সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এইচআইভি ভাইরাসকে মানব ডিএনএ থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হলেন বিজ্ঞানীরা!!

এইচআইভি ভাইরাস যদি একবার মনুষের দেহের কোন কোষে প্রবেশ করতে পারে তবে সেখানে চিরকাল থেকে যায়। এই ভাইরাসটি তার মারাত্মক জেনোম আক্রান্ত ব্যক্তির ডিএনএ তে স্থায়ীভাবে ঢোকায় এবং তাকে চিকিৎসকের দারস্থ হতে বাধ্য করে।

কিন্তু ফিলাডেলফিয়ার গবেষকরা প্রথমবারের মতো এইচাইভি ভাইরাসকে ছাঁটাই (snipping) পদ্ধতির মাধ্যমে মানব ডিএনএ থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার পথ বের করেছেন। টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষক দল বলেন, মানব কোষ থেকে সুপ্ত এইচআইভি-১ ভাইরাসটি বাদ দেয়ার প্রথম প্রয়াসটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং এই পদ্ধতিতে অন্যান্য সুপ্ত সংক্রামক থেকেও নিরাময় পাওয়া সম্ভব হবে।
টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামেল খলিলি বলেন, “এইডস থেকে চিরতরে আরোগ্য লাভে এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, “এটি অসাধারণ আবিষ্কার হলেও পদ্ধতিটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। আমার যে সঠিক পথেই এগুচ্ছি এটা তারই প্রমাণ বহন করছে।”

জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি প্রকাশিত একটি গবেষণায় ড. খলিলি এবং তাঁর সহযোগীরা বর্ণনা করেন কিভাবে ডিএনএ থেকে এইচআইভি-১ দূর করার জন্য আনবিক সরঞ্জাম তৈরি করেছেন।

যখন নিউক্লিয়েজ নামক ডিএনএ-ছাটাই এনজাইম এবং একটি গাইড আরএনএ (gRNA) সংমিশ্রন ছেড়ে দেয়া হয় তারা দুষিত জিনোমকে অনুসরণ করে এবং ডিএনএ থেকে এইচআইভি-১ অপসারণ করে। সেকান থেকে কোষের জিন মেরামতকারী যন্ত্রাপাতি লাগানো হয়। যা কোষকে ভাইরাস মুক্ত করার ফলে আলগা হওয়া জিনোমের প্রান্ত ঝালাই করে দেয়।

খলিলি ব্যাখ্যা করেন, “যেহেতু ইমিউন সিষ্টেম থেকে এইচআইভি-১ মুক্ত করা সম্ভব নয় তাই রোগটি নিরাময় করার জন্য ভাইরাসটি অপসারণ করার প্রয়োজন পড়ে।” এই আনবিক যন্ত্রগুলি থেরাপিউটিক টিকার মতোও কাজ করে। সশস্র কোষ এবং নিউক্লিস আরএনএ-র সংমিশ্রণকে এইচআইভি সংক্রমণ ভেদ করতে পারেনা।

বিশ্বব্যাপী ৩৩ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত যার মাঝে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত অন্তঃত ১ মিলিয়ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কন্দ্রের হিসেবে প্রতিবছর আরও ৫০ হাজার আমেরিকান এই ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়। এদিকে যুক্তরাজ্যে ২০১৩ তে ১লক্ষ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করেছে যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৬৫ জনে একজন।

যদিও উন্নত দেশগুলিতে গত ১৫ বছর পর্যন্ত সংক্রমিত মানুষদের Highly active antiretroviral therapy (Haart)পদ্ধতির মাধ্যমে এইচআইভি-১ নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। তবে চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে নতুন আক্রোশে ফিরে আসতে পারে।

খলিলি আরোও বলেন, “স্বল্পমাত্রার এইচআইভি-১ এর পুনরাবৃত্তি সাধারণত রোগীদেরকে বাধৃক্যগ্রস্ততার সাথে সাথে ভোগান্তিতে ফেলে।” আর এই সকল আক্রান্ত ব্যাক্তির ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গ্রহণকৃত বিভিন্ন বিষাক্ত ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলাফল হিসেবে হৃদপিন্ডের পেশী দুর্বল করা, হাড়ের রোগ, কিডনী বিকল করাসহ স্নায়বিক ভাসাম্যহীনতাজনিত সমস্যাগুলি প্রায়ই দেখা যায়।

এই সংক্রমণ রোধে গবেষকরা দ্বিস্তর ভিত্তিক এইচআইভি-১ সম্পাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করেছেন যা ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরক্ষার প্রক্রিয়া হিসেবে উন্নতি সাধন করা হয়েছে।

