সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাংলাদেশের জঙ্গী হামলার ঘটনায় অবশেষে ভারতে বন্ধ হলো পিচ টিভির সম্প্রচার !

”গুলশান হামলায় অংশগ্রহনকারী নিহত দুই শীর্ষ জঙ্গী ভারতের ইসলামী নেতা ড. জাকির নায়েককে অনুসরন করতেন” এমন শিরোনামে বাংলাদেশের একটি শীর্ষ ইংরেজি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসেছে ভারত। গত কদিন ধরে চলে আসা নানা আলোচনার পর ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও পিস টিভির প্রতিষ্ঠাতা জাকির নায়েককে গ্রেফতারের দাবি তুলেছিলো ভারতের উত্তর প্রদেশের মুসলমান নেতারা।

তাদের দাবীর সাথে একাত্মতা রেখেই খুব দ্রুত নেয়া সরকারী সিদ্ধান্তে অবশেষে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে পিস টিভির সম্প্রচার ।

অবশেষে নানা জল্পনা কল্পনার পর ডা. জাকির নায়েকের পিচ টিভির সম্প্রচার বন্ধে কেবল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ দিয়েছে। পিচ টিভি জাকির নায়েক পরিচালিত মুম্বাইভিত্তিক ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিষ্ঠান।
ভারতের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, ” মুম্বাই ভিত্তিক চ্যানেল হলেও পিচ টিভির সম্প্রচার হত দুবাই থেকে। ভারতে এই চ্যানেল ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে দেখতো দর্শকেরা । ভারতে এই টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারনে” ।

তবে এনডিটিভ ও ভারতের অন্যান্য পত্রিকাগুলো জানাচ্ছে,”বাংলাদেশে পরপর দুবার জঙ্গী হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধেই ভারতে পিিচ টিভির সম্প্রচার নিসিদ্ধ করা হয়েছে ‘পিচ টিভি চালু রাখার স্বপক্ষেও ছিলো আন্দোলন

এর আগে বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর জানা যায়, হামলাকারীদের কয়েকজন জাকির নায়েকের ভক্ত ছিলেন। তার অনুষ্ঠান নিয়মিত দেখতেন তারা। এরপরই জাকির নায়েক ও পিচ টিভির বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।

জঙ্গিবাদে উৎসাহ যোগানের অভিযোগ নিয়ে এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। মুম্বাইয়ে তার অফিস ঘিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতে পিচ টিভির সম্প্রচারের লাইসেন্স নেই। কিছুসংখ্যক কেবল অপারেটর অবৈধভাবে দুবাই থেকে আপলিঙ্ক করা এই চ্যানেলটির ডাউনলোড লিঙ্ক ব্যবহার করে ভারতে সম্প্রচার করত।

শুক্রবার ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা দপ্তর ও জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তারা যোগ দেন। তারা ভারতে লাইসেন্সবিহীন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচারের বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পিচ টিভিসহ লাইসেন্সবিহীন চ্যানেলগুলো যেসব কেবল অপারেটর সম্প্রচার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গোয়েন্দা ব্যুরো ও এনআইএকে পিচ টিভিতে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি জাকির নায়েকের বক্তব্য শুনেছি এবং পিচ টিভির অনুষ্ঠানও দেখেছি। আজ আমি আমার কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুসন্ধান করেছি। এটা আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়।’

প্রসঙ্গত, দ্যা ডেইলি স্টারের একটি খবরে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে ঢাকায় গুলশানের হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত একজন, রোহান ইমতিয়াজ (আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ) ফেসবুকে জাকির নাইককে ‘ফলো’ করত এবং তার কিছু পোস্ট সে নিজের ওয়ালে শেয়ারও করেছিল।

এই পটভূমিতে গুলশানের হামলাকারীরা তার বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিল কি না সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এদিন নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৪ জুলাই বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ও পরবর্তিতে ৫ জুলাই ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় হামলাকারী দুই নিহত জঙ্গীর ড. জাকির নায়েককে অনুসরনের খবর বেরুলে এ প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান ড. জাকির নায়েক ।

বর্তমানে উমরাহ করতে সৌদি আরবে রয়েছেন জাকির নায়েক। তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ এ অভিযোগ ওঠার পর মক্কা নগরী থেকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামিক স্টেটকে অনৈসলামিক বা ‘ইসলামবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামের নাম ব্যবহার করে আমরা ইসলামের নিন্দা করছি… ইরাক সিরিয়ার ইসলামিক স্টেট ইসলামবিরোধী, যারা নিরপরাধ বিদেশিকে হত্যা করছে। ইসলামের দুশমনরা এ নাম (আইএস) দিয়েছে।’

উল্লেখ্য, জাকির নায়েকের বক্তব্যের কারণে তার প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য ও কানাডায় নিষিদ্ধ হয়। এমনকি মালয়েশিয়াতেও জাকির নায়েকের বক্তব্য প্রচারের অনুমতি নেই।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নিরাপদ থাকতে ফেসবুক থেকে মুছে দিন ৮ তথ্য!

