সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শরীর ও মনের উপর রাগের ক্ষতিকর প্রভাব - দেখুন বিস্তারিত

আপনি কি জানেন রাগ বা ক্রোধ আপনার স্বাস্থ্যের উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সব মানুষেরই রাগ আছে। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। “ডেডলি ইমোশন্স” বইটির লেখক ডা. ডন কোলবারট এর মতে, “রাগ আপনার স্বাস্থ্যের প্রভূত ক্ষতিসাধন করে”। ড. কোলবারট সতর্ক করে বলেন, “বিষণ্ণতা, রাগ, অপরাধবোধ, দোষারোপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এগুলো প্রাণঘাতী টক্সিনের নামান্তর”। তিনি তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিয়েছেন। রাগের প্রভাবে মানুষ যে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা হল যুদ্ধ বা যুদ্ধ। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ যখন খাদক প্রাণীর হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তখন থেকেই যুদ্ধ বা যুদ্ধ এই প্রতিক্রিয়াই মানুষকে রক্ষা করেছে হরমোন ও রাসায়নিকের নিঃসরণের মাধ্যমে যা জ্বালানী হিসেবে শারীরিক ক্রিয়াকে উজ্জীবিত করেছে।

কিন্তু বর্তমানে এই প্রকারের প্রতিক্রিয়া ৯৯ শতাংশই অপ্রয়োজনীয়। “ইউ কান্ট এফোরড দ্যা লাক্সারি অফ এ নেগেটিভ থট: এ বুক ফর পিপল উইথ এনি লাইফ-থ্রেটেনিং ইলনেস-ইনক্লুডিং লাইফ” বইটির লেখক পিটার এমসিউইলিয়াম এর মতে, “সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে যুদ্ধ বা যুদ্ধ আমাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়”। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে শারীরিক ও মানসিক স্ট্রেস কমানোর উপায় জানাটা অত্যন্ত জরুরী।

যখন মানুষ খুব রেগে যায় তখন অনুভূত হুমকির জবাব দেয়ার জন্য শরীর নিজেকে প্রস্তুত করে। এর ফলে শরীরের পেশী টান টান হয়, পরিপাক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় ও মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে আগুন লাগার মত কাজ শুরু হয়ে যায়। যারে ফলে মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন হয়। এর প্রতিফলনে জিনগতভাবে সংকলিত প্রতিক্রিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করে। বর্তমানে এই শক্তিশালী রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ছোটখাট বিরক্তিতেই অযথার্থভাবে আলোড়িত হয় যেমন- নির্দয়ভাবে কথা বলা, ট্র্যাফিক মেনে না চলা ইত্যাদি। আধুনিক অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই এমন যুদ্ধংদেহী আচরণ দেখা যায়। যার ফলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পরিপাক, কোষের বৃদ্ধি, দেহের রক্ষণাবেক্ষণ, সংবহন, নিরাময় ও প্রতিরোধমূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলো স্থগিত হয়ে যায়।
রাগের উন্মত্ততার ফলে দীর্ঘস্থায়ী যে প্রভাব লক্ষ করা যায় তা হল: নিয়মিত রাগ স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ন্যাচারাল হেলথ প্রেক্টিশনার ড. মারকোলার মতে, স্বয়ংক্রিয় রাগের প্রতিক্রিয়ায় শারীরিক যে সমস্যাগুলো হতে পারে তা হল- -

১। মাথাব্যথা
২। হজমের ভারসাম্যহীনতা
৩। ইনসমনিয়া
৪। অ্যাংজাইটি
৫। ডিপ্রেশন
৬। উচ্চরক্তচাপ
৭। ত্বকের সমস্যা ও এক্সিমা
৮। হার্ট অ্যাটাক
৯। স্ট্রোক


রাগের প্রভাবের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে হৃদপিণ্ড। ওয়াশিংটন ষ্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৫০ বছর ও তার চেয়েও অধিক বয়সের মানুষদের উপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। সেখানে দেখা যায় যে, মাত্রাতিরিক্ত মেজাজের মানুষদের ধমনীতে অন্যদের তুলনায় ক্যালসিয়াম জমা হয় বেশি। যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করার প্রাথমিক কারণ। এই গবেষণার লেখক ব্রুস রাইট বলেন, রাগে ফেটে পড়লে স্ট্রেস হরমোন তরঙ্গায়িত হয় এবং রক্তনালীর আবরণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কিন্তু রাগ দমিয়ে রাখাটাও বিপদজনক।

গতবছর নেদারল্যান্ডের টিলবারগ ইউনিভার্সিটির ড.জোহান ডেনোলেট হৃদরোগে আক্রান্তদের নিয়ে একটি গবেষণা করেন এবং দেখতে পান যে, “রাগ চেপে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি তিনগুণ বৃদ্ধি পায়”। ৮৫% অসুখ আবেগীয় অবস্থার সাথে সম্পর্কিত। ওহাইয়ো ষ্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক, পিএইচডি, মেরী ফ্রাস্টেড বলেন, রাগ প্রকাশের সঠিক উপায়টি শিখলে আপনি রাগকে কাজে লাগাতে পারবেন। যদি কেউ আপনার অধিকার উলঙ্ঘন করে তাহলে তাদেরকে আপনার বলা উচিৎ আপনি কি চান, আপনার কি প্রয়োজন। তাছাড়া রাগ কমানোর জন্য মেডিটেশন করতে পারেন, নিয়মিত ব্যয়াম করুন এবং প্রয়োজন মনে করলে একজন কাউন্সেলর বা মনোবিজ্ঞানীর সহযোগিতা নিতে পারেন।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নিয়মিত ঘৃতকুমারী রস পানের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদের নাম। বহুগুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিকঅ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনএ, বি৬,বি২ ইত্যাদি। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরা জুস পান করে থাকেন। আপনি জানেন কি প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস পান করার উপকারিতা?

১। হার্ট সুস্থ রাখতে :- আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ :- অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে :- অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। ৪। ওজন হ্রাস করতে :- ওজন কমাতে অ…

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

পুরুষত্বহীনতা, অকাল বীর্যপাত ও লিঙ্গ উথান সমস্যা দূর করে সুস্থ যৌনজীবন দেয় জাফরান৷

জাফরানের ২০টি ঔষধি গুন বিশ্বের সবচেয়ে দামী মশলা জাফরান। স্যাফরন বা কেশর নামেও এটি পরিচিত৷ এই মশলা নামীদামী অনেক খাবারে ব্যবহৃত হয়। খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রঙ বাড়িয়ে তুলতে এই ‘গোল্ডেন স্পাইস’ এর জুড়ি নেই। তবে জাফরানের কাজ শুধু এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাফরানের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ ঔষধিগুণ। জাফরানে রয়েছে বিস্ময়কর রোগ নিরাময় ক্ষমতা৷মাত্র ১ চিমটে জাফরান আপনাকে প্রায় ২০ টি শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। ১. জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিতরোগ দূর করে।
২. হজমে সমস্যা এবং হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে জাফরান।
৩. জাফরানের পটাশিয়াম আমাদের দেহে নতুন কোষ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কোষ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
৪. জাফরানের নানা উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে সহায়তা করে, এতে করে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷
৫. মেয়েদের মাসিকের অস্বস্তিকর ব্যথা এবং মাসিক শুরুর আগের অস্বস্তি দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই।
৬. নিয়মিত জাফরান সেবনে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা ধরণের সমস্যা যেমন অ্যাজমা,পারটুসিস, কাশি এবং বসে যাওয়া কফ দূর করতে…