সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রমজানে তারাবীর নামাজ ৮ রাকাত না ২০ রাকাত পড়বেন ?

তারাবির নামাজ কত রাকাত, আমরা জানতে চাই - তারাবির নামাজ কয় রাকাত আদায় করতে হয়। কিছু মানুষ তারাবি নামাজ ৮ রাকাত না ২০ রাকাত এ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামের সূচনা কালেও তারাবিহর নামাজ বিশ রাকাত আদায় করা হত। সাহাবা ও তাবেয়ীনগণের যুগে এবং ইসলামের স্বনামধন্য ইমামগণ যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ (রহ.) সবাই বিশ রাকাত তারাবিহর পক্ষে ছিলেন। (আল মুদাওওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম মালেক ১/১৯৩)। বর্তমানে পবিত্র মক্কা-মদিনাসহ মুসলিম বিশ্বের প্রায় জায়গায় ২০ রাকাত পড়া হয়ে থাকে।

২০ রাকাত তারাবিহর কিছু প্রমাণ:-
এ বিষয়ে ইমাম ইবনে আবী শাইবা (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ মুসান্নাফে লিখেন- হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবিহ ও বিতর পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৩৯৪, ৭৭৭৪)।

হাদিসটি অবশ্য দুর্বল সনদে বর্ণিত হলেও হাদিস শাস্ত্রের নীতিমালায় সহিহ হাদিস বা মুতাওয়াতির হাদিসের মতো বিশুদ্ধ বা প্রমাণযোগ্য। তাই এটি নির্দ্বিধায় আমলযোগ্য।
একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস কখনো দুর্বল হতে পারে না। তিনি যেমন মহান, তাঁর বাণীও তেমনি মহান। তবে হাদিসের বর্ণনাকারীদের প্রতি লক্ষ করে হাদিসকে দুর্বল বা বিশুদ্ধ আখ্যায়িত করা হয়। এ মর্মে হাদিসের বর্ণনাকারীর মধ্যে যেমন দুর্বলতা লক্ষ করা যাবে, হাদিসটি তেমনই দুর্বল বলে বিবেচিত হবে এবং হাদিসটি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে কি না, এমন সংশয়ের সৃষ্টি করবে। তবে যদি বর্ণনাকারীর দুর্বলতা ও সংশয় চলে যাওয়ার মতো কোনো কারণ ওই হাদিসের সনদে বা বর্ণনায় পরিলক্ষিত হয়, তখন হাদিসটি গ্রহণযোগ্যতা পায়। (দেখুন আন-নুকাত আলা মুকাদ্দামাতে ইবনে ছালাহ/আসকালানী ১/৪৯৪)

এখানে এ হাদিসটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কারণ এ হাদিসটি সনদের বিবেচনায় দুর্বল। এতে আবু শাইবা নামের এক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। কিন্তু এ হাদিসের বক্তব্যের সমর্থনে অনেক শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ কারণ রয়েছে। রয়েছে খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, মুজতাহিদ ইমামগণ ও মক্কা-মদিনাসহ মুসলিম উন্মাহর আমল ও তাঁদের ইজমা বা ঐকমত্য। আর উসুলে হাদিসের পরিভাষায় এ ধরনের দুর্বল হাদিসকে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও গৃহীত ও অনুসৃত বলা হয়।

এ বিষয়ে হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) লিখেন, যে হাদিস অনুযায়ী আমল করা উম্মতের কাছে গৃহীত হয়েছে এবং যে বিষয় অনুযায়ী আমল করার প্রতি উম্মতের ঐক্য (ইজমা) চলে আসছে, নিঃসন্দেহে তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কারণ ও বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হাদিস অপেক্ষাও শক্তিশালী। (আন-নুকাত আলা কিতাবি ইবনে ছালাহ/আসকালানী ১/৪৯৪)

সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ ২০ রাকাত তারাবিহ পড়তেন :-
সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর অনুসৃত আদর্শ এবং তাঁদের উক্তি ও আমল ইলমে হাদিসের কিছু নিয়ম-নীতি ও শর্তসাপেক্ষে জমহুর উম্মত ও চার মাজহাবের ইমাম মুজতাহিদগণের কাছে অনুসরণীয় তথা শরিয়তের যাবতীয় ক্ষেত্রে প্রমাণযোগ্য। তাই সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের সংস্পর্শে ধন্য তাবেয়ীগণের আমল ও উক্তিসংবলিত বিশাল ভাণ্ডার থেকে নিম্নে কিঞ্চিত প্রদত্ত হলো-

হজরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে তারাবিহ:- রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় তারাবিহ যেভাবে পড়া হতো প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)-এর যুগেও সেভাবেই পড়া হতো। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ করে এতে কোনো পরিবর্তন বা সবাইকে এক ইমামের পেছনে জামাতবদ্ধ করার প্রয়োজন মনে করেননি।

হজরত উমর (রা.)-এর যুগে তারাবিহ:- দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকে চলে আসা ২০ রাকাত তারাবিহকে গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করেন এবং সবাইকে জামাতবদ্ধভাবে ইমামের পেছনে আদায় করার সুযোগ করে দেন।

এ ব্যাপারে সাহাবি হজরত সায়েব বিন ইয়াজিদ (রা.) বর্ণনা করেন, তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ) হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর যুগে ২০ রাকাত পড়তেন। তিনি আরো বলেন, তারা নামাজে ১০০ আয়াত বিশিষ্ট সুরা পড়তেন এবং হজরত উসমান (রা.)-এর যুগে দীর্ঘ সময় নামাজের কারণে তাঁদের লাঠিতে ভর করে দাঁড়াতে হতো (আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি ২/৪৯৬ (সনদ সহিহ)। হজরত সায়েব বিন ইয়াজিদ (রা.) বলেন, আমরা উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর যুগে ২০ রাকাত এবং বিতর পড়তাম। (মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, বাইহাকি ২/৩০৫ (সনদ সহিহ)

তাবেয়ী রুফাই বিন মেহরান যিনি ‘আবুল আলীয়া’ নামে প্রসিদ্ধ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের মাত্র দুই বছর পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হজরত উমর (রা.)-এর পেছনে তিনি নামাজ পড়েন। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ উস্তাদ সাহাবি হজরত উবাই বিন কা’ব (রা.)-এর ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, হজরত উমর (রা.) হজরত উবাই (রা.)-কে রমজানে লোকদের নিয়ে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, লোকজন দিনভর রোজা রাখে, কিন্তু তারা সুন্দরভাবে কোরআন পড়তে পারে না, তাই আপনি যদি রাতে তাদের নামাজে কোরআন পড়ে শোনাতেন! তখন তিনি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! জামাতবদ্ধভাবে কোরআন শোনানোর এ পদ্ধতি তো আগে ছিল না। তিনি বললেন, আমি জানি, তবে তা খুবই উত্তম। এরপর সাহাবি হজরত উবাই (রা.) লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত পড়লেন। (আল মুখতারাহ জিয়াউদ্দীন মাকদিসী ৩/৩৬৭,১১৬১)

অবশেষে উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আকাঙ্ক্ষাকেই বাস্তবায়ন করেছেন, যা তিনি (বিধানটি ফরজ হয়ে যাবে এ ভয়ে) করেননি। হাদিসটির সনদ সহিহ। বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়নি এমন বিশুদ্ধ হাদিসের ভাণ্ডার ইমাম জিয়াউদ্দীন মাকদিসীর কিতাব “আল মুখতারাহ”-এ উল্লেখ করেছেন। ওই কিতাবের গবেষক আরব দেশের প্রখ্যাত ব্যক্তি আবদুল মালিক এ হাদিসটির সনদকে হাসান (উত্তম ও গ্রহণযোগ্য) বলেছেন।

তাবেয়ী হজরত ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আনসারী (রহ.)-এর বর্ণনা করেন, হজরত উমর (রা.) এক ব্যক্তিকে লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত পড়ার আদেশ করেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৩৯৩, ৭৭৬৪)
উল্লেখ্য, উপরোক্ত বিষয়ে আরো অগণিত বর্ণনা রয়েছে। এ জন্যই বিশ্ববরেণ্য গবেষক আল্লামা জাহেদ আল কাউসারী (রহ.) লিখেছেন, কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার একটি কারণ হলো এ বিষয়ে সাহাবি, তাবেয়ীগণের আসার (আমল-উক্তি) বেশি হওয়া। (ফিকহু আহলিল ইরাক, ১/৪৯) বলাবাহুল্য, ২০ রাকাত তারাবিহর পদ্ধতিকে প্রাধান্য দেওয়ার একটি কারণ এটাও যে এর পক্ষে তাবেয়ীগণের অনেক আসার (আমল-উক্তি) আছে। যেগুলোর তুলনায় ৮ রাকাতের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোনো আসার নেই বললেই চলে।