বলতে গেলে এখন প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। অসচেতনতায় নিজেরাই অনিরাপদ করছি নিজেদের। সেক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৮টি তথ্য এখনই মুছে ফেলুন।
বর্সাতমানে মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষই সম্পৃক্ত। কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সদস্য। বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তব জগত এখন একাত্মা। বর্তমানে যে হারে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে নিরাপদ থাকাটা বেশ কঠিন। এসব ঘটনাকে আরো বেশি প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।
১. আপনার জন্ম তারিখ: অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্মতারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুন…

যেভাবে এলো বাঙালির বংশ পদবী! জেনে রাখুন বিসিএস সহ যেকোন চাকরি পরীক্ষায় কাজে আসবে

খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়। অধিকাংশ ব্যক্তি নামের শেষে একটি পদবী নামক পুচ্ছ যুক্ত হয়ে আছে। যেমন উপাধি, উপনাম কিংবা বংশসূচক নামকে সাধারণ ভাবে পদবী বলা হয়।
বাঙালির জমি- জমা বিষয় সংক্রান্ত কিছু পদবী যেমন- হালদার, মজুমদার, তালুকদার, পোদ্দার, সরদার, প্রামাণিক, হাজরা, হাজারী, মন্ডল, মোড়ল, মল্লিক, সরকার, বিশ্বাস ইত্যাদি বংশ পদবীর রয়েছে হিন্দু -মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের একান্ত রূপ। বাঙালি মুসলমানের শিক্ষক পেশার পদবী হলো-খন্দকার, আকন্দ, নিয়াজী ইত্যাদি। আর বাঙালি হিন্দুর শিক্ষক পদবী হচ্ছে দ্বিবেদী, ত্রিবেদী, চর্তুবেদী ইত্যাদি।

এবার আপনাদের জানাবো বাঙালির কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর ইতিহাস। যেমন-শিকদার, সৈয়দ, শেখ, মীর, মিঞা, মোল্লা, দাস, খন্দকার, আকন্দ, চৌধুরী, ভুইয়া, মজুমদার, তরফদার, তালুকদার, সরকার, মল্লিক, মন্ডল, পন্নী, ফকির, আনসারী, দত্ত ইত্যাদি।

শিকদারঃ সুলতানি আমলে কয়েকটি মহাল নিয়ে গঠিত ছিল এক একটি শিক। আরবি শিক হলো একটি খন্ড এলাকা বা বিভাগ। এর স…

আঁচিল ঝরান প্রাকৃতিক উপায়ে

আঁচিলের কারণে অনেক সময় সৌন্দর্যে ভাটা পড়ে। শরীরের নানা স্থানে আঁচিল হতে দেখা যায়।এটি সাধারণত কালো, বাদামী, লাল, গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। একেক জনের ক্ষেত্রে এর আকার, আকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়। এটি অনেক সময় এমনিতেই সেরে যায়। অনেক সময় রয়ে যায় স্থায়ী দাগ হয়ে। আঁচিল দূর করা যায় দুই ভাবে। সার্জিক্যালি এবং প্রাকৃতিক উপায়ে। আঁচিল সমস্যা সমাধানে কয়েকটি নিরাপদ ঘরোয়া উপায় জেনে রাখা ভালো। নিজের এবং অন্যের প্রয়োজনে যেকোনো সময় কাজে দিতে পারে।
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খুবই পরিচিত একটি নাম। দিনে দু’বার আঁচিলের ওপর তুলোয় করে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চোখের পাতায় যদি লাগান খেয়াল রাখুন যাতে ভেতরে না যায়। নিয়মটি অনুসরণ করুন ২-৪ সপ্তাহ। আঁচিল ঝরে পড়বে।
ক্যাস্টর ওয়েল এবং বেকিং সোডা একসাথে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে আঁচিলের ওপর ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। শুকালে ধুয়ে নিন। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে রাতে লাগিয়ে রেখে সকালে ধুয়ে নেবেন। দ্রুত আঁচিল করার জন্য টি ট্রি ওয়েল অত্যন্ত কার্যকরী। সুপার শপ বা শপিং মলে এই তেল পাওয়া যায়। ভেজা তুলায় ক’ফোঁটা টি ট্রি ওয়েল নিয়ে আঁচিলের ওপর মিনিট দশেক লাগ…