সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ধর্ষণের রাজধানী কলকাতা: আনন্দবাজার

কলকাতা, ০৯ মার্চ- আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ভারতে কলকাতার রাস্তায় হাঁটলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের মুখে তার মিছিলে স্লোগানও উঠল বিস্তর। কিন্তু মমতা কি জানেন, নারী দিবসে সকালে সংসদের টেবিলে সাংসদদের প্রশ্নের যে জবাব জমা পড়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় গত দু’বছরের সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য দেশটির জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক শিরোনামে লেখা হয়েছে ‘এখন ধর্ষণের রাজধানী কলকাতা’। 

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন করেছিলেন সাংসদ বি সেনগুত্তুভান। ঘটনাচক্রে নারী দিবসের দিনে সংসদে প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হরিভাই প্রতিভাই চৌধুরী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, গত দু’বছরে (২০১২-১৪) গোটা দেশের মধ্যে ধর্ষণের মামলায় এক নম্বরে স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এক সময়ে বানতলা বা ফুলবাগানের মতো ঘটনাগুলি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে কালো আঁচড়ের দাগ হয়ে রয়েছে। ক্ষমতা বদলের পরে অনেকেই ভেবেছিলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। 
কিন্তু পার্কস্ট্রিট থেকে কামদুনি- নারীদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নারী নির্যাতন রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মনোভাব নিয়েও। এই সময়েই উঠে এল রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে এমন তথ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ১৬৫৬টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিহার। সেই রাজ্যে ওই সময়ে নথিভুক্ত ধর্ষণের ঘটনা ৪৮৪টি। যা শুনে তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের পাল্টা দাবি, ‘প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনাই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু নারীরা এখন অন্তত অত্যাচারের ঘটনা নির্ভয়ে থানায় জানাচ্ছেন। যা আগে সম্ভব ছিল না। সেই কারণে সংখ্যাটা এত বড় লাগছে।’ ডেরেকের মতে, ‘বিহার ও উত্তরপ্রদেশে প্রকৃত সংখ্যা হয়তো দশ গুণ বেশি হবে। কিন্তু সেখানে ভয়ে কেউ থানায় যায় না।’ প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, তৃণমূল নেতার যুক্তিকে হাস্যকর বলেই মনে করেছেন সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, রিপোর্ট খুঁজেই দেখা যাক না, কত জন অপরাধী শাস্তি পেয়েছে। 
 
পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনায় ১৮৪৮ জন গ্রেফতার হলেও, দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মাত্র ৫৭ জন। এ ক্ষেত্রে গোটা দেশে ২৮ তম স্থান পেয়েছে রাজ্য। ঋতব্রতের কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ এখন গোটা দেশে ধর্ষণের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে। জঙ্গলের শাসন চলছে। নারীরা সব চেয়ে অ-সুরক্ষিত।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনকে নিশানা করে সিপিএম সাংসদের মন্তব্য, ‘সরকার অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। কাটোয়ায় একজনও ধরা পড়েনি। অভিযোগ উঠেছে, পার্কস্ট্রিট কাণ্ডে মূল অভিযুক্তকে তৃণমূলই নাকি পালাতে সাহায্য করেছে। সরকার যেখানে সমাজবিরোধীদের প্রশয় দেয়, সেখানে এমন ফলই হয়।’ অবশ্য বিরোধীদের যুক্তি খারিজ করে ডেরেক বলছেন, ‘মনে রাখতে হবে, তাপসী মালিকের পরিবার বিচার পায়নি, কিন্তু কামদুনি পেয়েছে।’

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নিরাপদ থাকতে ফেসবুক থেকে মুছে দিন ৮ তথ্য!

