সর্বশেষ আপডেট
অপেক্ষা করুন...
সোমবার, ১৬ মে, ২০১৬

[মধ্যযুগে চার শ’ বছরব্যাপী দাস ব্যবসায় ইউরোপিয়ানরা আফ্রিকা থেকে অন্তত এক কোটি কালো মানুষকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়েছিল। এর মাত্র ৫ শতাংশ বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। হত্যা ও মৃত্যুর পরও ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাত লাখ নিগ্রো ক্রীতদাস ছিল। নিগ্রো বংশোদ্ভূত এবং নানাভাবে আগত বা মুক্ত আফ্রিকানরা এই হিসাবের বাইরে ছিল। দাস ব্যবসায় এখন নিষিদ্ধ। কিন্তু পতিতাবৃত্তি, শিশুশ্রমিকসহ নতুন নতুন অবয়বে এখন প্রতি বছর প্রায় আট লাখ দাস দেশান্তরী হয়।

মানব ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন দাস ব্যবসায় সবচেয়ে জঘন্যভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। আসিফ হাসান ]

পতিতাবৃত্তি এবং বাধ্যতামূলক শ্রম এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান অপরাধমূলক কাজে পরিণত হয়েছে। আকার ও পরিধি বিবেচনায় ড্রাগ ও অস্ত্রের পর এটাই এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থানান্তরিত পণ্য। এটা এখন ১৯ বিলিয়ন ডলারের শিল্প এবং এতে দুই কোটি ৭০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অলাভজনক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রি দ্য স্লেভস-এর সভাপতি ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা কেভিন বেলেস বলেন, ‘মানব ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি লোক দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ।’
বেশির ভাগ আমেরিকান মনে করে, তাদের দেশে নয়, বিশ্বের অন্যান্য স্থানে মানবপাচারের কাজটি হয়ে থাকে। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেখা যায়, প্রতি বছর সাড়ে ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৭ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়। এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দূরপ্রাচ্যের ৪৭টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়। এদের বেশির ভাগই নারী, কিশোরী ও শিশু।

তারা লোকসমাজে বাস করলেও থাকে ভয়াবহ পরিবেশে; অনেক সময় ঋণের নির্গমন পথহীন জালে বন্দী হয়ে। যাতায়াত, খাবার আর আশ্রয়ের মূল্য হিসেবে তাদের প্রভুরা যে ব্যয় করেছে, তারা সে জন্য যত মূল্যই দিক না কেন, কোনো দিনই তা শোধ হয় না। তাদের অনেকে দুই দফা বোল্ট লাগানো দরজা ও বন্ধ জানালার ভেতরে বন্দী থাকে। তাদের শনাক্তও করা যায় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরতে গেলে মুহূর্তেই তারা ম্যাসাজ পার্লার, নার্সিং হোম, মাংস-প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট, কৃষিখামার ও অন্যান্য ব্যবসায় নিয়োজিত বলে দাবি করে। তাদের প্রভুদের বিপুল প্রতিপত্তির কারণে তারা সব সময় সহিংসতা আর নির্যাতনের মুখে থাকে।

এদের দমাতেই কাজ করছেন ট্রেসি কোরমিয়ার (৩৪)। একসময় কাজ করতেন মার্কিন কাস্টমসে। সেখানে তার দক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে মানবপাচার চক্রের সন্ধানে তাকে নিয়োগ করেছে। ১১ জন সদস্যের মধ্যে একমাত্র তিনিই ছিলেন নারী। পুরুষ সদস্যরা তাকে তাদের সাথে দেয়ায় অসন্তুষ্টই হয়েছিল। তারা মনে করেছিল, এই কঠিন কাজে মেয়েমানুষ কী কাজে লাগবে! কিন্তু তার আন্তরিকতা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ তাকে এ কাজের সবচেয়ে সফল ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। ভোর কিংবা মধ্যরাত, ভরদুপুর কখনো কাজে বিরাম নেই। তিনি ছুটছেন ওই চক্রের সন্ধানে।