মূলত এ ধরনের বর্ণনা একাধিক হওয়ায় এবং এর সমর্থনে বিশুদ্ধ হাদিস ও মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত আমলধারা বিদ্যমান থাকায় বর্ণনাগুলো সহিহ বা সর্বাপেক্ষা সহিহ হাদিসের পর্যায়ে গৃহীত। এতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কোনো অবকাশ নেই। তাই তো আহলে হাদিসের মান্যবর ইমাম শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.)ও নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করেছেন, অবশ্যই প্রমাণিত হয়েছে, উবাই ইবনে কা’ব (রা.) রমজানে লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত তারাবিহ পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (মাজমাউল ফাতাওয়া ২৩/১১২-১১৩)

হজরত উসমান (রা.)-এর যুগে তারাবিহ:- তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.)-এর যুগেও তারাবিহর নামাজ এশার জামাতের পর ২০ রাকাত জামাতবদ্ধভাবে পড়া হতো। হজরত সায়েব (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত উমর (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালের অবস্থা বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে উসমান (রা.)-এর যুগের পরিস্থিতিও প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ আছে, যা আমরা আগেই লক্ষ করেছি।

হজরত আলী (রা.)-এর যুগে তারাবিহ:- ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.)-এর যুগেও তারাবিহর নামাজ ২০ রাকাত আদায় করা হতো। তিনি ইমামদের ২০ রাকাত পড়ার আদেশ দিয়েছিলেন। তাবেয়ী আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী আলী (রা.)-এর ব্যাপারে বলেন, হজরত আলী (রা.) রমজান মাসে কারীগণকে ডাকলেন এবং আদেশ দিলেন তাঁরা যেন লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত তারাবিহ পড়ান। আর বিতর পড়াতেন আলী (রা.) নিজেই। (আস-সুনানুল কুবরা বাইহাকি ২/৪৯৬/৪৬২০ (বর্ণনাটি হাসান, গ্রহণযোগ্য)

অন্য এক বর্ণনায় তাবেয়ী আবুল হাসান (রহ.) বলেন, হজরত আলী (রা.) জনৈক ব্যক্তিকে রমজানে লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত তারাবিহ পড়ার নির্দেশ দেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৩৯৩, ৭৭৬৩)

এ ছাড়া হজরত আলী (রা.)-এর বিশিষ্ট শাগরিদ শুতাইর ইবনে শাকাল, আবদুর রহমান ইবনে আবু বাকরা, সাঈদ ইবনে আবুল হাসান, আলী ইবনে বারীয়া প্রমুখ ২০ রাকাত তারাবিহ পড়তেন ও পড়াতেন। (সুনানে বাইহাকি ২/৪৯৮, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৩৯৩, কিয়ামুল লাইল, পৃ. ৯০)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর তারাবিহ :-রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সার্বক্ষণিক সহচর প্রিয় সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর আমল সম্পর্কে ইমাম মারওয়াজি (রহ.) বর্ণনা করেন, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ২০ রাকাত তারাবিহ এবং ৩ রাকাত বিতর পড়তেন। (কিয়ামুল লাইল মারওয়াজি, পৃ. ৯০)

ইজমায়ে উম্মতের আলোকে তারাবিহ :- ২০ রাকাত তারাবিহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময় থেকে যুগ যুগ ধরে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। বিশেষ করে হজরত উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে তারাবিহর নামাজ জামাতবদ্ধভাবে পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করার ফলে পবিত্র মক্কা-মদিনাসহ আরব-আজম তথা তামাম পৃথিবীতে মুসলমানদের কাছে এ বিষয়টা ব্যাপক ও সুস্পষ্ট হয়ে যায়। কয়েকটি অনির্ভরযোগ্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সর্বত্রই মুসলমানরা ২০ রাকাত তারাবিহ পড়তে থাকে। বরং এতে সব মুহাজির ও আনসার সাহাবি এবং মুসলিম উম্মাহর ইজমা-ঐকমত্য সংঘটিত হয়। যার বিপরীতে খোলাফায়ে রাশেদীন এবং অন্য সাহাবিদের কোনো ধরনের আপত্তি কোনো কিতাবে উল্লেখ নেই।

