সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জেনে নিন বেলের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

বেল ফলটিকে উড আপেল, বেঙ্গল কুইন্স ও স্টোন আপেলও বলা হয়। বেল গাছ ভারতের স্থানীয় গাছ যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেপাল, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস, ফিলিপাইন, ফিজি ইত্যাদি দেশে জন্মায়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বেল গাছ পবিত্রতার প্রতীক। তারা বিশ্বাস করে বেল গাছ ভগবান শিবের আবাস। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে তারা বেল ফল ব্যবহার করে। পাহাড় ও সমতলভূমি উভয় স্থানেই বেল গাছ জন্মায়। বেল ফল মসৃণ ও ঘন হয় এবং এর শক্ত ও কাঠের ন্যায় খোলস থাকে। বেল ফল গাছে পাকতে ১১ মাস সময় লাগে। এর আকার হয় বড় জাম্বুরার মত বা এর চেয়েও বড় হতে পারে। বেলের ভেতরের অংশটি হলুদ ও আঁশযুক্ত হয়। তাজা বেলের শরবত মিষ্টি স্বাদের হয়। বেল ফল ঔষধি মানের জন্য সুপরিচিত। এই ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনা নিই চলুন। 

১। ডায়রিয়া, কলেরা ও অর্শরোগ নিরাময় করে:- বেল ফলের মধ্যে ট্যানিন থাকে বলে এটি ডায়রিয়া ও কলেরা নিরাময়ে সাহায্য করে। বেল ফলের শুকনা পাউডার ক্রনিক ডায়রিয়া নিরাময়ে সাহায্য করে। কাঁচা বেলের নির্যাস অর্শ ও ভিটিলিগো রোগ নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। রক্তশূন্যতা এবং কান ও চোখের সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে। প্রাচীনকালে কাঁচা বেলের পাউডার হলুদ ও ঘি এর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা হত ভাংগা হাড় নিরাময়ের জন্য। 
২। গ্যাস্ট্রিক আলসার কমায় :- বেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্যাস্ট্রিক আলসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে বিশেষ করে গ্যাস্ট্রোডিউডেনাল আলসার। এই ধরণের আলসার পাকস্থলীর এসিডের ভারসাম্যহীনতার জন্য হয়। 
 
৩। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে :- বেল পাতার নির্যাস ভেষজ গুণ সম্পন্ন তাই রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা যায়। 
 
৪। শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা সমাধান করতে পারে:- অ্যাজমা ও ঠান্ডার মত শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা সমাধানে বেলের তেল ব্যবহার করা যায়। গোসলের পূর্বে মাথার তালুতে বেলের তেল লাগালে ঠাণ্ডা প্রতিরোধ করা যায়। 
 
৫। হার্ট ডিজিজ নিরাময়ে সাহায্য করে :- বেলের জুস ও ঘি হৃদরোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। হার্ট স্ট্রোক ও অ্যাটাক নিরাময়ে বেল ফল ব্যবহার করা হত। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেল সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপাদান। এছাড়াও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে, বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান আছে বিধায় বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। 
 
সতর্কতা :- পাকা বেল নিয়মিত খাওয়া উচিৎ নয়। কারণ প্রতিদিন পাকা বেল খেলে অন্ত্রের অসাড়তা বা স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। পাকা বেল একবারে বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিৎ নয়।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নিয়মিত ঘৃতকুমারী রস পানের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদের নাম। বহুগুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিকঅ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনএ, বি৬,বি২ ইত্যাদি। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরা জুস পান করে থাকেন। আপনি জানেন কি প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস পান করার উপকারিতা?

১। হার্ট সুস্থ রাখতে :- আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ :- অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে :- অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। ৪। ওজন হ্রাস করতে :- ওজন কমাতে অ…

পুরুষত্বহীনতা, অকাল বীর্যপাত ও লিঙ্গ উথান সমস্যা দূর করে সুস্থ যৌনজীবন দেয় জাফরান৷

জাফরানের ২০টি ঔষধি গুন বিশ্বের সবচেয়ে দামী মশলা জাফরান। স্যাফরন বা কেশর নামেও এটি পরিচিত৷ এই মশলা নামীদামী অনেক খাবারে ব্যবহৃত হয়। খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রঙ বাড়িয়ে তুলতে এই ‘গোল্ডেন স্পাইস’ এর জুড়ি নেই। তবে জাফরানের কাজ শুধু এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাফরানের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ ঔষধিগুণ। জাফরানে রয়েছে বিস্ময়কর রোগ নিরাময় ক্ষমতা৷মাত্র ১ চিমটে জাফরান আপনাকে প্রায় ২০ টি শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। ১. জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিতরোগ দূর করে।
২. হজমে সমস্যা এবং হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে জাফরান।
৩. জাফরানের পটাশিয়াম আমাদের দেহে নতুন কোষ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কোষ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
৪. জাফরানের নানা উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে সহায়তা করে, এতে করে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷
৫. মেয়েদের মাসিকের অস্বস্তিকর ব্যথা এবং মাসিক শুরুর আগের অস্বস্তি দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই।
৬. নিয়মিত জাফরান সেবনে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা ধরণের সমস্যা যেমন অ্যাজমা,পারটুসিস, কাশি এবং বসে যাওয়া কফ দূর করতে…

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…