এই কাজ করতে গিয়েই তিনি এমন সব নৃশংসতার সাথে পরিচিত হন, যা তিনি কল্পনাও করেননি। একবার তিনি এল সালভাদোরের এক ব্যক্তিকে তিনি উদ্ধার করেন। তিনি তার স্মাগলিং ফির শেষ কিস্তিটি পরিশোধ করতে পারেননি। তাই তাকে পেটানো হয়েছে, না খাইয়ে রাখা হয়েছে, আরো নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরই গুয়েতেমালার কয়েকজন তরুণীর সাক্ষাত পান। তারা যে নির্মমতার শিকার হয়েছেন, তার তুলনায় এটা কিছুই মনে হয়নি।

রোসা, ইয়াসমিন, মারিয়া, লিডিয়া, ক্যাথি (প্রাইভেসির জন্য তাদের ভিন্ন নাম দেয়া হলো) এবং আরো ১০ জন দুই বছর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে আসেন। তারা ইংরেজিও বলতে পারতেন না এবং তাদের বলে দেয়া হলো, তারা অবৈধ হওয়ায় তাদের কোনো অধিকারও নেই। বেশির ভাগেরই বয়স ২০-এর কম, কয়েকজন ১৩ বছরের শিশু। তারা এমন সব প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসেছে, যেখানে ৮০ ভাগ মানুষই দরিদ্র। ভাগ্যবানেরা কলা ফ্যাক্টরিতে কাজ করে সপ্তাহে তিন ডলার করে পান। তাই গ্লাডিস ভাসকুজ নামে দয়াবতী এক বয়স্ক নারী যখন তাদের আমেরিকায় গিয়ে আয়া, নার্সের মতো ভালো চাকরির সুযোগের কথা বলল, এসব তরুণী ও বালিকা তখনই রাজি হয়ে গেল।
কোরমিয়ার বললেন, ‘কিন্তু তারা এখানে পৌঁছার পর বুঝতে পারল, তারা ফাঁদে আটকে গেছে।’

তারা তাদের গ্রাম থেকে দুই হাজার ২০০ মাইল দূরের লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছে দুই সপ্তাহ ধরে অভুক্ত, তাপদগ্ধ আর প্রায় দম বন্ধ করা অগ্নিপরীক্ষা দিতে দিতে। সীমান্ত অতিক্রমের সময় ধরা পড়া থেকে রক্ষা পেতে এসব নারী ও বালিকাকে গাড়ির ট্রাংকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। গ্লাডিস লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে একটা পার্কিং লটে নবাগতদের সাথে দেখা করেন। তারপর তাদের বিভিন্ন জীর্ণ অ্যাপার্টমেন্টে সরিয়ে নেন। তখন তিনি বোমাটি ফাটালেন। এই মুহূর্তে কোনো আয়া বা নার্সিংয়ের চাকরি নেই। তাদেরকে অবৈধভাবে পাচার করে আনতে যে খরচ হয়েছে (প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ করে মাথাপিছু খরচ বলা হলো ১০ হাজার ডলার) তা পরিশোধ করতে তাদের পতিতাবৃত্তির কাজ শুরু করতে হবে। তাদের জানিয়ে দেয়া হলো, তারা যদি পুলিশের কাছে যায় কিংবা পালাতে চেষ্টা করে তবে ফেরত পাঠানো হবে। আর গুয়েতেমালায় যাওয়ার পর তাদেরকে অনুসরণ করে তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদেরসহ হত্যা করা হবে। রোসা পরে কোরমিয়ারকে জানিয়েছেন, ‘আমরা এতে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম। আমরা বুঝলাম, তারা যা করতে বলে, আমাদের তা-ই করতে হবে।’

তারপর তারা লস অ্যাঞ্জেলেসের মানুষের স্রোতে মিশে গেলেন। চারটি সাধারণ ভবনে তাদের লুকিয়ে রাখা হলো। প্রত্যেক নারীকে দিনে ২০ জন পর্যন্ত পুরুষের সাথে মিলতে হতো, পুরুষেরা তাদেরকে ১০০ ডলার পর্যন্ত দিত। আধা মাইল দূরে কঠোর পাহারায় একটা বাংলোয় শিশুদের দিনের বেলায় পুরুষদের কাছে বিক্রি করা হতো আর রাতে বেডরুমে আটকে রাখা হতো। তবে কোনো কোনো রাতে যেসব লোক তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করত, এসব শিশুকে তাদের কাছে দেয়া হতো। কোরমিয়ার জানান, ‘তারা ছিল পাশবিক অত্যাচারের শিকার। তাদের পেটানো হতো, দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হতো, পরের দিন তারা বিধ্বস্ত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরত।’