১. এ ব্যাপারে বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম আতা বিন আবী রবাহ (রহ.) বলেন, আমি লোকদের (সাহাবি ও তাবেয়ীদের) পেয়েছি, তাঁরা বিতরসহ ২৩ রাকাত পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৩৯৩৯, ৭৬৮৮) বর্ণনাটি সহিহ, এতে একজন বর্ণনাকারীও দুর্বল নেই।

২. প্রখ্যাত ইমাম মোল্লা আলী কারী (রহ.) লিখেছেন, তারাবিহর নামাজ ২০ রাকাতের ওপর সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (সর্বম্মত ঐকমত্য) সংঘটিত হয়েছে। (মিরকাত শরহে মিশকাত ৩/৩৪৬)

৩. বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাকার ইমাম ক্বাসতালানী (রহ.) লিখেছেন, হজরত উমর (রা.)-এর যুগের অবস্থা প্রায় ইজমা বা সর্বসম্মত ঐকমত্য পর্যায়ে গণ্য। (ইরশাদুস-সারী শরহে বুখারি ৩/৪২৬)
৪. ইমাম ইবনে কুদামা হাম্বলী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল মুগনীতে লিখেন, হজরত উমর (রা.) যা করেছেন এবং যে বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের যুগে ইজমা-ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, তা অনুসরণের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য ও অনুসরণীয়। (আল মুগনী ১/১৬৭)

৫. ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) লিখেন, অসংখ্য আলেম এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, এটি সুন্নাত। কেননা উবাই ইবনে কা’ব (রা.) মুহাজির ও আনসার সাহাবিগণের মধ্যে ২০ রাকাত পড়িয়েছেন। আর কোনো একজনও তাতে আপত্তি করেননি। (মাজমু’আতুল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৩/১১২-১১৩)

পবিত্র কাবায় তারাবিহ:- রাসুলুল্লাহ (সা.), সাহাবা এবং তাবেঈনের যুগ থেকে পবিত্র মক্কা শরিফে ২০ রাকাত তারাবিহ আজ পর্যন্ত নিয়মিত চলে আসছে। কোনো যুগেই এর কম বা বেশি পড়া হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ ইতিহাসের পাতায় নেই। এ ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিজি (রহ.) তাঁর নিজস্ব মতামত এবং ইমাম শাফেয়ী (রহ.)সহ অন্য ইমামদের মতামত উল্লেখ করে লিখেন, অধিকাংশ আলেম, তারাবিহ প্রসঙ্গে ২০ রাকাতের মতই পোষণ করেন, যা হজরত উমর (রা.), হজরত আলী (রা.) এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্য সাহাবিগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর তা ইমাম সুফিয়ান সাওরী ইবনুল মুবারক ইমাম শাফেয়ী (রহ,)-এর মত।
ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন, আমি পবিত্র মক্কাবাসীকে ২০ রাকাত তারাবিহর নামাজ পড়তে পেয়েছি। (তিরমিজি : ৩/১৭০)
মদিনা শরিফে তারাবিহ:- প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হজরত আব্দুল আযীয বিন রুফাই (রহ.) বর্ণনা করেন, হজরত উবাই বিন কা’ব (রা.) রমজান মাসে লোকদের নিয়ে মদিনায় ২০ রাকাত তারাবিহ এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৩৯৩, ৭৭৬৬) মোটকথা, ১৫০০ বছরের ইতিহাসে মদিনা শরিফে ২০ রাকাতের কম তারাবিহর নামাজ কেউ পড়েননি।
ভিডিও -এক
ভিডিও - দুই

ভিডিও - তিন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নিরাপদ থাকতে ফেসবুক থেকে মুছে দিন ৮ তথ্য!

