে করুন, যাতেআপনার উত্তরটা পড়তেইচ্ছে করে, আরশেষটা এমনভাবে করুনযাতে আপনার বিশ্লেষণী ক্ষমতা সম্পর্কে পরীক্ষকের মনে ইতিবাচক ধারণা জন্মে।কী বলতে যাচ্ছেন, সেটানিয়ে শুরুতেই আভাস দেবেন, আর শেষেএসে এতক্ষণ কীলিখলেন, সেটা নিয়ে নিজের মতামত দেবেন। ইংরেজির ক্ষেত্রে সহজস্টাইলে নির্ভুলভাবে লেখার চেষ্টা করুন। ভালইংরেজি লিখতে ভাল ভোকাবুলারি লাগে না, পণ্ডিতি ফলানোর লেখার স্টাইলও জানতে হয়না। শুধু বানানে ভুল করবেন না, গ্রামারে ভুল করবেননা। প্রাসঙ্গিকভাবে লিখেযান। ব্যস্! মার্কস আসবেই আসবে!

লেখার চর্চা থাকলেই লেখা যায়।বিসিএস পরীক্ষা স্পেশালিষ্টদের পরীক্ষা নয়, জেনারেলিস্টদের পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় ভাল করতে হলে অল্প জিনিস নিয়ে বেশিবেশি জানার চাইতে বেশি জিনিস নিয়েঅল্প অল্প জানাটা গুরুত্বপূর্ণ।রাজনৈতিক এবং বিরোধপূর্ণ ইস্যুনিয়ে নালেখাইভাল। দেশ কিংবাসরকারকে ছোট করেদেখায়, এমন একটাবর্ণও খাতায় লিখবেননা। খাতায় ডাটা, চিত্র, ম্যাপ, টেবিল, ফ্লোচার্ট,কোটেশন, নানানরেফারেন্স, সংবিধান থেকেউদ্ধৃতি, ইত্যাদি যতবেশি দেবেন, আপনার মার্কস তত বাড়বে।আগে থেকে পড়াশোনা না করলে এসবকিছু খাতায়দেয়াটা অনেকটাই অসম্ভব। ইন্টারনেটে টপিকসার্চ করে করে পড়াটা খুব খুব কাজের। বিশেষ করে বাংলাদেশ ওআন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর প্রস্তুতি নেয়ার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনেকবেশি। প্রতিদিনই একটা বাংলা পত্রিকার সম্পাদকীয়কে ইংরেজিতে এবং ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকীয়কে বাংলায় অনুবাদ করুন। 

ইংরেজি সম্পাদকীয়টিকে অনুবাদ করার পাশাপাশি সামারাইজও করে ফেলবেন। এরপর সেটপিক নিয়ে নিজেএক পৃষ্ঠা লিখবেন। যতকষ্টই হোক নাকেন, এই কাজটিনা করে কোনোভাবেই ঘুমাতে যাবেন না। শব্দের অর্থ কাউকেই জিজ্ঞেস করবেননা, নিজে ডিকশনারি খুঁজেখুঁজে বের করবেন।অনলাইনে দেশিবিদেশি পত্রিকার আর্টিকেলএ বং বিভিন্ন সংস্থার ওয়েবসাইট গুলিতে নিয়মিতঢুঁ মারুন। খুবইকাজে দেবে। টিভি-রেডিও’রসংবাদ নিয়মিত শুনলেকম পরিশ্রমে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস মনেরাখতে পারবেন। সবকিছুপড়বেন না, সবকিছুশুনবেন না। অতোবাজে সময় নেই।যা যা পরীক্ষায়কাজেলাগে, শুধু সেগুলির সাথেই থাকুন। পেপার পড়ার সময় সামনের পাতা, সম্পাদকীয় পাতা, আর্টিকেলসমূহ, সংবাদবিশ্লেষণ, কেসস্টাডি, ব্যবসা বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক নানান ইস্যু, ইত্যাদি ভালভাবে পড়বেন।মাঝেমাঝে এসব পড়েপড়ে নিজে কিছু লেখার চেষ্টা করতে পারেন, কাজে দেবে।পেপার পড়তে প্রতিদিন ১.৫-২ঘণ্টার বেশি ব্যয়করার দরকার নেই।পুরো পেপারে যাযা বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়, শুধু তা-ই পড়বেন। অনলাইনে পেপার পড়া সবচাইতে ভাল। এটিসময় বাঁচায়।