বলতে গেলে এখন প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। অসচেতনতায় নিজেরাই অনিরাপদ করছি নিজেদের। সেক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৮টি তথ্য এখনই মুছে ফেলুন।
বর্সাতমানে মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষই সম্পৃক্ত। কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সদস্য। বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তব জগত এখন একাত্মা। বর্তমানে যে হারে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে নিরাপদ থাকাটা বেশ কঠিন। এসব ঘটনাকে আরো বেশি প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।
১. আপনার জন্ম তারিখ: অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্মতারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুন…

যেভাবে এলো বাঙালির বংশ পদবী! জেনে রাখুন বিসিএস সহ যেকোন চাকরি পরীক্ষায় কাজে আসবে

খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়। অধিকাংশ ব্যক্তি নামের শেষে একটি পদবী নামক পুচ্ছ যুক্ত হয়ে আছে। যেমন উপাধি, উপনাম কিংবা বংশসূচক নামকে সাধারণ ভাবে পদবী বলা হয়।
বাঙালির জমি- জমা বিষয় সংক্রান্ত কিছু পদবী যেমন- হালদার, মজুমদার, তালুকদার, পোদ্দার, সরদার, প্রামাণিক, হাজরা, হাজারী, মন্ডল, মোড়ল, মল্লিক, সরকার, বিশ্বাস ইত্যাদি বংশ পদবীর রয়েছে হিন্দু -মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের একান্ত রূপ। বাঙালি মুসলমানের শিক্ষক পেশার পদবী হলো-খন্দকার, আকন্দ, নিয়াজী ইত্যাদি। আর বাঙালি হিন্দুর শিক্ষক পদবী হচ্ছে দ্বিবেদী, ত্রিবেদী, চর্তুবেদী ইত্যাদি।

এবার আপনাদের জানাবো বাঙালির কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর ইতিহাস। যেমন-শিকদার, সৈয়দ, শেখ, মীর, মিঞা, মোল্লা, দাস, খন্দকার, আকন্দ, চৌধুরী, ভুইয়া, মজুমদার, তরফদার, তালুকদার, সরকার, মল্লিক, মন্ডল, পন্নী, ফকির, আনসারী, দত্ত ইত্যাদি।

শিকদারঃ সুলতানি আমলে কয়েকটি মহাল নিয়ে গঠিত ছিল এক একটি শিক। আরবি শিক হলো একটি খন্ড এলাকা বা বিভাগ। এর স…

আঁচিল ঝরান প্রাকৃতিক উপায়ে

আঁচিলের কারণে অনেক সময় সৌন্দর্যে ভাটা পড়ে। শরীরের নানা স্থানে আঁচিল হতে দেখা যায়।এটি সাধারণত কালো, বাদামী, লাল, গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। একেক জনের ক্ষেত্রে এর আকার, আকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়। এটি অনেক সময় এমনিতেই সেরে যায়। অনেক সময় রয়ে যায় স্থায়ী দাগ হয়ে। আঁচিল দূর করা যায় দুই ভাবে। সার্জিক্যালি এবং প্রাকৃতিক উপায়ে। আঁচিল সমস্যা সমাধানে কয়েকটি নিরাপদ ঘরোয়া উপায় জেনে রাখা ভালো। নিজের এবং অন্যের প্রয়োজনে যেকোনো সময় কাজে দিতে পারে।
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খুবই পরিচিত একটি নাম। দিনে দু’বার আঁচিলের ওপর তুলোয় করে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চোখের পাতায় যদি লাগান খেয়াল রাখুন যাতে ভেতরে না যায়। নিয়মটি অনুসরণ করুন ২-৪ সপ্তাহ। আঁচিল ঝরে পড়বে।
ক্যাস্টর ওয়েল এবং বেকিং সোডা একসাথে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে আঁচিলের ওপর ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। শুকালে ধুয়ে নিন। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে রাতে লাগিয়ে রেখে সকালে ধুয়ে নেবেন। দ্রুত আঁচিল করার জন্য টি ট্রি ওয়েল অত্যন্ত কার্যকরী। সুপার শপ বা শপিং মলে এই তেল পাওয়া যায়। ভেজা তুলায় ক’ফোঁটা টি ট্রি ওয়েল নিয়ে আঁচিলের ওপর মিনিট দশেক লাগ…