ড. খলিলির গবেষণাগারে এইচআইভি-১ ডিএনএ কে নিশানা করার জন্য gRNA এর নিওক্লিওটাইড প্রস্তুত করে তা ডিএনএ ছাটাইকারী এনজাইম যাকে Cas9 নামে ডাকা হয় তার সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে। এটি মূলত মানুষের জিনোমকে সম্পাদনার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ড. খলিলি বলেন, “ আমরা কিছু সংখ্যক কৌশল ব্যবহার করে কাজগুলি চালিয়ে যাচ্ছি যাতে আমরা চিকিৎসাক্ষেত্র পূর্ব গবেষণা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারি। আমরা রেগীর দেহ থেকে এইচআইভি-১ এর প্রত্যেকটা অংশ নির্মূল করতে চাই। তারা এইডস থেকে মুক্তি পাবে। আমি মনে করি এই প্রযক্তির মাধ্যমেই কাজটি আমরা সম্পাদন করতে পার।”

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পুরুষত্বহীনতা, অকাল বীর্যপাত ও লিঙ্গ উথান সমস্যা দূর করে সুস্থ যৌনজীবন দেয় জাফরান৷

জাফরানের ২০টি ঔষধি গুন বিশ্বের সবচেয়ে দামী মশলা জাফরান। স্যাফরন বা কেশর নামেও এটি পরিচিত৷ এই মশলা নামীদামী অনেক খাবারে ব্যবহৃত হয়। খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রঙ বাড়িয়ে তুলতে এই ‘গোল্ডেন স্পাইস’ এর জুড়ি নেই। তবে জাফরানের কাজ শুধু এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাফরানের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ ঔষধিগুণ। জাফরানে রয়েছে বিস্ময়কর রোগ নিরাময় ক্ষমতা৷মাত্র ১ চিমটে জাফরান আপনাকে প্রায় ২০ টি শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। ১. জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিতরোগ দূর করে।
২. হজমে সমস্যা এবং হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে জাফরান।
৩. জাফরানের পটাশিয়াম আমাদের দেহে নতুন কোষ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কোষ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
৪. জাফরানের নানা উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে সহায়তা করে, এতে করে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷
৫. মেয়েদের মাসিকের অস্বস্তিকর ব্যথা এবং মাসিক শুরুর আগের অস্বস্তি দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই।
৬. নিয়মিত জাফরান সেবনে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা ধরণের সমস্যা যেমন অ্যাজমা,পারটুসিস, কাশি এবং বসে যাওয়া কফ দূর করতে…

দ্রুত ওজন কমাতে চান? সকালের চায়ের কাপে মিশিয়ে নিন শুধু এই তিনটি ঘরোয়া জিনিস…

জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।

মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দ্রুত ওজনও কমাতে চান তাঁরা। কিন্তু জিমে গিয়ে কষ্টকর এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং পছন্দ নয় অনেকেরই। তাঁরা চান ওজন কমানোর কোনও সহজতর প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে। এরকম মানুষের জন্য রইল ওজন কমানোর এক অতি সহজ উপায়ের হদিশ।
আপনাকে যা করতে হবে তা হল, প্রথমেই এই তিনটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে হবে একটি

মিশ্রণ—১ চা চামচ দারুচিনি,১/২ কাপ কাঁচা মধু,৩/৪ কাপ নারকোল তেল। তারপর এক চা চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ মিশিয়ে নিন সকালের গরম চায়ের কাপে। এবার পান করুন সেই চা। ব্যস্, ওজন কমানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

অবিশ্বাস্য লাগছে? তাহলে জেনে রাখুন, ওজন কমানোর এই প্রাকৃতিক অভ্যাসে সায় রয়েছে ডাক্তারদেরও। দারুচিনি শরীরে শর্করা থেকে কর্মক্ষমতা সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে। কাঁচা মধু উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আর নারকেল তেল বাড়ায় শরীরের মেটাবলিজম। পরিণামে শরীরে মেদ ঝরে গিয়ে হ্রাস পায় ওজন।

কী ভা…

নিয়মিত ঘৃতকুমারী রস পানের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদের নাম। বহুগুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিকঅ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনএ, বি৬,বি২ ইত্যাদি। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরা জুস পান করে থাকেন। আপনি জানেন কি প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস পান করার উপকারিতা?

১। হার্ট সুস্থ রাখতে :- আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ :- অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে :- অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। ৪। ওজন হ্রাস করতে :- ওজন কমাতে অ…