কারোর সাজেশনস ফলো করবেননা। নিজের সাজেশনস নিজে ইতৈরি করুন। অ্যাড-রিমুভ, এডিটকরে অন্তত ৪-৫ সেট। এজন্য আগের বছরের প্রশ্ন, বিভিন্ন গাইডের সাজেশনস, এবং নিজের আইকিউকে কাজে লাগান। পরীক্ষার হলে বড়প্রশ্ন লেখার সময় প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড কিংবা কিফ্রেইস ঠিক করেকরে সেগুলিকে বিশ্লেষণ করেলিখুন। এভাবে করেলিখলে অনেক আইডিয়া আসবে লেখার। প্রস্তুতি নেয়ার সময় কোনো উত্তরই মুখস্থ করার দরকার নেই। কারণ সেপ্রশ্নটি পরীক্ষায় নাও আসতে পারে আরমুখস্থ করতে গিয়েযে সময়টা নষ্টহবে, সেসময়েআরও ৪টা ভিন্ন প্রশ্ন কিংবা আরও৪টা বই থেকেএকই প্রশ্নটিই পড়ে নেয়া সম্ভব। এটাইবেশি ফলপ্রসূ। যতবেশি সোর্স থেকে পড়বেন,তত বেশিবানিয়ে লিখতে পারবেন। কোনটাকোন সোর্স থেকেপড়ছেন, সেটা একটা নোটবুকে প্রশ্নের পাশেপাশে লিখে রাখুন।রিভিশনদেয়ার সময়খুব কাজে লাগবে।কোন কোন অংশেবুদ্ধি করে পড়লেগড়পড়তার চাইতে বেশিমার্কস তোলা সম্ভব, সেগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলির উপর বেশিজোর দিন। কম্পিটিশনে আসতে চাইলে কম্পিটিশনে আসার ক্ষেত্রগুলি কী কী, সেটা তো আগে জানতে হবে,তাইনা?

এটা ঠিক যে, সবচাইতে ভালটা প্রথম বারেই পাওয়া যায়! মেধাতালিকায় থাকা প্রথম ১০ জনের বেশিরভাগই প্রথমবারে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সফল-হওয়া ক্যান্ডিডেট। তবুওযারা প্রথমবারের মতো বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছেন না, তারা এটা কখনোই মাথায় আনবেন নাযে আপনার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।বরং এটা মাথায়রাখুন, যদি সামনের বারও চাকরিটা নাপান, তবে অন্তত আরও এক বছরনষ্ট হবে। বিসিএস পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথমদিকে থাকা অনেকেরই প্রথম বিসিএস-এ হয়নি।যদি আপনিও ও রকম প্রথমদিকে থাকতে পারেন,তবে আপনার এইযন্ত্রণা অনেকটাই চলে যাবে। সেই চেষ্টাই করুন। আমার কাছে তোমনে হয়, প্রত্যেকটি বিসিএস-ই আপনার জন্য প্রথমবিসিএস। কীরকম? আপনি যদি ৩৭ তমবিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, তবে সেটিই তো আপনার জন্য প্রথম, কারণ এর আগে আপনি কখনোই ৩৭ তমবিসিএস পরীক্ষা দেননি। বিসিএস পরীক্ষা চুম্বনের মতো।প্রতিটি চুম্বনই প্রথমচুম্বন, প্রতিটি বিসিএস-ইপ্রথমবিসিএস। একইভাবে দ্বিতীয়বার চুমু খাওয়া সম্ভব নয়, একইভাবে দ্বিতীয়বার বিসিএসপরীক্ষা দেয়া সম্ভবনয়। অনেকেই প্রথম বারে প্রিলিই পাসকরতে পারল না, আর পরেরবারে গিয়ে মেধা তালিকায় স্থান করেনিল। এমন দৃষ্টান্ত ভূরিভূরি আছে। সবকিছুই নির্ভর করে নিজের ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য, আর পরিশ্রমের উপর।