লিডিয়া জানান, ‘আমরা প্রতিদিন কাজ করতাম, এমনকি অসুস্থ হলেও।’ এই নারীটি একজনের সাথে অরক্ষিতভাবে সেক্স করার নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি জানান, ‘আমরা যে কত বিপদে ছিলাম, কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।’ ইয়াসমিন জানান, সেক্সের সময় তিনি মাথা ঠাণ্ডা রাখতেন এই ভেবে যে, ‘আমি আমার ভাই আর বোনদের কথা চিন্তা করতাম আর নিজেকে বলতাম, এটা করে আমি তাদের খুন হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারব।’

লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক মাস থাকার পরও তারা যখন দেখলেন তাদের পাচারজনিত ঋণের পরিমাণ না কমে আরো বেড়ে গেছে, তখন তারা মুষড়ে পড়লেন। খাবার, বাড়িভাড়া, পোশাক, ট্যাক্সি ভাড়া এমনকি কনডমের খরচ পর্যন্ত তারা আদায় করত। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ক্যাবচালক জোয়াকিন হার্তার আবির্ভাব ঘটল। তিনি এই মেয়েদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছেন। তাদের অবস্থা দেখে তার মন কেঁদে উঠেছিল। হার্তা জানান, তিনি কয়েকটা থানা আর কয়েকজন গোয়েন্দাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কেউ তার কথায় কর্ণপাত করেনি। অবশেষে তিনি ভিন্ন পথ ধরলেন। তিনি স্পেনিশ টিভি স্টেশন ইউনিভিশনের এক সাংবাদিকের সাথে যোগাযোগ করলেন। ওই সাংবাদিক বিভিন্ন মাধ্যমে কোরমিয়ারের দলের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় ৭৫ জন সৈন্য নিয়ে অভিযান শুরু হলো। হার্তার দেখানো পাঁচটি অবস্থানে হানা দেয়া হলো। ভয়াবহ একটা অধ্যায় উন্মোচিত হলো। কোরমিয়ার বললেন, ‘আমার প্রথম ভাবনা ছিল, কিভাবে এসব লোক এত নির্দয় হতে পারে তাদের নিজেদের দেশের লোকদের ওপর? একজন নারী কিভাবে অন্য নারীর ওপর এত নির্মম হতে পারে?’

তবে এসব নৃশংস লোককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কিংবা তাদেরকে শাস্তি দেয়া সহজ ছিল না। ওই সব মেয়ের বয়সসহ বিভিন্ন প্রমাণপত্র সংগ্রহের জন্য কোরমিয়ারকে গুয়েতেমালায় পর্যন্ত যেতে হয়েছে। আমেরিকায়ও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন প্রমাণ জোগাড় করতে হয়েছে। অবশেষে তাদের অপরাধের মাত্রা সম্পর্কে বিচারকদের বোঝানো গেছে। প্রধান পাঁচ পাচারকারীকে ৩০ থেকে ৩৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর গ্লাডিসকে দেয়া হয় ৪০ বছর।

এখন রোসা, লিডিয়া আর ক্যাথি নতুন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কজনক অতীত ভুলে তারা এখন ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ, কাপড়ের কারখানা আর ড্রেস শপে কাজ করে। ইংলিশ কাসেও গেছে। রোসা তার পিতা আর নতুন সন্তান নিয়ে বসবাস করে। ইয়াসমিন দু’বার বয়ফ্রেন্ড বদলিয়েছে। যে ১৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিচারকাজে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে আমেরিকার নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে।-
আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ঢাকা
ডাক্তার হাসান; ডি. এইচ. এম. এস(BHMC)
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- +88 01727-382671 এবং +88 01922-437435
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
[X]