বলতে গেলে এখন প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। অসচেতনতায় নিজেরাই অনিরাপদ করছি নিজেদের। সেক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৮টি তথ্য এখনই মুছে ফেলুন।
বর্সাতমানে মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষই সম্পৃক্ত। কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সদস্য। বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তব জগত এখন একাত্মা। বর্তমানে যে হারে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে নিরাপদ থাকাটা বেশ কঠিন। এসব ঘটনাকে আরো বেশি প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।
১. আপনার জন্ম তারিখ: অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্মতারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুন…

যেভাবে এলো বাঙালির বংশ পদবী! জেনে রাখুন বিসিএস সহ যেকোন চাকরি পরীক্ষায় কাজে আসবে

খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়। অধিকাংশ ব্যক্তি নামের শেষে একটি পদবী নামক পুচ্ছ যুক্ত হয়ে আছে। যেমন উপাধি, উপনাম কিংবা বংশসূচক নামকে সাধারণ ভাবে পদবী বলা হয়।
বাঙালির জমি- জমা বিষয় সংক্রান্ত কিছু পদবী যেমন- হালদার, মজুমদার, তালুকদার, পোদ্দার, সরদার, প্রামাণিক, হাজরা, হাজারী, মন্ডল, মোড়ল, মল্লিক, সরকার, বিশ্বাস ইত্যাদি বংশ পদবীর রয়েছে হিন্দু -মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের একান্ত রূপ। বাঙালি মুসলমানের শিক্ষক পেশার পদবী হলো-খন্দকার, আকন্দ, নিয়াজী ইত্যাদি। আর বাঙালি হিন্দুর শিক্ষক পদবী হচ্ছে দ্বিবেদী, ত্রিবেদী, চর্তুবেদী ইত্যাদি।

এবার আপনাদের জানাবো বাঙালির কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর ইতিহাস। যেমন-শিকদার, সৈয়দ, শেখ, মীর, মিঞা, মোল্লা, দাস, খন্দকার, আকন্দ, চৌধুরী, ভুইয়া, মজুমদার, তরফদার, তালুকদার, সরকার, মল্লিক, মন্ডল, পন্নী, ফকির, আনসারী, দত্ত ইত্যাদি।

শিকদারঃ সুলতানি আমলে কয়েকটি মহাল নিয়ে গঠিত ছিল এক একটি শিক। আরবি শিক হলো একটি খন্ড এলাকা বা বিভাগ। এর স…

আঁচিল ঝরান প্রাকৃতিক উপায়ে

আঁচিলের কারণে অনেক সময় সৌন্দর্যে ভাটা পড়ে। শরীরের নানা স্থানে আঁচিল হতে দেখা যায়।এটি সাধারণত কালো, বাদামী, লাল, গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। একেক জনের ক্ষেত্রে এর আকার, আকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়। এটি অনেক সময় এমনিতেই সেরে যায়। অনেক সময় রয়ে যায় স্থায়ী দাগ হয়ে। আঁচিল দূর করা যায় দুই ভাবে। সার্জিক্যালি এবং প্রাকৃতিক উপায়ে। আঁচিল সমস্যা সমাধানে কয়েকটি নিরাপদ ঘরোয়া উপায় জেনে রাখা ভালো। নিজের এবং অন্যের প্রয়োজনে যেকোনো সময় কাজে দিতে পারে।
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খুবই পরিচিত একটি নাম। দিনে দু’বার আঁচিলের ওপর তুলোয় করে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চোখের পাতায় যদি লাগান খেয়াল রাখুন যাতে ভেতরে না যায়। নিয়মটি অনুসরণ করুন ২-৪ সপ্তাহ। আঁচিল ঝরে পড়বে।
ক্যাস্টর ওয়েল এবং বেকিং সোডা একসাথে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে আঁচিলের ওপর ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। শুকালে ধুয়ে নিন। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে রাতে লাগিয়ে রেখে সকালে ধুয়ে নেবেন। দ্রুত আঁচিল করার জন্য টি ট্রি ওয়েল অত্যন্ত কার্যকরী। সুপার শপ বা শপিং মলে এই তেল পাওয়া যায়। ভেজা তুলায় ক’ফোঁটা টি ট্রি ওয়েল নিয়ে আঁচিলের ওপর মিনিট দশেক লাগ…