আপনার সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদিন কতসময় পড়াশোনা করবেন, সেটা ঠিক করেনিন। এখানে সক্ষমতা বলতে আমি বোঝাতে চাইছি,৮০% মানসিক সক্ষমতা আর২০% শারীরিক সক্ষমতা। পরিশ্রম করারজন্য সবচাইতে বেশিদরকার মানসিক শক্তি। আমার নিজেরটাই বলি।আমি প্রতিদিন ১৫ঘণ্টা পড়াশোনা করারসময় বেঁধে দিয়েছিলাম এবংযতদিন বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, এই১৫ ঘণ্টার নিয়মটি খুব স্ট্রিক্টলি ফলো করতাম। ১৫ ঘণ্টামানে কিন্তু ১৪ঘণ্টা ৫৯ মিনিট৬০ সেকেন্ড, এরকম কিছুতেই না।কখনো কখনোসময়টাএর চাইতে বেড়েযেত, কিন্তু অসুস্থহয়ে না পড়লেকমানো যাবে না, এটাই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। এতে আমার যে লাভটি হয়েছে, সেটিহলো, শেষ মুহূর্তের বাড়তি চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পেরেছি। আমাদের মনটা একটা অদৃশ্ যসময়ের ছকে চলে।তা-ই যদিনা হবে,তবে ৯টা মানেই অফিসটাইম কেন? মনকে একবার নিজের সুবিধা মতো রুটিনে ফেলেদিতে পারলেই হলো! স্নায়বিক চাপের ফলেঅনেকেরইভাল প্রস্তুতি থাকাসত্ত্বেও পরীক্ষা খারাপহয়ে যায়। অতিরিক্ত চাপআত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়, যেটা ভীষণ আত্মঘাতী। অনেকেইহয়তো এরচাইতেকম সময় পড়েম্যানেজ করতে পেরেছেন। এটানির্ভর যার যারপড়ার ধরণ এবংবেসিকের উপর। আমিখুব মেধাবী কখনোইছিলামনা বলেআমাকে বেশি সময়ধরে পড়তে হয়েছে।যতক্ষণই পড়াশোনা করুননা কেন, কোয়ান্টিটি স্টাডির চাইতে কোয়ালিটি স্টাডিই বেশি দরকার। যে সময়টাতে পড়াশোনা করছেন, নিজের ১০০%ইদিয়ে পড়াশোনা করুন। সপ্তাহের শেষ দিনে৪-৫ ঘণ্টাআগের ৬ দিনেযাযা পড়েছেন, সেগুলি খুব দ্রুততার সাথেএকবার রিভিশন দিন।কোনো পড়া প্রথমবার পড়ারসময় প্রয়োজনীয় এবংকঠিন অংশগুলি অবশ্যই রঙিন কালিতে দাগিয়ে দাগিয়ে পড়বেন।

কোচিং সেন্টারে যাওয়াঠিক কিনা, এটাআমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেন। এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো, কোচিং সেন্টারে যাওয়াযাবে যদি আপনি ওদের সব কথাকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস নাকরেন। আপনাকে খুবভালোভাবে বুঝতে হবে, আপনার কী করাউচিত, কী করাউচিতনয়। ওদের কথা শোনার সময়এটা ধরে ফেলতে হবে কোন কোনকথা স্রেফ কোচিং সেন্টারে স্টুডেন্টের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বলা। ওদের গৎবাঁধা ছকে চললে আপনি হয়তো বা ক্যাডার হতে পারবেন, কিন্তু খুব ভাল করতে পারবেন না।এর চাইতে ভাল বিভিন্ন গাইড বই,রেফারেন্স বই, ইন্টারনেট আরপেপার থেকে পড়াশোনা করা।কোচিং সেন্টারে যেতে পারেন যদি আপনি নিজের ব্যক্তিগত পড়াশোনাকে ঠিক রেখে ওদের পরামর্শকে বুঝেশুনে ফলোকরতে পারেন। কীরকম? ধরুন, পরেরদিন কোচিং-এ মডেলটেস্ট। এর জন্য আগের দিন কিছুতেই আপনারব্যক্তিগত পড়াশোনাকে ব্যাহতকরা যাবে না।প্রয়োজনে এর জন্য এক্সট্রা আওয়ার খাটতেহবে। তাতে কোচিং-এরপরীক্ষায় মার্কসকম পেলেও অসুবিধা নেই।আমি কোচিং সেন্টারে টপারদেরকে বিসিএস পরীক্ষায় টপার হতেখুব একটা দেখিনি। আপনি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হবেন নিজের মনটাকেখুঁতখুঁত করা থেকে বাঁচানোর জন্য, নিজেকে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে ভাল ভাবে প্রস্তুত করার জন্য, সব ক্লাস করে পয়সা উশুল করার জন্য নয়। কোচিং সেন্টারের সব ক্লাস করার চাইতে বোকামি আর হয়না। অনেক ছেলেই কোচিং সেন্টারে প্রতিদিন যায় সুন্দরী মেয়ে দেখার জন্য আর অনেক মেয়েই যায় ছেলেদের পয়সায় শিঙাড়া খাওয়ার জন্য। চাকরি নাই, অথচফুটানির শেষ নাই।নিজের সাথে এরচাইতে বড় ফাঁকিবাজি আরহয় না। আপনি কোচিং সেন্টারে যাবেন কী ভাবে শুরু করবেন সেটা বুঝতে, কিছু টেকনিক শিখতে, মডেলটেস্টগুলি নিয়মিত দিতে আর আপনার অবস্থানটা জানতে।পড়াশোনার ব্যাপারটা সম্পূর্ণই নিজেরউপর নির্ভর করে।

বিসিএস পরীক্ষায় ভালকরার ক্ষেত্রে অন্যকারোর পরামর্শ অনুসরণনা করে নিজেরমতো করে গুছিয়ে পড়াশোনা করাটাই সবচাইতে ভাল।তবে একথা মাথায়রাখলে সুবিধা, চাকরির পরীক্ষায় ভাল করাআর অ্যাকাডেমিক পরীক্ষায় ভালকরার টেকনিক গুলিতে অসংখ্য অমিল রয়েছে। আমি কয়েকজন অনার্স এবং মাস্টার্সে টপারকে বিসিএস প্রিলিতেই ফেল করতে দেখেছি। আরেকটা জিনিস সবস ময়ই মাথায় রাখুন। সেটি হলো, কখনোইবিসিএস নিয়ে বেশি লোকের সাথে কথা বলবেন না, আলাপ-পরামর্শ করতে যাবেন না। শুধুযারা এ পরীক্ষায় সফল হয়েছেন, তাদের সাথেই এটা নিয়ে কথাবলুন। তেমন কাউকেপাওয়া না গেলে কারোর সাথেই কোনোকথা বলার দরকারনেই।বিসিএস ক্যাডারের সাথেবকবক করলে আর বিসিএস ক্যাডারের বকবকানি শুনলেই বিসিএস ক্যাডার হওয়া যায় না। পদ্ধতিগত ভাবেপড়া শোনা করে যান, নিজের উপরপূর্ণ বিশ্বাস রাখুন, জয় আপনার হবেই হবে!
কিছুকথা বলতে ইচ্ছেকরছে:
  1. আপনার ভাল থাকাটা কারোরনা কারোর স্বপ্ন। এই ভাল মানুষটিকে ভাল রাখতেহলেও ভাল থাকুন।
  2. আপনি পরীক্ষায় খারাপ করলে কেউ নাকেউ অনেক শান্তি পাবে। আর কিছুনা হোক, শুধুউনাকে অশান্তিতে রাখতে হলেও পরীক্ষায় ভাল করুন।
  3. আপনি ভাল একটা অবস্থানে যেতে পারলে আপনার জন্য আপনার বাবা-মা, কাছের মানুষগুলি সম্মানিত হবেন। তাদেরকে গর্বিতকরতেভাল করে পড়াশোনা করুন।
  4. আপনি যে অক্লান্ত পরিশ্রমটা করেযাচ্ছেন, সেটা নিয়েযাতে কেউ হাসাহাসি করতেনা পারে, সেটার জন্য হলেও চাকরিটা পেয়েই দেখান।
  5. আপনার সামর্থ্য নিয়ে আপনার আশেপাশের যে মূর্খরা আজেবাজে বকছে, তাদেরকে সমুচিত জবাবটা আপনার কাজের মাধ্যমে দিয়ে দিন! সত্যি বলছি, অনেক বেশিই স্বস্তি পাবেন।
গুডলাক!!
আপনাদের সিনিয়রসহকর্মী
আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ঢাকা
ডাক্তার হাসান; ডি. এইচ. এম. এস(BHMC)
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- +88 01727-382671 এবং +88 01922-437435
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
[X]